সারা গাঁয়ে হরকান্ত চক্রবর্তীর নাম বিখ্যাত। অনেকে বলতে শুরু করেছেন, “চক্রবর্তী মশাই বড় পন্ডিত ও বড় ভক্ত। ভগবানকে নিবেদন না করে কোনও দ্রব্য গ্রহণ করেন না। -এইরূপ নাম যশ শুনে মনে মনে চক্রবর্তী মশাই খুবই গর্বিত হতেন।
একবার পৌষ সংক্রান্তির দিনে তিনি বাজার থেকে একটি ঠোঙায় করে কিছু খই এনেছিলেন। পথে যেতে যেতে খুব ঠান্ডা বাতাস লাগছিল। বাতাসের ঝাপটায় ঠোঙা থেকে সব খই উড়ে যেতে লাগল। কয়েকজন লোক ঐ পথে যাচ্ছিল। তারা দেখল চক্রবর্তী মশাইয়ের হাত থেকে খইগুলি রাস্তায়, পথের ফাটলে, ঘাসে ও জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ছে। লোকগুলিকে দেখা মাত্রই চক্রবর্তী মশাই চোখ বন্ধ করে বলে উঠলেন, “গোবিন্দায় নমঃ।” অর্থাৎ তিনি এমন ভাব দেখালেন যেন খইগুলিকে গোবিন্দের উদ্দেশ্যেই নিবেদন করছেন।
ঠিক সেই সময় তার ছোট ছেলে দৌড়ে এসে বলতে লাগল, “বাবা, তুমি কি এনেছ ? খই, খই কোথায় ? খই খাওয়ার জন্য মা বসে আছেন।” তখন এক রসিক লোক বালককে বলল, “আরে বাছা গোবিন্দকে না দিয়ে কেউ খই খায়?” চক্রবর্তী মশাই খুবই লজ্জিত হয়ে সেখান থেকে সরে পড়লেন।
। হিতোপদেশ।
খই নিজেদের ভোগের জন্যই কেনা হয়েছিল। গোবিন্দের উদ্দেশ্যে নয়। দৈবক্রমে নিজেদের ভোগে ব্যবহার করা অসম্ভব হচ্ছে দেখেই, ভগবানের উদ্দেশ্যে অর্পণ হল বলে ঘোষণা করাটা কপটতা মাত্র। যেমন, বিষয়ী ব্যক্তিরা তাদের ধন জন প্রভৃতিকে বহু চেষ্টা করেও রক্ষা করতে না পারলে, লোক শোনানোর জন্য তারা বলতে থাকে, ‘হে ভগবান! সবই তোমার, আমি তোমার, তুমি রাখলেও রাখতে পার, মারলেও মারতে পার।’ এই কথাগুলি কোনও ভক্তির লক্ষণ নয়। ‘উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ’ কথাটির মতোই তা কপটতারই পরিচায়ক। কপটতা থাকলে ভগবান কখনও কাহারাও সেবা গ্রহণ করেন না।