ব্রহ্মজ্ঞানী জড় ভরত বললেন- “হে মহারাজ রহূগণ, জীব এই দুস্তর সংসার মার্গে ভ্রমণ করে এবং বার বার জন্ম ও মৃত্যু বরণ করে। জড়া প্রকৃতির সত্ত্ব, রজ এবং তমোগুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, সে মায়ার দ্বারা আচ্ছন্ন হয় এবং তিন প্রকার কর্মের ফলই কেবল দর্শন করে। সেই ফলগুলি হচ্ছে, শুভ, অশুভ এবং মিশ্র। এইভাবে সে ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সে একটি বণিকের মতো দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে এবং লাভের আমায় বস্তু সংগ্রহের জন্য অরণ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু এই জড় জগতে সে প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারে না।”
“হে মহারাজ রহূগণ, এই সংসার-অরণ্যে ছয়টি অত্যন্ত প্রবল দস্যু রয়েছে। বদ্ধ জীব যখন জাগতিক লাভের জন্য অরণ্যে প্রবেশ করে, তখন এই ছয়টি দস্যু তাকে বিপথে পরিচালিত করে। এইভাবে বণিকরূপী বদ্ধ জীবকে বিভ্রান্ত করে সেই দস্যুরা তার অর্থ অপহরণ করে। বাঘ, শৃগাল এবং অন্যান্য হিংস্র পশু যেমন রক্ষকের আশ্রয় থেকে একটি মেষকে হরণ করে, ঠিক তেমনই পত্নী এবং সন্তান সেই বণিকের হৃদয়ে প্রবেশ করে নানাভাবে তাকে লুন্ঠন করে। এই বনে অসংখ্য তৃণ, গুল্ম ও লতার দ্বারা আচ্ছন্ন গহ্বর রয়েছে। সেই সমস্ত গহ্বরে বদ্ধ জীব সর্বদা মশক সদৃশ দুর্জনদের উপদ্রবে পীড়িত হয়। কখনও কখনও সে সেই অরণ্যে এক অলীক প্রাসাদ দর্শন করে এবং কখনও কখনও সে আকামে উল্কার মতো পিশাচদের দর্শন করে বিভ্রান্ত হয়।”
“হে রাজন্, এই সংসার-অরণ্যের পথে গৃহ, ধন, আত্মীয়-স্বজন প্রভৃতির দ্বারা বিভ্রান্তচিত্ত সেই বণিক এই সংসার-অরণ্যে সাফল্য লাভের আশায় ইতস্তত ধাবমান হয়। কখনও তার চক্ষু ঘূর্ণিবায়ুর ধূলিতে আচ্ছাদিত হয় অর্থাৎ, তার পত্নীর রূপে মোহিত হয়ে, বিশেষ করে তার রজস্বলা অবস্থায়, সে কামান্ধ হয়। এইভাবে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে, সে যে কোথায় যাচ্ছে এবং কি করছে তা সে দেখতে পায় না। ভবাটবীতে ভ্রমণ করতে করতে বদ্ধ জীব অদৃশ্য ঝিল্লীর কঠোর শব্দ শুনতে পায় এবং তার ফলে তার কর্ণশূল উপস্থিত হয়। কখনও কখনও পেঁচার কর্কশ শব্দে তার হৃদয় ব্যথিত হয়, যা হচ্ছে তার শত্রুদের কঠোর দুরুক্তি। ক্ষুধার্ত হয়ে সে কখনও কখনও এমন বৃক্ষের আশ্রয় গ্রহণ করে যাতে কোন ফল বা ফুল হয় না এবং তার ফলে সে কষ্টভোগ করে। তৃষ্ণার্ত হয়ে সে জলের আশায় মরীচিকার পিছনে ধাবিত হয়। বদ্ধ জীব কখনও কখনও অগভীর নদীর জলে ঝাঁপ দেওয়ার ফলে দুঃখ পায়, অথবা অন্নাভাবে নির্দয় ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অন্ন ভিক্ষা করে। কখনও কখনও সে সংসার-দাবনলে দগ্ধ হয় এবং কখনও কখনও যক্ষসদৃশ রাজারা কর গ্রহণের নামে যখন তার প্রাণতুল্য ধনসম্পদ অপহরণ করে, তখন সে দুঃখে ম্রিয়মান হয়। কখনও কখনও ঊর্ধ্বতন বা অধিক বলবান ব্যক্তি জীবের সমস্ত ধন-সম্পদ হরণ করে নেয়। তখন সে অত্যন্ত বিষাদগ্রস্ত হয়ে তার সেই হারানো ধন-সম্পদের জন্য শোক করতে করতে মূর্ছিত হয়ে পড়ে। কখনও কখনও সে এক বিশাল প্রাসাদ-নগরীর কল্পনা করে এবং তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিয়ে সেখানে সুখে বাস করার বাসনা করে। তা যদি সম্ভব হয়, তাহলে সে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সুখী বলে মনে