একটি শিশু তার পিতার সঙ্গে পথ চলতে চলতে অনবরত তাঁকে নানা রকম প্রশ্ন করতে থাকে। সে তার পিতাকে কত রকমের প্রশ্ন করে, আর তার পিতাকেও সেই প্রশ্নগুলির যথাযথ উত্তর দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে হয়। আমার গৃহস্থ আশ্রমে আমি যখন একজন নবীন পিতা ছিলাম, তখন আমার নিত্য সহচর দ্বিতীয় পুত্রটির অজস্র প্রশ্ন আমাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলত। একদিন আমার ছেলেকে নিয়ে আমি ট্রামে করে যাচ্ছিলাম। ট্রামের পাশ দিয়ে তখন একটি বরযাত্রীর দল যাচ্ছিল এবং আমার চার বছরের পুত্র তার চিরাচরিত রীতি অনুসারে আমাকে সেই বিরাট শোভাযাত্রা সম্বন্ধে নানা রকম প্রশ্ন করতে লাগল। সেই বরযাত্রী দলটি সম্বন্ধে তার হাজারো প্রশ্নের যথাসাধ্য উত্তরও যোগানো হচ্ছিল, এবং অবশেষে সে প্রশ্ন করল তার বাবাও বিবাহ করেছে কিনা ! তার সেই প্রশ্ন শুনে উপস্থিত সমস্ত ভদ্রলোকেরা উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠল, এবং এইভাবে সকলের এইভাবে হেসে ওঠার কারণ বুঝতে না পেরে আমার শিশুপুত্রটি একটু হতভম্ব হয়ে পড়ল। যাই হোক, তার পিতা যে বিবাহিত তা জেনে সে আশ্বস্ত হয়েছিল।
এই দৃষ্টান্তটি থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ যেহেতু বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন জীব, তাই অনুসন্ধান করাটা তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি । যার প্রশ্ন যত বেশি, তার জ্ঞানও তত বেশি (প্রবীনের কাছে নবীনের চিরাচরিত এই অসংখ্য প্রশ্নের উপরই গড়ে উঠেছে সমস্ত জড় সভ্যতা)। প্রবীণেরা তখন নবীনদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দান করেন, সভ্যতা তখন পদে-পদে প্রগতি লাভ করে। যারা সব চাইতে বেশি বুদ্ধিমান, তাদের অনুসন্ধান হচ্ছে- মৃত্যুর পরে কি হয়। অল্প বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অনুসন্ধানই অল্প, কিন্তু উচ্চমানে বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রশ্ন গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে।
এই রকম সব চাইতে বুদ্ধিমান মানুষদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সসাগরা পৃথিবীর অধীশ্বর পরীক্ষিৎ মহারাজ, যিনি ঘটনাক্রমে একজন ব্রাহ্মনের দ্বারা অভিশাপগ্রস্থ হয়েছিলেন যে, সাত দিনের মধ্যে তক্ষকের দংশনে তাঁর মৃত্যু হবে। যে ব্রাহ্মণটি তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিল, সে ছিল একটি বালক, কিন্তু তা হলেও সে ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। যেহেতু একজন মহৎ-সম্রাটের উপযোগিতা সম্বন্ধে সে অবগত ছিল না, তাই সেই বালকটি মূর্খের মতো তাঁকে অভিশাপ দিয়ে বলে যে, সাতদিনের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হবে। এই ব্যাপারে সেই ব্রাহ্মণ-বালকের পিতা, যাকে মহারাজ পরীক্ষিত অপমান করেছিলেন, অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়ে পড়েন। তিনিই মহারাজ পরীক্ষিতের কাছে লোক পাঠিয়ে সেই অভিশাপের কথা তাঁকে জানিয়ে দেন। মহারাজ পরীক্ষিৎ যখন সেই অভিশাপের কথা জানতে পারলেন, তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে তাঁর রাজধানীর নিকটবর্তী গঙ্গার তীরে গিয়ে প্রায়োপবেশনে তাঁর অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর প্রতীক্ষা করতে লাগলেন।
