অন্যে করছে, আমিও করছি

কয়েকজন ব্রাহ্মণ রোজ সকালে গঙ্গায় স্নান করতে যেতেন। স্নান সেরে গঙ্গার তীরে সন্ধা আহ্নিক করতেন। তর্পনের জন্য সকলেই সঙ্গে কোষা নিয়ে যেতেন। কোষা হল পূজার জন্য জল রাখার তামার পাত্র বিশেষ। কিন্তু রোজই সেই কোষা নিয়ে গোলমাল হত। একই রকমের কোষাগুলি একজনেরটা আরেকজনের সঙ্গে অদলবদল হত। নিজের কোষা কোনটা, কেউ সেই সম্বন্ধে নিশ্চিন্ত হতে পারতেন না।
একদিন একজন বয়স্ক ব্রাহ্মণ নিজের কোষাকে ভালকরে চিনে রাখবার জন্য তার উপরে একটি কাদামাটির গোল ডেলা রেখে স্নান করতে গেলেন। তা দেখে অন্য সকলেও সেই রকম করে মাটির ডেলা করে নিজ নিজ কোষার উপর রাখতে লাগলেন। কারণ তাঁরাও মনে করলেন- হয় তো এরকমভাবে মাটির ডেলা রাখাটাই কোন নিয়মবিধির মধ্যে পড়ছে। কিন্তু যখন সেই বয়স্ক ব্রাহ্মণটি স্নান সেরে উঠে এলেন, তখন দেখলেন-সবার কোষাতে একই রকম কাদামাটির গোল ডেলা হয়েছে। এখন নিজের কোষা কোনটা-তাঁর পক্ষে বুঝে ওঠা দায় হল।
সবাই যখন স্নান সেরে উঠে এসে দেখলেন, সব কোষাই একই রূপ, তখন আবার অদল-বদল শুরু হয়ে গেল। বয়স্ক ব্রাহ্মণটি যে কি জন্য মাটির ডেলা রেখেছিলেন, তার প্রকৃত কারণ কেউ বুঝতে চেষ্টা করেননি।
তখন তিনি বললেন, আমি আমার কোষাটা চিনে নেওয়ার জন্য মাটি রেখেছি। কিন্তু সেটি যদি তোমরা প্রকৃত বুঝতে চেষ্টা করতে, তবে তোমরা এইভাবে চিহ্ন রাখতে না। আসল কথা না জেনে কেবল অপরের দেখাদেখি কিছু করতে গেলে একইরকম ভুল হয়।
। হিতোপদেশ।
অনেক তথাকথিত পন্ডিত গতানুগতিকভাবে এই রকম সিদ্ধান্ত বিরোধ করে থাকে। যেমন শ্রীমদ্ভাগবতে ‘জয়ন্তী, কথাটি ব্যবহৃত হয় একমাত্র রোহিনী নক্ষত্রযুক্তা ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে, তাই স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথিই ‘জয়ন্তী’ নামে অভিহিত। ভক্তেরা ভক্তিভরে শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করেন। অন্যান্য লোকেরাও ভক্তিভরে তাদের কলকারখানায় যে কোন মানুষ ঘোড়া গাধার জন্মদিনগুলিতে ‘জয়ন্তী’ কথাটি যুক্ত করে জন্মদিবস পালন করে। এই ভাবে ক্রমে ক্রমে গতানুগতিকভাবে অন্ধ অনুকরণ করে, প্রকৃত কারণটি এড়িয়ে যায়।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,959 hits