করে, কিন্তু সেই তথাকথিত সুখ কেবল ক্ষণিকের জন্যই। কখনও কখনও সেই বনিক পাহাড়-পর্বতে আরোহণ করতে চায়, কিন্তু উপযুক্ত পাদুকার অভাবে তার পা কাঁটা ও কাঁকরে বিদ্ধ হয়। তখন সে অত্যন্ত ব্যথিত হয়। কুটুম্বাসক্ত ব্যক্তি কখনও কখনও ক্ষুধায় পীড়িত হয় এবং তার সেই দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার ফলে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সে ক্রুদ্ধ হয়। ভবাটবীতে বদ্ধ জীবাত্মাকে কখনও কখনও অজগর সর্প গিলে ফেলে। তখন সে মৃত ব্যক্তির মতো অচেতন এবং অজ্ঞান অবস্থায় বনের মধ্যে পড়ে থাকে। কখনও অন্যান্য বিষধর সর্পেরা তাকে দংশন করে। বিবেকরহিত হওয়ার ফলে সে নারকীয় জীবনে অন্ধকূপে পতিত হয়, যেখানে উদ্ধার পাওয়ার কোন আশা তার থাকে না। কখনও কখনও অতি নগণ্য রতিসুখ উপভোগের জন্য সে অসতী রমণীয় অন্বেষণ করে। তার সেই প্রচেষ্টায় সে সেই রমণীর আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারা অপমানিত এবং নির্যাতিত হয়। তার সেই প্রচেষ্টা ঠিক মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে মৌমাছিদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার মতো। কখনও কখনও বহু অর্থ ব্যয় করে সে রতিসুখের জন্য সে পরদার লাভ করে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার ইন্দ্রিয়সুখের বস্তু সেই রমণীটিকে অন্য কোন লম্পট বলপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। কখনও কখনও জীব হাড়কাঁপানো শীত, প্রচণ্ড গরম, প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদি প্রাকৃতিক উৎপাতের প্রতিকার করার কার্যে ব্যস্ত থাকে। যখন সে তার করতে অক্ষম হয়, তখন সে প্রচণ্ড কষ্টভোগ করে। কখনও কখনও ব্যবসা বানিজ্যে সে অন্যের দ্বারা বঞ্চিত হয়। এইভাবে পরস্পরকে বঞ্চনা করার চেষ্টার ফলে তাদের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। সংসার অরণ্যের পথে মানুষ কখনও ধনহীন হয়ে যায় এবং তার ফলে তার উপযুক্ত ঘর, বিছানা বা আসন থাকে না এবং সে যথাযথভাবে পারিবারিক সুখ উপভোগ করতে পারে না। তাই সে অন্যদের কাছ থেকে অর্থ ভিক্ষা করতে যায়, কিন্তু ভিক্ষার ফলে যখন তার বাসনা পূর্ণ হয় না, তখন সে ঋণ করতে চায় অথবা পরের সম্পদ অপহরণ করতে চায়। এইভাবে সে সমাজে অপমানিত হয়। আর্থিক লেনদেনের ফলে সম্পর্ক তিক্ত হয় এবং চরমে শত্রুতায় পরিণত হয়। কখনও কখনও পতি-পত্নী জাগতিক উন্নতির পথে অগ্রসর হয় এবং তাদের সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখার জন্য তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কখনও কখনও অর্থাভাবের ফলে অথবা রোগগ্রস্ত হওয়ার ফলে তারা অত্যন্ত বিপন্ন হয়ে মরণাপন্ন হয়।”
“হে রাজন্, সংসার-অরণ্যের মার্গে মানুষ প্রথমে তার পিতা-মাতাকে হারায়। তাদের মৃত্যুর পর সে তার নবজাত সন্তান-সন্ততির প্রতি আসক্ত হয়। এইভাবে সে জড়-জাগতিক উন্নতির পথে বিচরণ করে এবং কালক্রমে বিপন্ন হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও, অন্তিম সময় পর্যন্ত সে বুঝতে পারে না কিভাবে এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া যায়। এমন অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক বীর ছিল এবং রয়েছে যারা সমান শক্তিশালী শত্রুদের পরাভূত করেছে, কিন্তু তবুও অজ্ঞানতাবশত কোন নির্দিষ্ট