যেহেতু তিনি ছিলেন একজন মহৎ রাজা, তাই প্রায় সমস্ত মুনি-ঋষি এবং জ্ঞানী-গুণী পন্ডিতেরা অনশনরত মৃত্যুপথযাত্রী রাজার কাছে উপস্থিত হলেন। অবশেষে তৎকালীন সমস্ত মহাত্মাদের মধ্যে সব চাইতে নবীন, শ্রীল শুকদেব গোস্বামী সেখানে এসে উপস্থিত হলেন এবং সেখানে উপস্থিত সকলেই সমবেতভাবে তাঁকে সেই সভার সভাপতিরূপে বরণ করলেন। সেই সভায় তাঁর পিতা শ্রীল ব্যাসদেবও উপস্থিত ছিলেন।
মহারাজ পরীক্ষিৎ সসম্ভ্রমে শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করে এই জড় জগৎ পরিত্যাগ করা সম্বন্ধে নানা রকম প্রশ্ন করতে লাগলেন। ভগবানের মহান ভক্ত পান্ডবদের উপযুক্ত বংশধর মহারাজ পরীক্ষিৎ মহির্ষি শুকদেবকে প্রশ্ন করলেন, “ হে মহাত্মা, আপনি সমস্ত মহর্ষিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং তাই আমি বিনীতভাবে আপনার কাছে জানতে চাই এখন আমার কি কর্তব্য। কয়েক দিনের মধ্যেই আমার মৃত্যু হবে। সুতরাং এই সংকটময় মুহূর্তে আমার কি করা কর্তব্য ? প্রভু ! কৃপা করে আমাকে বলুন- আমার কি শোনা উচিত এবং কাকে আমার পূজা করা উচিত এবং কাকে আমার এখন স্মরণ করা উচিৎ ? আপনার মতো মহর্ষিরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় গৃহস্থের বাড়িতে অবস্থান করেন না, তাই এটি আমার পরম সৌভাগ্য যে, আপনি কৃপা করে আমার এই মৃত্যু-মুহূর্তে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে আপনি কৃপা করে আমাকে পথ প্রদর্শণ করুন।”
মহর্ষি শুকদের ছিলেন পরম তত্ত্বজ্ঞানী, দিব্য গুণাবলীতে গুণান্বিত, বৈদিক শাস্ত্রসমূহের প্রণেতা মহর্ষি বাদরায়ন বা ব্যাসদেবের যোগ্য সন্তান।
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন, “ হে রাজন ! আপনার প্রশ্নগুলি যথার্থই প্রাসঙ্গিক, এবং সেগুলি সর্বকালের সমস্ত মানুষের পক্ষে মঙ্গলজনক। এই ধরনের প্রশ্ন সর্বশ্রেষ্ঠ, তা যথার্থই প্রাসঙ্গিক, কারণ সেগুলি বেদান্ত-দর্শনের শিক্ষার দ্বারা প্রতিপাদিত এবং আত্মবিৎ সম্মত, অর্থাৎ আত্মতত্ত্ববিদ্ মুক্ত পুরুষেরাই জীব-জগতের সমস্ত কিছু আরও গভীরভাবে অবগত হওয়ার জন্য এই ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন। ”
শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে বেদান্ত-সূত্রের স্বাভাবিক ভাষ্য, যা শ্রীল ব্যাসদেব স্বয়ং রচনা করেন। বেদান্ত-সূত্র হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ বৈদিক শাস্ত্র এবং তা দিব্য-জ্ঞান সমন্বিত চিন্ময় বিষয়ে মৌলিক অনুসন্ধানের মূল অংশ। এই মহৎ সূত্র প্রণয়ন করা সত্ত্বেও শ্রীল ব্যাসদেবের চিত্ত যথার্থভাবে তৃপ্ত হতে পারেনি। তখন তাঁর গুরুদেব নারদ মুনি এসে তাঁকে উপদেশ দেন পরমেশ্বর ভগবানের সম্বন্ধে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে। এইভাবে আদিষ্ট হয়ে শ্রীল ব্যাসদেব ভক্তিযোগের তত্ত্বে ধ্যানস্থ হয়ে পরমতত্ত্ব ভগবান এবং আপেক্ষিক জগৎ বা মায়ার পার্থক্য স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। এই তত্ত্ব সম্বন্ধে পূর্ণজ্ঞান লাভ করে তিনি শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ রচনা করলেন, যা মহারাজ পরীক্ষিতের জীবনে ঐতিহাসিক বিবরণ দিয়ে শুরু হয়েছে।
