একজন গেঁয়ো লোক শুনে কিছু ইংরেজী শিখেছেন। সে ইয়েস্ (yes), নো (No), ভেরিগুড্ (very Good), এই কয়টি শব্দই বিশেষভাবে মনে রেখেছিল। কিন্তু কোন অর্থে ও কোথায় এই তিনটি শব্দ ব্যবহার করতে হয়, তা সে জানবার চেষ্টা করেনি। তবু সে শুধু বুঝেছিল এই তিনটি শব্দ লোকের কাছে বলতে পারলেই ‘ইংরেজী নবীশ’ বলে সম্মান লাভ করা যায়।
একদিন কয়েকজন দুষ্টু লোক একটা বড় রকমের খুন খারাপি করে আত্মগোপন করবার জন্য ঐ গেঁয়ো লোকটিকেই বোকার মতো দেখে আসামী বলে ধরিয়ে দিল।
যখন ঐ লোকটিকে বিচারের জন্য সামনে আনা হল, তখন বিচারক মহাশয় লোকটিকে বাংলা ভাষাতেই জিজ্ঞেস করলেন- “তুমি কি খুন করেছ ?
গেঁয়ো লোকটা মনে করল, যদি সে হাকিমের কাছে দু-চারটা ইংরেজী ‘বুকনী’ বলতে পারে তাহলে হাকিম নিশ্চয়ই শ্বেতাঙ্গ সাহেবের অনুচর মনে করে তাকে যথেষ্ট সম্মান করবেন এবং এরকম মিথ্যা অভিযোগের দায় থেকে মুক্তি দেবেন।
এই চিন্তা করে সে বিচারকের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলল,- “ইয়েস্ (হ্যাঁ) বিচারক আবার জিজ্ঞাসা করলেন- “তোমার সঙ্গে আর কেউ ছিল কি?’ উত্তরে গেঁয়ো লোকটি তক্ষুনি বলল- “নো” (না)।
তখন হাকিম বললেন- “তা হলে তোমাকে জেলে যেতে হবে, তুমি তাতে প্রস্তুত আছ কি ?” গেঁয়ো লোকটি এবার ভাবল, – এবার তার শেষ অস্ত্রটি সে প্রয়োগ করে হাকিমের এই অন্যায় বিচারের প্রতিবাদ করবে। সে আদৌ খুন করেনি, সুতরাং কিছুতেই তার জেল হতে পারে না। সে খুব ভাল মানুষ এটা জানাবার জন্য হাকিমের প্রশ্নের উত্তরে বলল- “ভেরি গুড্” (আচ্ছা)।
। হিতোপদেশ।
ভক্তিরাজ্যের বহুলোক শুদ্ধ ভক্তগণের উপদেশ ও সিদ্ধান্তের মর্ম না বুঝেই কেবল তোতা পাখির মতো কত শাস্ত্র কথা উচ্চারণ করে এবং লোকের কাছে সম্মান লাভ করবার ইচ্ছা করে। কিন্তু পরিণামে তাহা সম্পূর্ণ বিফল হয়। সাধু সমাজে তারা কখনই আদরনীয় হয় না। গেঁয়ো লোকটির মতো পান্ডিত্য দেখাতে গেলে যে কোন সময় দন্ড ভোগ করতে হয়।