ভূখণ্ডকে তাদের নিজের সম্পত্তি বলে মনে করে, তার উপর অধিকার বিস্তার করার জন্য তারা পরস্পরের সঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে। মহাবীর অথবা বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা হওয়া সত্ত্বেও, সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীরা যে পরম পদ প্রাপ্ত হন, অধ্যাত্ম উপলদ্ধির সেই পথ তারা অবলম্বন করতে পারে না। কখনও কখনও জীব সংসাররূপী অরণ্যে লতার আশ্রয় অবলম্বন করে এবং সেই লতাশ্রিত বিহঙ্গকুলের কলধ্বনি শ্রবণ করার বাসনা করে। সেই অরণ্যে সিংহের গর্জনে ভীত হয়ে, সে বক, সারস এবং শকুনির সঙ্গে সখ্য স্থাপন করে। এই সংসার-অরণ্যে তথাকথিত যোগী, স্বামী এবং অবতারদের কাছে বঞ্চিত হয়ে, তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে জীব প্রকৃত ভক্তের সান্নিধ্য লাভ করতে চায়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে তার গুরুদেব বা মহাভাগবতের নির্দেশ পালন করতে পারে না; এবং তাই সে তাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করে পুনরায় স্ত্রীসঙ্গে ইন্দ্রিয়সুখ পরায়ণ বানরদের সান্নিধ্যে ফিরে যায়। ইন্দ্রিয়সুখ পরায়ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মদ এবং মৈথুনের আনন্দ উপভোগ করে সে সুখী হতে চায়। এইভাবে সে তার জীবনের অপচয় করে। অন্যান্য ইন্দ্রিয়সুখ পরায়ণ ব্যক্তিদের মুখ দর্শন করে, সে তার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বিস্মৃত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। জীব যখন একটি বানরের মতো এক ডাল থেকে আর এক ডালে লাফালাফি করে বৃক্ষসদৃশ গৃহে কেবল মৈথুন-সুখের জন্য জীবনযাপন করে, তখন সে একটি গর্দভের মতো তার স্ত্রীর পদাঘাতে তাড়িত হয়। সেই বন্ধন থেকে মুক্তি লাভে অক্ষম হয়ে, সে অসহায়ের মতো পড়ে থাকে। কখনও কখনও সে দুরারোগ্য ব্যাধির দ্বারা আক্রান্ত হয়, যার তুলনা করা হয়েছে পর্বত-কন্দরে পতিত হওয়ার সঙ্গে। সেই পর্বত-গহ্বরে অবস্থিত হস্তীসদৃশ মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে, সে লতাবল্লী অবলম্বন করে অবস্থান করে।”
“হে শত্রুহন্তা মহারাজ রহূগণ, জীবাত্মা যদি কোনক্রমে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিত থেকে মুক্ত হয়, তবুও সে পুনরায় মৈথুনসুখ উপভোগ করার জন্য তার গৃহে ফিরে যায়, কারণ সেটিই হচ্ছে আসক্তির রীতি। এইভাবে ভগবানের মায়াশক্তির দ্বারা মোহিত হয়ে, জীব সংসার-অরণ্যে বিচরণ করতে থাকে। মৃত্যুর সময় পর্যন্ত সে তার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজে পায় না। হে মহারাজ রহূগণ, আপনি জড় সুখভোগের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মায়ার শিকার হয়েছেন। তাই আমি আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি, আপনি আপনার রাজপদ এবং রাজদণ্ড পরিত্যাগ করুন যাতে আপনি সমস্ত জীবের সুহৃৎ হতে পারেন। বিষয়াসক্তি ত্যাগ করে আপনি ভগবদ্ভক্তির দ্বারা শাণিত জ্ঞানরূপ তরবারি গ্রহণ করুন এবং তার দ্বারা মায়াপাশ ছিন্ন করে ভবসাগরের পরপারে গমন করুন।”