বেদান্ত-সূত্র শুরু হয়েছে চিন্ময়, তত্ত্বের মূল প্রশ্ন অথাতো ব্রহ্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে- যার অর্থ হচ্ছে, ব্রহ্ম বা চিন্ময় তত্ত্ব সম্বন্ধে অনুসন্ধান করাটাই মানুষের পরম কর্তব্য।
মানুষ যতক্ষণ তার জীবনী-শক্তিতে পূর্ণ থাকে, ততক্ষণ সে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর পরম সত্যতা উপলব্ধি করতে পারে না। এইভাবে মোহাচ্ছন্ন মানুষ জীবনের সব চাইতে বড় সমস্যাটি সম্বন্ধে কোন রকম অনুসন্ধান করে না। সকলেই মনে করে যে, তার কখনো মৃত্যু হবে না। যদিও প্রতিনিয়ত তার চোখের সামনে সে মৃত্যুকে দেখতে পায়, তবুও সে স্বীকার করতে চায় না যে, একদিন তাকেও মৃত্যুর করাল কবলে পতিত হতে হবে। এটিই হচ্ছে মানুষের জীবন এবং পশু-জীবনের মধ্যে পার্থক্য। একটি পশু তার অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুকে উপলব্ধি করতে পারে না। যেমন, একটি ছাগল যদি দেখেও যে, তার সহোদর ছাগলটিকে হত্যা করা হচ্ছে, তবুও সে নিশ্চিত মনে ঘাস খেয়ে চলে। তার কোন ধারনাই নেই যে, পরমুহূর্তে তাকেও হত্যা করা হবে। পক্ষান্তরে বলা যায়, কোন মানুষ যদি দেখে যে, তারই সহগামী কোন মানুষকে শত্রু হত্যা করছে, তখন হয় সে তার ভাইকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করে, নয়তো তার নিজের জীবর রক্ষা করার জন্য সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ছাগল এবং মানুষের মধ্যে এই হচ্ছে পার্থক্য।
বুদ্ধিমান মানুষ জানে যে, তার জন্মের সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যুরও জন্ম হয়েছে। সে জানে যে, প্রতি মুহূর্তে তার মৃত্যু হচ্ছে এবং জীবনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তখন তার মৃত্যুর চরম প্রকাশ হবে। তাই সে পরবর্তী জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে অথবা ক্রমে ক্রমে জন্ম এবং মৃত্যুর ক্লেশদায়ক ভবরোগ থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করে।
মূর্খ লোক জানে না যে, প্রকৃতির নিয়মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বহু জন্ম-জন্মান্তরের পর সে মনুষ্য জীবন লাভ করেছে। সে জানে না যে, জীব নিত্য, তার জন্ম এবং মৃত্যু নেই। সে জানে না যে, পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে তার সনাতন, চিন্ময় এবং আনন্দময় সম্পর্কের কথা বিস্মৃত হওয়ার ফলেই সে জড় জগতের সংস্পর্শে এসেছে এবং তার ফলে তাকে জন্ম, মৃত্যু, জরা এবং ব্যাধিকর ক্লেশ ভোগ করতে হবে।
মনুষ্য জীবনে এই নিত্য-তত্ত্ব অবগত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই বেদান্ত-সূত্রের প্রথমেই উপদেশ দেওয়া হয়েছে যে, যেহেতু আমরা এখন এই দুর্লভ মনুষ্য জীবন লাভ করেছি, তাই এখন আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ব্রহ্ম বা পরমতত্ত্ব সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা।
