এক শৌখিন ও অতিশয় খামখেয়ালী জমিদার ছিলেন। একদিন অমাবস্যার রাতে গভীর অন্ধকারে তিনি বিরক্তিবোধ করছিলেন। মোসাহেবদের ডেকে বললেন-“তোমাদের বুদ্ধির জোরের এই আঁধার রাতে আমাকে সূর্য দেখাও। তারা বলতে লাগল “হুজুর, আপনার যখন ইচ্ছা হয়েছে, তা নিশ্চয়ই পূর্ণ হবে। পৃথিবীতে আমরা এমন আদর্শ রেখে যাব, যাতে ভবিষ্যতে সবাই আপনার যশ কীর্তন করতে পারে। তারপর একজন একটা প্রকান্ড লন্ঠন জ্বালিয়ে নিয়ে এল, বাঁশের ডোগায় বেঁধে, আকাশের দিকে তুলে ধরে বলতে লাগল, “হুজুর আপনি সূর্য দেখতে পাচ্ছেন কি ?” আর একজন মোসাহেব এসে বলল- “লন্ঠনের আলোতে সূর্যকে দেখা যাবে না বরং ঐরকম দশ কোটি লন্ঠন বাঁশের ডোগায় বেঁধে আকাশের দিকে তুলে ধরতে হবে, কিংবা বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা যাক।” অবশেষে জমিদার বাবুর ইচ্ছায় তার কয়েকজন বৈজ্ঞানিক বন্ধু একটা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক আলোকের ব্যবস্থা করলেন, কিন্তু সব প্রচেষ্টা বিফল হল। একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি জমিদারকে বললেন- “পৃথিবীর সমস্ত আলোক একত্র করেও কিছুতেই রাতের বেলায় সূর্যকে আপনি দেখতে পাবেন না। এতে অনর্থক কেবল শক্তি, অর্থ ও সময় নষ্ট হবে। যদি সূর্যকে দর্শন করতে চান, তবে সূর্য উদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর সূর্যের আলোতেই সূর্যকে দেখতে পাবেন। তাছাড়া অন্য কোন আলো দিয়ে সূর্যকে কখনও দেখা যাবে না।
। হিতোপদেশ।
মায়াবদ্ধ জীব জড় গবেষণার মাধ্যমে ভগবানকে দর্শণ করতে চায়। ভগবান ও তাঁর ভক্ত অপ্রাকৃত। তাঁদের দর্শন পেতে হলে তাঁদের কৃপা লাভ করতে হবে। আপন জড়বুদ্ধি ও জ্ঞানের অহমিকা নিয়ে শ্রীভগবানকে দর্শন করা যায় না। তাদের সব বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টা নিষ্ফল হয়। যদি ভগবানের করুনা শক্তির প্রকাশ শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে আশ্রয় গ্রহন করে নিরপরাধে হরিনাম গ্রহণ করতে পারি তাহলে শ্রীগুরুকৃপায় ভগবৎ দর্শন হবেই হবে।