তৃতীয় অধ্যায়- যমদূতদের প্রতি যমরাজের উপদেশ

মহারাজ পরীক্ষিৎ বললেন- “হে শুকদেব গোস্বামী, যমরাজ সমস্ত জীবের ধর্মাধর্মের বিচারক, কিন্তু এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তাঁর আদেশ প্রতিহত হয়েছে। তাঁর ভৃত্য যমদূতেরা যখন অজামিলকে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে বিষ্ণুদূতদের কাছে তাদের পরাজয়ের কথা তাঁকে বর্ণনা করল, তখন তিনি কি বললেন? হে ঋষিবর, পূর্বে কখনও যমরাজের আদেশ ব্যর্থ হওয়ার কথা শোনা যায়নি। তাই আমার মনে হয়, মানুষের মনে সেই বিষয়ে সংশয় থাকতে পারে। আপনি ছাড়া আর কেউই এই সংশয় ছেদন করতে পারবে না। সেটিই আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অতএব কৃপা করে সেই সংশয় দূর করুন।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী উত্তর দিলেন- “হে রাজন্, বিষ্ণুদূতদের দ্বারা প্রতিহত এবং পরাভূত হয়ে যমদূতেরা সংযমনীপুরীর অধীশ্বর যমরাজকে সেই বৃত্তান্ত জানিয়েছিল।”
যমদূতেরা বলল- “হে প্রভু, এই জড় জগতের শাসনকর্তা কয়জন রয়েছে? সত্ত্ব, রজ ও তমোগুনে অনুষ্ঠিত কর্মফল প্রকাশের কারণই বা কয়টি? এই জগতে যদি বহু শাসনকর্তা এবং বিচারক থাকেন, তা হলে তাঁদের পরস্পর মতবিরোধের ফলে, কে যে দণ্ডণীয় এবং কে যে পুরস্কৃত হবে, তা বোঝা যাবে না। পক্ষান্তরে, পরস্পরের বিরোধী কার্য যদি পরস্পকে প্রতিহত করতে না পারে, তা হলে সকলেই দণ্ডভোগ করবে এবং পুরস্কৃতও হবে।”
“যেহেতু বহু কর্মী রয়েছে, তাই তাদের বিচারের জন্য বহু বিচারক হতে পারে, কিন্তু একজন সম্রাট যেমন তার অধীনস্থ শাসকদের নিয়ন্ত্রণ করেন, তেমনই বিভিন্ন বিভাগীয় বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একজন মুখ্য বিচারক থাকা আবশ্যক। মুখ্য শাসনকর্তা একজন, বহু হতে পারেন না। আমরা জানতাম যে, আপনিই হচ্ছেন সর্বোচ্চ বিচারক এবং দেবতারাও আপনার অধীন। আমরা মনে করতাম, আপনি সমস্ত জীবের অধীশ্বর এবং সমস্ত মানুষের পাপ-পুণ্যের একমাত্র বিচারকর্তা। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে, আপনার বিহিত দণ্ড আর কার্যকরী হচ্ছে না। চারজন অদ্ভুত দর্শন সিদ্ধপুরুষ আপনার আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। আমরা মহাপাপী অজামিলকে আপনার আদেশ অনুসারে নরকে নিয়ে আসছিলাম, তখন সেই অত্যন্ত সুন্দর দর্শন সিদ্ধপুরুষেরা বলপূর্বক তার পাশবদ্ধন ছেদন করে তাকে মুক্ত করেছিলেন। পাপী অজামিল নারায়ণ নাম উচ্চারণ করা মাত্রই সেই চারজন অতি সুন্দর দর্শন পুরুষ তৎক্ষণাৎ সেখানে আবির্ভূত হয়ে তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘ভয় করো না। ভয় করো না।’ আপনার কাছে আমরা তাঁদের সম্বন্ধে জানতে চাই। আপনি যদি মনে করেন যে, আমরা তাঁদের বুঝতে পারব, তা হলে দয়া করে আপনি বলুন তাঁরা কে।