শ্রীচৈতন্যদেব তখন বৃন্দাবনে অবস্থান করছিলেন। বহু লোক তাঁর কাছে এসে বলতে লাগল, “কালীয় দহে কালীয় নাগের মাথায় মণি জ্বলছে, আর তার উপরে কৃষ্ণ নাচছে। এই অদ্ভুত ঘটনা আমরা সাক্ষাৎ দেখে এলাম। এতে কোনও সন্দেহ নেই।” এইভাবে তিন দিন ধরে বহু লোক মহাপ্রভুর কাছে এসে বলতে লাগলেন। মহাপ্রভুর সেবক বলভদ্র ভট্টাচার্য ছিলেন সরল বুদ্ধি। তিনি কালীয় দহে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করবার ইচ্ছা করলেন। তখন তার গালে মহাপ্রভু এক চড় কষে দিয়ে বললেন, “তুমি গণগড্ডলিকার কথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ কেন? গণগড্ডালিকার কথার মোহে পড়ে অসত্যকে সত্য মনে করো না।” পরদিন সকালে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত হলে মহাপ্রভু তার কাছে শুনতে পেলেন, রাতের বেলায় নৌকাতে চড়ে জেলেরা কালীয় দহে মাছ ধরে। দূরে থেকে মূর্খরা তা দেখে নৌকাকে কালীয় নাগ ও তাদের আলোকে কালীয়ের মাথায় মণি বলে, আর জেলেকে কৃষ্ণ মনে করে ভুল করছে।
। হিতোপদেশ।
গণগড্ডালিকার দ্বারা কত কিছুই না ‘ধর্ম’ ও ‘সত্য’ বলে প্রচারিত হয়ে থাকে। কত কল্পিত অবতার, কত কল্পিত মহাপুরুষ ও মতবাদের প্রচার হয়ে লোককে বিপথগামী করেছে ও করছে তার ইয়ত্তা নেই। প্রকৃত সত্যপিপাসু ব্যক্তি এরূপ গণগড্ডালিকা থেকে সতর্ক থাকবেন।