মহারাজ রহূগণ বললেন- “এই মনুষ্যজন্ম সমস্ত জন্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। স্বর্গলোকে দেবজন্মও এই পৃথিবীতে মনুষ্য-জন্মের মতো উৎকৃষ্ট নয়। অতএব দেবত্ব লাভের কি প্রয়োজন? স্বর্গলোকে প্রচুর সুখভোগের সুযোগ থাকার ফলে ভগবদ্ভক্তের সঙ্গলাভ সম্ভব হয় না। আপনার শ্রীপাদপদ্মের ধূলির দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ার ফলে জীব যে অধোক্ষজ ভগবানের প্রতি ব্রহ্মারও দুর্লভ শুদ্ধ ভক্তি লাভ করেন, তা মোটেই আশ্চর্যজনক নয়। মুহূর্ত মাত্র আপনার সঙ্গ করার ফলে, আমি এখন সমস্ত কুতর্ক, অহঙ্কার এবং অবিবেক থকে মুক্ত হয়েছি, যা জড় জগতের বন্ধনের মূল কারণ। আমি এখন এই সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্ত হয়েছি। আমি সেই মহাপুরুষদের সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি, যাঁরা এই ধরাতলে শিশু, বালক, অবধূত অথবা মহান ব্রাহ্মণরূপে বিচরণ করেন। যদিও তাঁরা বিভিন্ন বেশে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখেন, তবুও আমি তাঁদের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। তাঁদের কৃপায়, অপরাধী রাজন্যবর্গের মঙ্গল হোক।”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে উত্তরা-তনয় মহারাজ পরীক্ষিৎ, মহারাজ রহূগণ জড় ভরতকে দিয়ে তাঁর শিবিকা বহন করিয়ে অপমান করেছিলেন বলে, জড় ভরতের মনে কিঞ্চিত অসন্তোষের তরঙ্গ উত্থিত হয়েছিল, কিন্তু জড় ভরত তা উপেক্ষা করেছিলেন এবং তাঁর হৃদয় পুনরায় সমুদ্রের মতো প্রশান্ত হয়েছিল। মহারাজ রহূগণ যদিও তাঁকে অপমান করেছিলেন, তবুও তিনি যেহেতু ছিলেন একজন পরমহংস, তাই তিনি তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হননি। বৈষ্ণব হওয়ার ফলে, স্বভাবতই তিনি অত্যন্ত সদয় হৃদয় ছিলেন এবং তাই কৃপাপূর্বক তিনি তাঁকে আত্মতত্ত্বজ্ঞান প্রদান করেছিলেন। তারপর মহারাজ রহূগণ যখন তাঁর শ্রীপাদপদ্মে কাতরভাবে ক্ষমাভিক্ষা করেন, তখন তিনি সেই অপমানের কথা সম্পূর্ণরূপে ভুলে গিয়েছিলেন। তারপর তিনি পূর্বের মতো সমগ্র পৃথিবী পর্যটন করতে শুরু করেছিলেন। মহাভাগবত জড় ভরতের কাছ থেকে উপদেশ প্রাপ্ত হওয়ার পর, সৌবীরপতি মহারাজ রহূগণ সর্বতোভাবে আত্মার স্বরূপ উপলব্ধি করেছিলেন। তার ফলে তিনি সম্পূর্ণরূপে দেহাত্মবুদ্ধি থেকে মুক্ত হয়েছিলেন। হে রাজন্, যিনি ভগবানের দাসের অনুদাসের শরণ গ্রহণ করেন, তিনি সত্যিই ধন্য কারণ তিনি অনায়াসে দেহাত্মবুদ্ধি ত্যাগ করতে পারেন।”
মহারাজ পরীক্ষিৎ তখন শুকদেব গোস্বামীকে বললেন- “হে প্রভু, হে মহাভাগবত, আপনি সর্বজ্ঞ। আপনি অরণ্যে বণিকের সঙ্গে তুলনা করে বদ্ধ জীবের অবস্থা অত্যন্ত সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। এই উপদেশ থেকে যে কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে, দেহাত্মবুদ্ধি সমন্বিত মানুষের ইন্দ্রিয়গুলি সেই অরণ্যে দস্যু-তস্করদের মতো এবং তার পত্নী এবং সন্তান-সন্ততিরা ঠিক শৃগাল-কুকুরাদি হিংস্র পশুর মতো। কিন্তু, অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের পক্ষে এই কাহিনীর তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করা সহজ নয়, কারণ এই রূপকের প্রকৃত অর্থ নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন। আমি তাই আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, দয়া করে তার প্রকৃত অর্থ আপনি আমাদের কাছে ব্যক্ত করুন।”
ত্রয়োদশ অধ্যায়- রাজা রহূগণের প্রতি জড় ভরতের অতিরিক্ত উপদেশ
09 Oct 2025 Leave a comment
in অমল পুরান, পঞ্চম স্কন্ধ- কর্মবাসনা