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “তাঁর দূতদের এই প্রকার প্রশ্নে ‘নারায়ণ’ এই দিব্য নাম শ্রবণ করে অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে জীবদের নিয়ন্তা যমরাজ ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম স্মরণ করে তাঁর দূতদের বলতে লাগলেন- হে দূতগণ, তোমরা আমাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে মনে কর, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি তা নই। আমার ঊর্ধ্বে এবং ইন্দ্র, চন্দ্র আদি সমস্ত দেবতাদের ঊর্ধ্বে একজন পরম ঈশ্বর ও নিয়ন্তা রয়েছেন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিব, যাঁরা এই ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি, স্থিতি এবং বিনাশের অধ্যক্ষ, তাঁরা তাঁরই অংশ। বস্ত্রে সূত্রের মতো এই বিশ্ব তাতে ওতপ্রোতভাবে অবস্থিত। বলদ যেমন নাসিকা-সংলগ্ন রজ্জুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, সমগ্র জগৎও তেমনই তাঁরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। গরুর গাড়ির চালক যেমন নাসা সংলগ্ন রজ্জুর দ্বারা বলদদের নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনই ভগবান বেদবাক্যরূপী রজ্জুর দ্বারা সমস্ত মানুষকে আবদ্ধ করেছেন, যা মানব-সমাজের ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র আদি বিভিন্ন নাম এবং কর্ম অনুসারে বর্ণিত হয়েছে। ভয়ে ভীত হয়ে, এই সমস্ত বর্ণের মানুষেরা তাদের স্বীয় কর্ম অনুসারে ভগবানকে পূজোপহার প্রদান করেন। আমি যম, দেবরাজ ইন্দ্র, নির্ঋতি, বরুণ, চন্দ্র, অগ্নি, মহাদেব, পবন, ব্রহ্মা, সূর্য বিশ্বাবসু, অষ্টবসু, সাধ্যগণ, মরুৎগণ, রুদ্রগণ, সিদ্ধগণ, মরীচি প্রভৃতি অন্যান্য বিশ্বস্রষ্টা, বৃহস্পতি প্রমুখ দেবশ্রেষ্ঠগণ এবং রজ ও তমোগুণ যাঁদের স্পর্শ করতে পারে না, সেই ভৃগু প্রমুখ সত্ত্বগুণ-প্রধান মুনিগণও ভগবানের কার্যকলাপ বুঝতে পারেন না, অতএব মায়ামোহিত অন্যান্য জীবেরা কিভাবে ভগবানকে জানতে পারবে? দেহের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন চক্ষুকে দর্শন করতে পারে না, তেমনই জীবও সকলের হৃদয়ে পরমাত্মারূপে বিরাজমান ভগবানকে ইন্দ্রিয়, মন, প্রাণ, হৃদয় অথবা বাক্যের দ্বারা জানতে পারে না।”
“ভগবান স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বাধীন। তিনি সকলের অধীশ্বর। তিনি মায়াধীশ। তাঁর রূপ, গুণ এবং স্বভাব রয়েছে; তেমনই তাঁর দূত বৈষ্ণবদের রূপ, গুন এবং স্বভাবও তাঁরই মতো সুন্দর। তাঁরা সর্বদা এই জগতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচরণ করেন। শ্রীবিষ্ণুর সেই ভৃত্যরা দেবতাদেরও পূজ্য; তাঁদের রূপ ঠিক শ্রীবিষ্ণুর মতো এবং তা অত্যন্ত দুর্লভ দর্শন। বিষ্ণুদূতেরা শত্রুর কবল থেকে, আমার থেকে এবং দৈব- দুর্বিপাক থেকেও ভগবদ্ভক্তদের সর্বতোভাবে রক্ষা করেন। প্রকৃত ধর্ম স্বয়ং ভগবানের দ্বারা প্রণীত। সম্পূর্ণরূপে সত্ত্বগুণে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও, যাঁরা ব্রহ্মাণ্ডের সর্বোচ্চ লোকে বিরাজ করেন, সেই মহান ঋষিগণও তা নিশ্চিতভাবে জানে না। দেবতা অথবা প্রধান প্রধান সিদ্ধগণও তা জানেন না, তা হলে অসুর, মানুষ, বিদ্যাধর এবং চারণদের আর কি কথা। ব্রহ্মা, নারদ, শিব, চতুঃসন, কপিল ( দেবহূতি-পুত্র), স্বায়ম্ভুব মনু, প্রহ্লাদ মহারাজ, জনক মহারাজ, পিতামহ ভীষ্ম, বলি মহারাজ, শুকদেব গোস্বামী এবং আমি- আমরা এই বারো জন প্রকৃত ধর্মের তত্ত্ব জানি। হে ভৃত্যগণ, এই দিব্য ধর্ম যা ভাগবত-ধর্ম বা ভগবৎ-প্রেম ধর্ম নামে পরিচিত, তা জড়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা কলুষিত নয়। তা অত্যন্ত গোপনীয় এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে দুর্বোধ্য, কিন্তু কেউ যদি ভাগ্যক্রমে তা হৃদয়ঙ্গম করার সুযোগ পান তা হলে তিনি তৎক্ষণাৎ মুক্ত হয়ে ভগবদ্ধামে ফিরে যান। ভগবানের দিব্যনাম কীর্তন থেকে শুরু হয় যে ভক্তিযোগ, তা-ই মানব-সমাজে জীবের পরম ধর্ম।”