যে মানুষ যথেষ্ট বুদ্ধিমান নয়, সে পারমার্থিক জীবন সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে পারে না। পক্ষান্তরে সে নানা রকম অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সম্বন্ধে অনুসন্ধান করে, যার সঙ্গে তার সচ্চিদানন্দময় অস্তিত্বের কোনই সম্পর্ক নেই। জীবনের শুরু থেকেই সে তার মা, বাবা, শিক্ষক, অধ্যাপক এবং অন্যান্য বহুজনের কাছে বহু রকম প্রশ্ন করে, কিন্তু সেই সমস্ত প্রশ্নের মাধ্যমে তার প্রকৃত স্বরূপ সম্বন্ধে সে কিছুই জানতে পারে না।
পরীক্ষিৎ মহারাজ যখন জানতে পারলেন যে, সাতদিন পরে তাঁর মৃত্যু হবে, তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর রাজপ্রাসাদ এবং রাজৈশ্বর্য পরিত্যাগ করে পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে পরীক্ষিৎ মহারাজ অন্তত সাতদিন সময় পেয়েছিলেন। কিন্তু আমরা যদিও জানি যে মৃত্যু আমাদের অবশ্যম্ভাবী, তবে কখন যে তা আসবে, সেই সম্বন্ধে আমাদের কিছুই জানা নেই । আমরা জানি, যে কোন মুহূর্তে আমাদের মৃত্যু ঘটতে পারে। গান্ধীর মতো একজন তথাকথিত মহাত্মা পর্যন্ত বুঝতে পারেননি যে, পাঁচ মিনিট পরেই তার মৃত্যু হবে। আর তার মহান পার্যদেরা পর্যন্ত তার আসন্ন মৃত্যুকে অবলোকন করতে পারেননি। কিন্তু তা স্বত্বেও এই সমস্ত মহোদয়েরা নিজেদের জনসাধারণের মহান নেতারূপে প্রতিপন্ন করতে চান।
জন্ম এবং মৃত্যু সম্বন্ধে অজ্ঞতাই পশু এবং মানুষের পার্থক্য নিরূপণ করে থাকে। একজন যথার্থ মানুষ তার নিজের সম্বন্ধে, তার স্বরূপ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে। সে প্রশ্ন করে, কোথা থেকে সে এই জীবনে এল আর মৃত্যুর পর সে কোথায় যাবে। সে প্রশ্ন করে, যদিও সে দুঃখ চায় না, তবুও কেন সে ত্রিতাপ দুঃখের দ্বারা জর্জরিত হচ্ছে। আধুনিক সমাজে মানুষ তার জীবনের কত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু জীবনের যথার্থ তত্ত্ব সম্বন্ধে কখনই সে কোন প্রশ্ন করে না। এটিই হচ্ছে পাশবিকতা। চারটি পশু-প্রবৃত্তি অনেক মানুষের মধ্যেও দেখা যায়। সেই ব্যাপারে মানুষ এবং পশুর মধ্যে পার্থক্য নেই। প্রতিটি জীবই আহার, নিদ্রা, ভয় এবং মৈথুনকে কেন্দ্র করে জীবন যাপন করে, কিন্তু মনুষ্য জীবনেই কেবল নিত্য অস্তিত্ব এবং চিন্ময় সত্তা সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়।
তাই মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে তার নিত্য অস্তিত্ব সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা। তাই বেদান্ত-সূত্র উপদেশ দিচ্ছে যে, সেই অনুসন্ধান এখনই করতে হবে। তা না হলে কখনই তা সম্ভব হবে না। মনুষ্য জীবন পাওয়া স্বত্ত্বেও আমরা যদি আমাদের প্রকৃত স্বরূপ সম্বন্ধে অনুসন্ধান না করি, তা হলে প্রকৃতির নিয়মে আমাদের অবশ্যই আবার পশু-জীবন প্রাপ্ত হতে হবে। তখন আমরা আর প্রশ্ন করতে পারব না, ‘আমি কে ? আমি কোথা থেকে এলাম ? আমি কেন এখানে কষ্ট পাচ্ছি ?’ তাই, জড়জাগতিক বিষয়ে অনেক মূর্খ লোকদের যথেষ্ঠ উন্নত বলে মনে হলেও- অর্থাৎ, আহার-নিদ্রা-ভয়-মৈথুন ইত্যাদি বিষয়ে তাদের খুব উন্নত বলে মনে হলেও প্রকৃতির নিয়মে মৃত্যুর হাত থেকে তারা কখনই নিস্তার পেতে পারে না। জড়া প্রকৃতি সত্ত্ব, রজ এবং তম- এইটি তিনটি গুণের দ্বারা সব কিছুকে নিয়ন্ত্রন করে। যারা সত্ত্বগুণে জীবন যাপন করে, তারা উচ্চতর, ধার্মিক জীবন প্রাপ্ত হয়; যারা রজোগুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জীবন যাপন করে, তারা জড় জগতের যেখানে রয়েছে সেখানেই আবদ্ধ থাকে; আর যারা তমোগুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তামসিক জীবন যাপন করে, তারা অবশ্যই অধঃপতি হয়ে নিম্নতর জীবন লাভ করে।
