একসময় স্বর্গের রাখা ইন্দ্র হাতি ঐরাবতের পিঠে চড়ে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দুর্বাসা মুনি ইন্দ্রদেবকে দেখে খুশি হলেন। মুনির গলায় ফুলের মালা ছিল। ইন্দ্রদেবকে দুর্বাসা মুনি একটি মালা দিলেন। দেবরাজ ইন্দ্র সেই মালাটি নিজের গলায় না পরে হাতির মাথায় রাখলেন। হাতি ঐরাবত মালাটির মর্ম না বুঝে সেটি মাটিতে ফেলে পা দিয়ে দলতে লাগল।
মহর্ষির প্রতি ইন্দ্র এইভাবে অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করলে মহর্ষি দুর্বাসা দুঃখিত হলেন। দুর্বাসা ইন্দ্রকে অভিশাপ দিলেন। “তুমি শ্রীঘ্রই শ্রীভ্রষ্ট হও।”
মহর্ষির চরণে অপরাধ করার পর ইন্দ্রের দুর্দশা শুরু হল। বড় বড় অসুরেরা স্বর্গরাজ্য আক্রমণ করল। তাদের সমস্ত ঐশ্বর্য্য অসুরেরা দখল করে নিল। দেবতারা দুঃখ দারিদ্র্যে ভুগতে লাগল। দেবরাজ ইন্দ্রের সমস্ত গর্ব ধুলিস্যাৎ হল।
। হিতোপদেশ।
জড়জগতে কখনও অত্যন্ত ঐশ্বর্যশালী হওয়া খুবই বিপজ্জনক। খুব ঐশ্বর্যশালী হলে লোকে অত্যন্ত গর্বিত ও উদ্ধত স্বভাবের হয়। তখন তারা অন্য কাউকে মর্যাদা প্রদর্শণ করে না। তার ফলে তারা হয়তো মহান ঋষি প্রমুখ মহাপুরুষদের চরণে বা ভক্তের চরণে অপরাধ করে। সেই অপরাধই তার অধঃপতনের কারণ হয়। তাই ভগবানের কৃপায় ঐশ্বর্য্যশালী হলেও কখনও উদ্ধত হতে নাই।