“হে পুত্রসদৃশ ভৃত্যগণ, ভগবানের পবিত্র নামের মাহাত্ম্য দর্শন কর। মহাপাপী অজামিল তার পুত্রকে সম্বোধন করে, অজ্ঞাতসারে, এই নাম গ্রহণ করার ফলে নারায়ণ-স্মৃতি হেতু তৎক্ষণাৎ মৃত্যুপাশ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন। অতএব বুঝতে হবে যে, ভগবানের নাম, গুণ এবং কর্মের কীর্তনের ফলে সমস্ত পাপ থেকে অনায়াসে মুক্ত হওয়া যায়। পাপ মোচনের জন্য এটিই একমাত্র উপদিষ্ট পন্থা। কেউ যদি নিরপরাধে ভগবানের নাম উচ্চারণ করেন, তা হলে সেই উচ্চারণ অশুদ্ধ হলেও তিনি ভগবন্ধন থেকে মুক্ত হবেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায় যে, অজামিল ছিলেন অত্যন্ত পাপী, কিন্তু মৃত্যুর সময় তাঁর পুত্রকে সম্বোধন করে সেই নাম উচ্চারণের ফলে, তিনি পূর্ণরূপে মুক্ত হয়েছিলেন। ভগবানের মায়ায় বিমোহিত হয়ে যাজ্ঞবল্ক্য, জৈমিনি প্রমুখ ধর্মশাস্ত্র-প্রণেতাগণ দ্বাদশ মহাজন বর্ণিত ভাগবত ধর্মের রহস্য অবগত হতে পারেননি। তাঁরা ভগবদ্ভক্তির অনুষ্ঠান বা হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তনের দিব্য মহিমা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেননি। যেহেতু তাঁদের মন বেদে উল্লিখিত, বিশেষ করে যজুর্বেদ, সামবেদ এবং ঋগ্বেদে বর্ণিত কর্মের অনুষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট, তাই তাঁদের বুদ্ধি জড়ীভূত হয়ে গেছে। এইভাবে তাঁরা জড়সুখ ভোগের জন্য স্বর্গলোকে উন্নীত হওয়া আদি অনিত্য ফল লাভের জন্য কর্ম অনুষ্ঠানের উপকরণ সংগ্রহেই ব্যস্ত। তাঁরা সংকীর্তন আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পরিবর্তে ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষের প্রতিই আগ্রহশীল। অতএব, এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে, বুদ্ধিমান মানুষেরা সর্বান্তঃকরণে সমস্ত মঙ্গলময় গুণের আকর সর্বান্তর্যামী ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তনরূপ ভগবদ্ভক্তির পন্থা অবলম্বনের দ্বারা তাঁদের সমস্ত সমস্যার সমাধানের বিবেচনা করেন। তাঁরা আমার দণ্ডার্হ নন। সাধারণত তাঁরা কোন পাপকর্ম করেন না, কিন্তু যদি ভ্রমবশত, প্রমাদবশত অথবা মোহবশত তাঁরা কখনও কোন পাপ করেনও তবু তাঁরা নিরন্তর হরেকৃষ্ণ কীর্তন করার ফলে সেই পাপ থেকে রক্ষা পান।”
“হে দূতগণ, তোমরা কখনও এই প্রকার ভক্তদের কাছে যেও না, কারণ তাঁরা সর্বতোভাবে ভগবানের শ্রীপাদপদ্মে শরণাগত। তাঁরা সকলের প্রতি সমদর্শী এবং তাঁদের গুনগাথা দেবতা ও সিদ্ধরা গান করেন। তাঁদের কাছে পর্যন্ত তোমরা যেও না। ভগবানের গদা তাঁদের সর্বতোভাবে রক্ষা করে এবং ব্রহ্মা, আমি এমন কি কাল পর্যন্ত তাঁদের দণ্ড দিতে পারে না। পরমহংস হচ্ছেন তাঁরা, যাঁদের জড় সুখভোগের প্রতি কোন আসক্তি নেই এবং যাঁরা সর্বদা ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের মধুন পান করেন। হে দূতগণ, যারা সেই পরমহংসদের সঙ্গ করে