একবার দেবতা ও অসুরদের মধ্যে প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হল। সেই যুদ্ধে অসুরেরা পরাজিত হল। দেবতারা তখন গর্বে আপন শক্তি ও দক্ষতার বড়াই করতে লাগলেন। এরূপ তাদের অহমিকা দেখে ভগবান শ্রীহরি এক ব্রাহ্মণের বেশ ধরে তাদের কাছে এলেন। তাকে চিনতে না পেরে দেবতারা ব্রাহ্মণের পরিচয় জানতে অগ্নিদেবকে পাঠালেন। অগ্নিদবেকে দেখেই ব্রাহ্মণ বললেন- তুমি কে ? তোমার কি ক্ষমতা আছে? তিনি বললেন-“আমি অগ্নি, পৃথিবীর সব কিছু মুহূর্তের মধ্যে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারি।” ব্রাহ্মণরূপী ভগবান বললেন-“তবে এই শুকনো তৃণ-টিকে মুহূর্তের মধ্যে পুড়িয়ে ফেল দেখি।” অগ্নিদেব বহু চেষ্টা করেও পোড়ালে পারলেন না। তখন অগ্নিদেব ফিরে গিয়ে দেবতাদের বললেন- “ব্রাহ্মণের পরিচয় জানতে পারলাম না।” দেবতারা তখন পবনদেবকে পাঠালেন। পবনদেব এলে ভগবান বললেন,-“তোমার কি ক্ষমতা আছে?” বায়ু বললেন- “আমি এক নিমেষের মধ্যে পৃথিবীর সব জিনিস উড়িয়ে দিতে পারি।” ভগবান তখন বললেন-“তবে এই ঘাসটি উড়িয়ে দাও।” বহু চেষ্টা করে পবনদেব ঘাসটিকে এক চুলও নড়াতে পারলেন না। তিনি ফিরে গেলে স্বর্গরাজ ইন্দ্র এলেন। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন আকাশে আবির্ভূতা উমাদেবী বললেন-“তোমরা যাঁর শক্তিতে মহিমান্বিত হয়েছ তিনি তাঁর প্রদত্ত শক্তি প্রত্যাপহরণ করে নিলে তোমাদের কোন মূল্যই থাকে না, তিনিই সেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরি।”
। হিতোপদেশ।
আমাদের সমস্ত শক্তি সামর্থ ও বুদ্ধিমত্তা ভগবানের কাছ থেকে পাওয়া। সেই কথা ভগবদ্গীতায় ভগবানও স্বয়ং উল্লেখ করেছেন। সেই ক্ষমতা ভগবৎ তুষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাই বিধি। কিন্তু আমাদের আত্ম অহমিকা থাকলে সেই ক্ষমতাও ভগবান হরন করবেন।