গ্রীষ্মকালে বিদেশী এক সাহেব ভারতবর্ষ পর্যটন করতে এসেছেন। মহানন্দের সহিত ভারতবর্ষ ভ্রমণ করে নিজের দেশে ফিরে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ভারতের খুব প্রশংসা করতে লাগলেন। তার অনেক প্রশংসা সমূহের মধ্যে ছিল ‘ইন্ডিয়ান ম্যাংগো’ র একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশংসা। ম্যাঙ্গো একটি আস্বাদনীয় ফল। ভারতীয় ম্যাঙ্গো অতি সুন্দর। সে ফল খেলে তার কথা আর ভোলা যায় না। তখন পরিবার বর্গ সকলেই বলে উঠলেন-“আমরা সকলেই যাব ও ইন্ডিয়ান ম্যাঙ্গো আস্বাদন করব।” সাহেব সহ তার পরিবারবর্গ হেমন্তকালে পুনরায় ভারতবর্ষে এলেন। কার্তিক মাসে তো আম পাওয়া যায় না। সাহেব অনেক বাজার ঘুরে আমের সন্ধান পেলেন না। তিনি দুঃখিত হয়ে নিজের বাসায় ফিরে আসেন। সকলেই আমের জন্য তাকে উদ্বেগ দিতে থাকলে সাহেব অত্যন্ত লজ্জিত ও অপমানিত হলেন। সাহেব মনে মনে চিন্তা করলেন আম পাওয়া না গেলেও ওদের আমের স্বাদ বুঝিয়ে দেব। পরের দিন কিছু তেঁতুল ও কিছু গুড় কিনে এনে বলতে লাগল- “দেখ, আমি তোমাদের আম খাওয়াতে পারলাম না। কারণ এই সময়ে আম পাওয়া যায় না। কিন্তু তোমরা আমের পরিবর্তে আমের আস্বাদনীয় রস গ্রহণ কর। এই বলে সাহেব নিজের দাড়িতে তেঁতুল ও গুড় ভাল করে মাখালেন। এবং সবাইকে বললেন-“তোমরা আমার দাড়ি চোষো।” এক এক করে সকলেই সাহেবের দাড়ি চোষা শুরু করলেন। সাহেব বললেন-“কেমন লাগছে?” সকলে বললেন- আঁশ আম ঐরকম। আঁশযুক্ত, টক টক মিষ্টি মিষ্টি ও একটি সুগন্ধযুক্ত ফল। সকলেরই আম খাওয়ার আগ্রহ মিটে গেল।
। হিতোপদেশ।
এই জগতে কিছু লোক আছে তারা আসল বস্তু চাপা দিয়ে নকল বস্তু প্রচার করে মানুষকে ধোকা দিয়ে, ধাপ্পা দিয়ে নিজেকে মহান বলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জগতে যাঁরা বুদ্ধিমান তারা এই রকম ঠকবাজীর পাল্লায় পড়ে বিপথগামী হন না। তারা সদ্গুরুর চরণ আশ্রয় করে মহাজনের অনুগত হয়ে অনুসরণ করে আসল বস্তু অর্থাৎ ভগবানকে জানতে পারে।