না, যাদের সেই মধুপানে কোন রকম স্পৃহা নেই এবং যারা নরকের দ্বারস্বরূপ গৃহস্থ-জীবন এবং জড় সুখভোগের প্রতি আসক্ত, তাদেরই আমার কাছে দণ্ডদানের জন্য আনয়ন করো। হে ভৃত্যগণ, সেই সমস্ত পাপীদেরই আমার কাছে নিয়ে এসো, যাদের জিহ্বা শ্রীকৃষ্ণের নাম, গুণ ইত্যাদি কীর্তন করে না, যাদের চিত্ত একবারও শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্ম স্মরণ করে না এবং যাদের মস্তক একবারও শ্রীকৃষ্ণের চরণে প্রনত হয় না। আর যারা মনুষ্য জীবনের একমাত্র কর্তব্য শ্রীবিষ্ণুর ব্রত অনুষ্ঠান করে না, তাদেরও আমার কাছে নিয়ে এসো।”
(তারপর যমরাজ নিজেকে এবং তাঁর ভৃত্যদের অপরাধী বলে মনে করে, ভগবানের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করে বললে।)“হে ভগবান্, অজামিলের মতো একজন বৈষ্ণবকে গ্রেপ্তার করে আমার ভৃত্যরা অবশ্যই এক মহা অপরাধ করেছে। হে নারায়ন, হে পুরাণ পুরুষ, দয়া করে আপনি আমাদের ক্ষমা করুন। অজ্ঞানতাবশত আমরা অজামিলকে আপনার ভৃত্য বলে চিনতে পারিনি এবং তার ফলে আমরা অবশ্যই এক মহা অপরাধ করেছি। তাই কৃতাঞ্জলিপুটে আমরা আপনার ক্ষমা ভিক্ষা করছি। হে ভগবান্, যেহেতু আপনি পরম দয়ালু এবং সমস্ত সদ্‌গুণ সমন্বিত, তাই দয়া করে আপনি আমাদের ক্ষমা করুন। আমরা আপনার প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে কুরুনন্দন, ভগবানের নাম-সংকীর্তন গুরুতর পাপ-সমূহকেও সমূলে উচ্ছেদ করতে পারে। তাই সেই নাম-সংকীর্তনই সমগ্র জগতের মঙ্গলস্বরূপ। তা অবগত হওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে অন্যেরাও নিষ্ঠা সহকারে সেই পন্থা অবলম্বন করে। নিরন্তর ভগবানের পবিত্র নাম এবং তাঁর কার্যকলাপ শ্রবণ ও কীর্তন করার ফলে অনায়াসেই শুদ্ধ ভক্তির উদয় হয়, যা হৃদয়ের সমস্ত কলুষ বিধৌত করে। তা যেভাবে অন্তঃকরণকে বিশুদ্ধ করে, ব্রত আদি বৈদিক কর্মকাণ্ডের অনুষ্ঠান তা পারে না। নিরন্তর শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের মধুপানরত ভক্তেরা প্রকৃতির তিন গুণের অধীনে সম্পাদিত দুঃখ-দুর্দশা প্রদানকারী জড়-জাগতিক কার্যকলাপে কখনও আসক্ত হন না। তাঁরা কখনও শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্ম ত্যাগ করে জড়-জাগতিক কার্যকলাপে রত হন না। কিন্তু, যারা বৈদিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠানের প্রতি আসক্ত, তারা ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের সেবায় অবহেলা করার ফলে, কাম-বাসনার দ্বারা মোহিত হয়ে কখনও কখনও প্রায়শ্চিত্ত করে। কিন্তু তা সত্তেবও, তাদের হৃদয় পূর্ণরূপে শুদ্ধ না হওয়ার ফলে, তারা পুনরায় সেই পাপকর্মে লিপ্ত হয়। যমদূতেরা তাদের প্রভুর মুখে ভগবানের এবং তাঁর নাম, যশ ও গুণাবলীর মহিমা শ্রবণ করে অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিল। তখন থেকে তারা ভগবদ্ভক্তদের দর্শন করা মাত্রই তাঁদের প্রতি পুনরায় দৃষ্টিপাত পর্যন্ত করতেও ভয় করে। কুম্ভ-উদ্ভুত মহর্ষি অগস্ত্য যখন মলয় পর্বতে অবস্থান করে ভগবানের আরাধনায় রত ছিলেন, তখন তিনি আমাকে এই অত্যন্ত গোপনীয় ইতিহাস বলেছিলেন।”

Leave a Reply

November 2025
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Blog Stats

  • 140,963 hits