আধুনিক সভ্যতার পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে তা কোন শিক্ষাই প্রদান করে না। পশুর মতো এই সমাজের মানুষেরাও জানে না যে, প্রকৃতির নিয়মে অচিরেই তাদের মৃত্যু হবে। একমুঠো সবুজ ঘাস বা তথাকথিত সুখময় জীবন পেয়ে তারা কসাইখানায় মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষমান পাঁঠার মতো নির্বিকার। আধুনিক মানুষের এই দুর্দশার কথা বিবেচনা করেই আমরা ভগবৎ-দর্শনের মাধ্যমে মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। এই পন্থাটি অলীক নয়। কলহের যুগ এই কলিযুগের মিথ্যার আবরণ উন্মোচন করে যদি আবার সত্যযুগের প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়, তা হলে এই ভগবৎ-দর্শনে বাণীর মাধ্যমে তারই সূচনা হচ্ছে।
শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর মতে, একজন গৃহমেধী অর্থাৎ কসাইখানায় বধ হতে চলেছে যে পাঁঠা, তার মতো যে মানুষ তার পরিবার, সমাজ, গোষ্ঠী, জাতি এবং সমাজকে নিয়ে আহার নিদ্রা, ভয় এবং মৈথুন আদি যত সমস্ত পাশবিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে আছে এবং ভগবত্তত্ত্ব-দর্শন সম্বন্ধে যার কোনই জ্ঞান নেই, তার শরীরটা মানুষের হলেও সে একটা পশু ছাড়া আর কিছু নয়। সে ভৌত, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক আদি ক্ষণস্থায়ী জাগতিক বিষয়সমূহ সম্বন্ধে অনুসন্ধান করে থাকতে পারে, কিন্ত পারমার্থিক তত্ত্ব সম্বন্ধে সে যদি কোন অনুসন্ধান না করে থাকে, তা হলে তার অবস্থাটা অসংযত ইন্দ্রিয়ের দ্বারা পরিচালিত একটি অন্ধের মতো, যে অচিরেই একটি কূপের মধ্যে পতিত হবে। এটিই হচ্ছে গৃহমেধীর বর্ণনা।
গৃহমেধীর বিপরীত হচ্ছে গৃহস্থ। গৃহস্থ- আশ্রম বা গৃহের আশ্রয়ে অবস্থিত দিব্য সংসার জীবন, সন্ন্যাস আশ্রমের মতোই পবিত্র। কেউ গৃহস্থ আশ্রমে রয়েছে না সন্ন্যাস আশ্রমে রয়েছে, তা দিয়ে কিছু যায় আসে না; আসল কথাটা হচ্ছে, তার হৃদয়ে যথার্থ তত্ত্ব-জিজ্ঞাসার উদয় হয়েছে কি না। কেউ যদি সন্ন্যাসী হওয়া স্বত্ত্বেও ভগবৎ-তত্ত্বদর্শনের অনুসন্ধান না করে, তা হলে সে একটি ভন্ড ছাড়া আর কিছুই নয়, এবং কেউ গৃহস্থ আশ্রমে অবস্থান করেও যদি ভগবত্তত্ত্ব সম্বন্ধে অনুসন্ধান করেন, তা হলে তাঁকে মহাত্মা বলে গণ্য করতে হবে। আর যারা গৃহমেধী, তারা কেবল পশু প্রবৃত্তিগুলি চরিতার্থ করার কাজেই ব্যস্ত থাকে। প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে গৃহমেধীদের জীবন চরম দুঃখ-দুর্দশাপূর্ণ, কিন্তু গৃহস্থের জীবন সুখ ও শান্তিতে পরিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যবশত, আধুনিক যুগের তথাকথিত সভ্য মানব সমাজে গৃহমেধীরাই নিজেদের গৃহস্থ বলে জাহির করবার চেষ্টা করছে।
