অতত্ত্বজ্ঞ গুরু

বহুদিন পর গুরুদেব এক শিষ্যের বাড়িতে গেছেন। শিষ্য গুরুদেবকে পেয়ে যথাযোগ্য সেবা করছেন। গুরুদেব প্রায়ই বলে চলেছেন, “গুরু কৃষ্ণ এক করি জেনো। গুরু কৃষ্ণ নহে অন্য। গুরু বাক্য হৃদয়ে করিয়া ঐক্য।” শিষ্যগণ তখন গুরুদেবের মুখ নিঃসৃত বাক্যানুসরে রাত্রে গুরুদেবকে গৌরনিত্যানন্দের মন্দিরের মধ্যে শয়নের ব্যবস্থা করেছেন। গুরুদেব আনন্দ সহকারে মন্দিরে প্রবেশ করলেন। শিষ্যগণ বিছানা করে মশারি টানাতে গেলে গুরুদেব বললেন, “মশারি লাগবে না।” শিষ্যগণ এই কথা শুনে মশারিটি বিছানার পাশে রেখে যথারীতি মন্দির বন্ধ করে চলে গেলেন। গুরুদেব ভিতর দিক থেকে বন্ধ করে শয়ন করলেন। সারা রাত্র ধরে মশার কামড়ে গুরুদেব শেষরাত্রে মাথার দিকে গৌর ও পায়ের দিকে নিতাইকে রেখে তাঁদের হাতে মশারীর দড়ি বেঁধে গুরুদেব গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন।
এদিকে শিষ্যগণ অপেক্ষা করছেন মঙ্গল আরতি করার জন্য। আস্তে আস্তে সকাল আটটা বেজে গেল। মঙ্গল আরতি হল না। অর্চনের সময় তো হয়ে এলো। গুরুদেব কি অবস্থায় আছেন দরজা ভেঙ্গে দেখা যাক। দরজা ভেঙ্গে শিষ্যগণ দেখলেন গৌর-নিতাই গুরুদেবের সেবায় আছেন। নিজ হাতে মশারি ধরে তাঁর সেবা করছেন। সকলে আশ্চর্য্য হয়ে চিৎকার করে বলতে লাগল,-“সত্যি! গুরু কৃষ্ণ, নহে অন্য।”
গ্রামবাসীরা দলে দলে এসে সমস্ত কিছু দেখে সকলের মনে বিশ্বাস জন্মিয়ে গেল, ইনিই প্রকৃত সাধু।” এত চিৎকার, হৈ চৈ এর মধ্যে গুরুদেবের ঘুম ভেঙ্গে গেল। গুরুদেব উঠেই বললেন,-“তোমরা তাড়াতাড়ি সেবার ব্যবস্থা কর। সারা রাত্র ধরে গৌর-নিতাই পরিশ্রম করেছে।” এই সংবাদ সমস্ত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল এবং হাজার হাজার মানুষ এই সাধুর কাছে মন্ত্র গ্রহণ করল। সাধুর নাম যশ চারিদিকে প্রচার হয়ে গেল।
। হিতোপদেশ।
জড় জগতে কিছু মানুষ আছে, যারা নিজের মান, যশ প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মধ্বজী সাধুর বেশে ধর্মের নামে অধর্মের আশ্রয়গ্রহণ করে। তারা সমাজকে বঞ্চনা করে, সমাজকে ধোকা দিয়ে গুরু সেজে নরকের পথের পথিক হয়। এমনকি শিষ্যকে পর্যন্ত নরকের পথের পথিক করায় সেইজন্য সাবধানে গুরু বেছে নিতে হয়।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,959 hits