তাই আমাদের জানতে হবে যথার্থ গৃহস্থ কে, আর গৃহমেধীই বা কে। গৃহমেধীর জীবন পাপে পূর্ণ, কারণ যথার্থ সংসার-ধর্ম কিভাবে পালন করতে হয়, সেই সম্বন্ধে তার কোন জ্ঞান নেই। সে জানে না যে, তার ক্ষমতার ঊর্ধ্বে এক অচিন্ত্য শক্তি তার সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে, তার নিজের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সে সম্পূর্ণভাবে অজ্ঞ এবং যথার্থ তত্ত্ব-জিজ্ঞাসার প্রতি সে সম্পূর্ণ নিঃস্পৃহ। পক্ষান্তরে এই ক্ষণস্থায়ী জড় অস্তিত্বে সে যা কিছুর সংস্পর্শে এসেছে, তারই বন্ধনে সে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
রাত্রিবেলায় গৃহমেধীরা তাদের অতি মূল্যবান সময়ের অপচয় করে ঘুমিয়ে অথবা বিভিন্ন রকমের যৌন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সিনেমা, নাইট ক্লাব এবং জুয়ার আড্ডায় গিয়ে, আর দিনের বেলায় তারা অর্থ সঞ্চয়ের প্রয়াসে তাঁদের সময়ের অপচয় করে। আর যদি অনেক অর্থ থাকে, তাহলে তাদের নিজেদের ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির জন্য বা পরিবারের সদস্যদের ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির জন্য সেই টাকা খরচ করে তারা তাদের অর্থের অপচয় করে। তাদের আর্থিক উপার্জনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনের মান এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনগুলি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এইভাবে তাদের খরচের কোন সীমা থাকে না, এবং তারা কখনই সন্তুষ্ট হতে পারে না। আর এই অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতার কোন সীমা নেই, এবং তাই আজকের মানব সমাজে কোথাও শান্তি নেই। বর্তমানে সমাজের প্রতিটি মানুষই কিভাবে অর্থ উপার্জন করবে এবং কিভাবে তা ব্যয় করবে, সেই চিন্তায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছে। তারা জানে না যে, প্রকৃতির কৃপার উপরেই সকলকে নির্ভর করতে হয়। যখন উৎপাদনে ঘাটতি পড়ে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়, তখন সমস্ত পরিকল্পনাকারী মূর্খ রাজনৈতিক নেতারা সমস্ত দোষটা ‘নিষ্ঠুর প্রকৃতির’ উপর চাপিয়ে দেয়। কিন্তু কিভাবে এবং কার দ্বারা এই প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, সেই বিষয়টি তারা খুব সাবধানতার সঙ্গে এড়িয়ে যায়। ভগবদ্গীতা কিন্তু ঘোষণা করছে যে, প্রকৃতি পরিচালিত হয় পরমেশ্বর ভগবানের দ্বারা। ভগবানই প্রকৃতি এবং প্রকৃতির নিয়মগুলো নিয়ন্ত্রন করেন।
উচ্চাভিলাষী জড়বাদীরা কখনো কখনো প্রকৃতির নিয়মের কোন একটি নগণ্য অংশের অনুসন্ধান করে, কিন্তু সেই নিয়মগুলি যে কে বানিয়েছে, সেই সম্বন্ধে জানবার কোন প্রয়াসই তারা করে না। তাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশই বিশ্বাস করে না যে, ভগবান আছেন এবং তিনিই প্রকৃতির সমস্ত নিয়মগুলি নিয়ন্ত্রন করছেন। পক্ষান্তরে, প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানগুলি কিভাবে একে অপরের সঙ্গে ক্রিয়া করে, তা নিয়ে একটু গবেষণা করে তারা তাদের পান্ডিত্য জাহির করতে চায়; কিন্তু কার পরিচালনায় যে প্রতিক্রিয়াগুলি সাধিত হচ্ছে, সেই সম্বন্ধে কোন অনুসন্ধান তারা করে না। সেই সম্বন্ধে তাদের কোন যথার্থ প্রশ্ন বা উত্তর নেই। বেদান্ত-সূত্রের দ্বিতীয় সূত্রটি কিন্তু ভগবত্তত্ত্ব সম্বন্ধীয় অপরিহার্য প্রশ্নটির উত্তর দিয়ে প্রতিপন্ন করেছে যে, পরমব্রহ্ম, পরম সত্তা হচ্ছেন তিনি, যাঁর থেকে সব কিছু প্রকাশিত হয়েছে। তিনি হচ্ছেন পরম পুরুষ, পরমেশ্বর ভগবান। মূর্খ গৃহমেধীরা কেবল প্রকৃতির অনিত্যতা এবং যে শরীরটাকে কেন্দ্র করে তাদের এত আয়োজন, তার অসারত্ব সম্বন্ধেই অজ্ঞ নয়, তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে তাদের সামনে যা ঘটে চলেছে, সেই বিষয়েও সম্পূর্ণ অন্ধ। যদিও তারা দেখে যে, তাদের পিতা, মাতা, আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীর মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা বুঝতে চেষ্টা করে না যে, তাদের পরিবারের অন্য সমস্ত সদস্যদেরও মৃত্যু হবে। কখনও কখনও তারা চিন্তা করে এবং বুঝতে পারে যে, একদিন না একদিন তাদের পরিবারের সকলেরই মৃত্যু হবে এবং তাদের নিজেদেরও মৃত্যু হবে। তারা জানতে পারে না যে, তাদের পারিবারিক, সাম্প্রদায়িক, সামাজিক, জাতীয় এবং এই ধরনের সব রকমের জীবন একটা বুদ্বুদের মতো ক্ষণস্থায়ী এবং অচিরে তা মিলেয়ে যাবে; কিন্তু তা সত্ত্বেও এই সমস্ত ক্ষণস্থায়ী আয়োজনে তারা উন্মাদের মতো আসক্ত হয়ে থাকে এবং যথার্থ তত্ত্ব-অনুসন্ধানের কোন রকম প্রচেষ্টাই করে না। তাদের মৃত্যুর পর তারা যে কোথায় যাবে, সেই সম্বন্ধে তাদের কোনই জ্ঞান নেই। তাদের পরিবার, সমাজ বা জাতির ক্ষনস্থায়ী আয়োজনগুলির কাজে তারা কঠোর পরিশ্রম করে, কিন্তু তারা কখনই তাদের জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অনুসন্ধান করে না।
রেলগাড়িতে চলার সময় আমরা ক্ষণকালের জন্য সেই গাড়িটির যাত্রী হই এবং অন্যান্য সহযাত্রীদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু তারপর একসময় আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তাদের সঙ্গে আমাদের আর কোনদিনও দেখা হয় না। তেমনই, জীবনের দীর্ঘ যাত্রায় আমরা তথাকথিত কোন একটি পরিবার, দেশ বা সমাজের সঙ্গে ক্ষণকালের জন্য যুক্ত হই। কিন্তু তারপর সময় যখন শেষ হয়ে যায়, তখন আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, আর কখনও আমাদের দেখা হয় না। আমাদের জীবনের অনিত্যতা সম্বন্ধে এবং সেই অনিত্য জীবনে আমাদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অনিত্যতা আমরা অতি সহজেই উপলব্ধি করতে পারি, কিন্তু গৃহমেধীরা সেই সম্বন্ধে কোন রকম অনুসন্ধান করে না। নানা বিষয়ে অনিত্য সমস্ত পরিকল্পনা করতে তারা সকলেই ব্যস্ত, কিন্তু জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে তাদের কোনই জ্ঞান নেই।
শ্রীপাদ শঙ্করাচার্য, যিনি সমাজের অজ্ঞতা দূর করার জন্য বিশেষভাবে চেষ্টা করেছিলেন এবং যিনি নির্বিশেষ-ব্রহ্মবাদের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তিনি হতাশ হয়ে বলেছিলেন, “শিশুরা খেলায় মগ্ন, যবকেরা যুবতীদের সঙ্গে তথাকথিত প্রেমালাপে মগ্ন এবং বৃদ্ধরা ব্যর্থ জীবন-সংগ্রামে নিজেদের অবস্থাটা একটু গুছিয়ে নেওয়ার গভীর চিন্তায় মগ্ন। কিন্তু হায় ! জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানতে, পরম তত্ত্বজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞান সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে কেউ প্রস্তুত নয়।”
মহারাজ পরীক্ষিত যখন শুকদেব গোস্বামীর কাছে জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অনুসন্ধান করেন, তখন শুকদের গোস্বামী তাকে উপদেশ করে বলেন–
তস্মাদ্ভারত সর্বাত্মা ভগবানীশ্বরো হরিঃ।
শ্রোতব্যঃ কীর্তিতব্যশ্চ স্মর্তব্যশ্চেচ্ছতাভয়ম্॥
“ হে ভারত, প্রতিটি মানুষের কর্তব্য হচ্ছে সর্ব ঐশ্বর্যমন্ডিত সর্বাকর্ষক পরমেশ্বর ভগবানের সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা, শ্রবণ করা, কীর্তন করা এবং ধ্যান করা। তাঁর নাম হরি, কারণ তিনিই কেবল জীবকে তার বদ্ধাবস্থা থেকে মুক্ত করতে পারেন। আমরা যদি আমাদের বদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে চাই, তা হলে সেই পরমতত্ত্ব সম্বন্ধে আমাদের যথার্থভাবে অনুসন্ধান করতে হবে, যাতে প্রসন্ন হয়ে আমাদের যথার্থ মুক্তি দান করেন। (শ্রীমদ্ভাগবত ২/১/৫)
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী পরমেশ্বর ভগবান সম্বন্ধে চারটি বিশেষ শব্দের ব্যবহার করেছেন। এই শব্দগুলি পরমেশ্বর ভগবান বা পরমব্রহ্ম থেকে অন্য সমস্ত জীবদের যারা গুণগতভাবে তাঁর সঙ্গে এক হলেও আয়তনগতভাবে ভিন্ন, বৈষম্য নিরূপণ করে। পরমেশ্বর ভগবানকে এখানে সর্বাত্মরূপে সম্বোধন করা হয়েছে, কারণ তাঁর সম্বন্ধে অবগত না হলেও কেউই তাঁর থেকে পৃথক নয়। পরমেশ্বর ভগবান পরমাত্মারূপে সকলেরই হৃদয়ে বিরাজ করেন। তাই প্রতিটি জীবেরই তাঁর সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর সঙ্গে এই নিত্য আন্তরিক সম্পর্কের কথা ভুলে যাওয়ার ফলেই জীব অনাদিকাল ধরে এই বদ্ধ অবস্থাপ্রাপ্ত হয়েছে। কিন্তু যেহেতু তিনি হচ্ছেন ভগবান, যেহেতু তিনি হচ্ছেন পরম পুরুষ, তাই তাঁর রূপ, তাঁর বৈভব, তাঁর যশ, তাঁর বীর্য, তাঁর জ্ঞান, তাঁর বৈরাগ্য হচ্ছে নিত্য আনন্দের পরম উৎস।
অন্য কোন জীবের মধ্যে যখন সেই সমস্ত ঐশ্বর্যগুলি দেখা যায়, তখন সাধারণ মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু ভগবানের ঐশ্বর্যের এই বিকৃত আভাসে তারা সন্তুষ্ট হতে পারে না। আর তাই তারা সর্বদাই তাদের অজ্ঞাতসারে সেই পরম পুরুষের অনুসন্ধান করে চলে, যাঁর মধ্যে এই গুণগুলি পূর্ণরূপে বিরাজমান। পরমেশ্বর ভগবানের সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয় না। কিন্তু সব চাইতে বড় কথা হচ্ছে যে, তিনি হচ্ছেন পরম ঈশ্বর, অর্থাৎ তিনিই হচ্ছেন পরম নিয়ন্তা। এই জড়া প্রকৃতিতে আমরা সরকারের পুলিশদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছি। আমাদের উপর এই পুলিশী-নিয়ন্ত্রণ চাপানো হয়েছে, কারণ আমরা তাঁর আইন অমান্য করেছি। কিন্তু যেহেতু ভগবান হচ্ছেন হরি, তিনি আমাদের বদ্ধ জীবনের দুঃখভার মোচন করে চিন্ময় জগতের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করতে পারেন। তাই প্রতিটি মানুষের কর্তব্য হচ্ছে তাঁর সম্বন্ধে অনুসন্ধান করে তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে নিত্য আনন্দে মগ্ন হওয়া।