দ্বাদশ অধ্যায়- কুমার ও অন্যান্যদের সৃষ্টি

মৈত্রেয় ঋষি বললেন- “হে অভিজ্ঞ বিদুর! এতক্ষণ আমি আপনার কাছে পরমেশ্বর ভগবানের কাল নাম রূপের মহিমা বর্ণনা করলাম। এখন আপনি আমার কাছে বেদগর্ভ ব্রহ্মার সৃষ্টি সম্বন্ধে শ্রবণ করুন।”
“ব্রহ্মা প্রথমে জীবের স্বরূপের অপ্রকাশক তম, দেহাদিতে অহংবুদ্ধি এবং মোহ ও ভোগের ইচ্ছা, তামিস্র বা ভোগেচ্ছার বাধা থেকে ক্রোধের সঞ্চার, অন্ধতামিস্র বা ভোগ্যবস্তুর নাশে আমার মৃত্যু ঘটল এইরূপ বুদ্ধি- এই সমস্ত এবং অন্যান্য অজ্ঞান বৃত্তিসমূহ সৃষ্টি করেছিলেন। এই প্রকার ভ্রমোৎপাদক সৃষ্টিকে পাপীয়সী কৃত্য বলে দর্শন করে, ব্রহ্মা তাঁর কার্যকলাপে অধিক আনন্দ অনুভব করেননি এবং তাই তিনি ভগবানের ধ্যান করার মাধ্যমে তাঁর অন্তঃকরণ নির্মল করে অন্যান্য সৃষ্টি শুরু করেছিলেন। প্রথমে ব্রহ্মা সনক, সনন্দ, সনাতন ও সনৎকুমার নামক চারজন মহর্ষিকে সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁরা সকলেই ছিলেন ঊর্ধ্বরেতা এবং তাই তাঁরা জড়জাগতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে অনিচ্ছুক ছিলেন। ব্রহ্মা তাঁর পুত্রদের সৃষ্টি করে তাঁদের বললেন, ‘হে পুত্রগণ! এখন তোমরা প্রজা সৃষ্টি কর।’ কিন্তু পরমেশ্বর ভগবান বাসুদেবের প্রতি ভক্তিপরায়ণ হওয়ার ফলে, মোক্ষধর্মনিষ্ঠা কুমারেরা সেই কার্যে তাঁদের অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন। তাঁদের পিতার আদেশ পালন করতে অস্বীকার করার ফলে, ব্রহ্মার অন্তরে দুর্বিষহ ক্রোধ উৎপন্ন হয়েছিল, যা তিনি তখন সংবরণ করতে চেষ্টা করেছিলেন। যদিও তিনি তাঁর ক্রোধ সংবরণ করার চেষ্টা করেছিলেন, তবুও তা তাঁর ভ্রূর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং তৎক্ষণাৎ নীল-লোহিত বর্ণের একটি শিশু উৎপন্ন হয়েছিল। তাঁর জন্মের পর তিনি ক্রন্দন করতে করতে বলতে লাগলেন- ‘হে বিধাতা! হে জগদ্‌গুরু! দয়া করে আপনি আমার নাম ও স্থানসমূহ নির্দেশ করে দিন।’ পদ্মযোনি ভগবান ব্রহ্মা তখন মৃদু বাক্যের দ্বারা সেই বালকটিকে শান্ত করেন এবং তাঁর অনুরোধ স্বীকার করে বললেন- ‘ক্রন্দন করো না। তুমি যা চেয়েছ তা আমি অবশ্যই করব।’ তারপর ব্রহ্মা বললেন- ‘হে সুরশ্রেষ্ঠ! যেহেতু তুমি উৎকন্ঠিত হয়ে ক্রন্দন করেছ, তাই প্রজাসমূহ তোমাকে রুদ্র নামে অভিহিত করবে। হে পুত্র! হৃদয়, ইন্দ্রিয়, প্রাণবায়ু, আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র ও তপস্যা- এই সমস্ত স্থান আমি পূর্বেই তোমার জন্য নির্ধারিত করে রেখেছি। ব্রহ্মা বললেন- হে প্রিয় কুমার রুদ্র! তোমার এগারটি আরও নাম রয়েছে, সেইগুলি হচ্ছে- মন্যু, মনু, মহিনস, মহান, শিব, ঋতধ্বজ, ঋগ্ররেতা, ভব, কাল, বামদেব ও ধৃতব্রত। হে রুদ্র! রুদ্রাণী নামক তোমার একাদশ পত্নীও রয়েছে এবং তাঁদের নাম হচ্ছে ধী, ধৃতি, রসলা, উমা, নিযুৎ, সর্পি, ইলা, অম্বিকা, ইরাবতী, স্বধা ও দীক্ষা। হে প্রিয় কুমার! এখন তুমি তোমার এবং তোমার বিভিন্ন পত্নীদের জন্য এই সমস্ত নাম এবং নির্দিষ্ট স্থান স্বীকার কর এবং যেহেতু তুমি একজন প্রজাপতি, তাই তুমি বহু প্রজা সৃষ্টি কর।’ সবচাইতে শক্তিশালী রুদ্র যাঁর দেহের বর্ণ নীল ও লাল রঙের মিশ্রণ, তিনি তাঁরই মতো আকৃতি, শক্তি ও উগ্র স্বভাবসম্পন্ন বহু সন্তান-সন্ততি সৃষ্টি করেছিলেন। রুদ্র থেকে সৃষ্ট তাঁর অসংখ্য পুত্র এবং পৌত্রগণ সমবেত হয়ে জগৎ গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন প্রজাপতি ব্রহ্মা সেই পরিস্থিতি দর্শন করে ভয়ভীত হয়েছিলেন। ব্রহ্মা রুদ্রকে বললেন, – ‘হে সুরশ্রেষ্ঠ! এই প্রকার প্রজা সৃষ্টি করার কোন প্রয়োজন নেই। তারা তাদের চক্ষুনির্গত প্রজ্বলিত অগ্নির দ্বারা দিকসমূহ ধ্বংস করতে শুরু করেছে এবং তারা আমাকে পর্যন্ত আক্রমণ করেছে। হে পুত্র! তুমি তপস্যার অনুষ্ঠান কর, যা নিখিল জীবের পক্ষে মঙ্গলকর এবং যা তোমারও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ-সাধন করবে। তপস্যার প্রভাবেই পূর্ব কল্পের মতো তুমি এই বিশ্ব সৃষ্টি করতে পারবে। তপস্যার দ্বারাই কেবল পরমেশ্বর ভগবানের সমীপবর্তী হওয়া যায়, যিনি সকলের হৃদয়ে বিরাজমান হওয়া সত্ত্বেও ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধির অতীত।’ ”
শ্রীমৈত্রেয় বললেন- “এইভাবে ব্রহ্মা কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে, রুদ্র তাঁর বেদপতি ব্রহ্মাকে প্রদক্ষিণ করে, তাঁর নির্দেশ অনুসারে তপস্যা করার জন্য বনে প্রবেশ করলেন। পরমেশ্বর ভগবানের শক্তিতে আবিষ্ট ব্রহ্মা প্রজার সৃষ্টির ব্যাপারে চিন্তা করে, সন্তান-সন্ততি বিস্তার করার জন্য দশটি পুত্র উৎপাদন করেছিলেন। মরীচি, অত্রি, অঙ্গিরা, পুলস্ত্য, পুলহ, ক্রতু, ভৃগু, বশিষ্ঠ, দক্ষ ও দশম পুত্র নারদ এইভাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ব্রহ্মার শরীরের সর্বশ্রেষ্ঠ অঙ্গ দিব্য ভাবনা থেকে নারদের জন্ম হয়েছিল। বশিষ্ঠের জন্ম হয়েছিল তাঁর নিঃশ্বাস থেকে, দক্ষ তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি থেকে, ভৃগু তাঁর ত্বক থেকে এবং ক্রতু তাঁর হস্ত থেকে। পুলস্ত্য কান থেকে, অঙ্গিরা মুখ থেকে, অত্রি নেত্র থেকে, মরীচি মন থেকে এবং পুলহ ব্রহ্মার নাভি থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন। ব্রহ্মার যে স্তনে পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণ অবস্থান করেন, সেখান থেকে ধর্ম উৎপন্ন হয়েছিল এবং অধর্ম তাঁর পৃষ্টদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এই অধর্ম থেকে লোকের ভয়াবহ মৃত্যু সংঘটিত হয়। কাম ও বাসনা ব্রহ্মার হৃদয় থেকে উদ্ভুত হয়েছে, ক্রোধ তাঁর ভ্রূযুগলের মধ্য থেকে, লোভ তাঁর অধরের মধ্য থেকে, বাণী তাঁর মুখ থেকে, সমুদ্র তাঁর শিশ্ন থেকে, সমস্ত পাপের উৎস সব রকম জঘন্য কার্যকলাপ তাঁর মলদ্বার থেকে উৎপন্ন হয়েছে। মহিমাময়ী দেবহূতির পতি মহর্ষি কর্দম ব্রহ্মার ছায়া থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন। এইভাবে জগতের সমস্ত বস্তু ব্রহ্মার শরীর অথবা মন থেকে উৎপন্ন হয়েছে।”
“হে বিদুর! আমরা শুনেছি যে, ব্রহ্মার বাক্ নাম্নী এক কন্যা ছিলেন, যিনি তাঁর শরীর থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন। ব্রহ্মা কামে উন্মত্ত হয়ে তাঁকে অভিলাষ করেছিলেন, কিন্তু সেই কন্যা নির্বিকারা ছিলেন। মরীচি প্রমুখ ব্রহ্মার পুত্রেরা এইভাবে তাঁদের পিতাকে বিভ্রান্ত হয়ে অনৈতিক আচরণ করতে দেখে, গভীর শ্রদ্ধা সহকারে তাঁকে বললেন- ‘হে পিতা! এই প্রকার কর্ম যার ফলে আপনি নিজেকে সমস্যাগ্রস্ত করছেন, তা পূর্বে কোন ব্রহ্মা কখনও করেননি, অন্য কেউ করেনি, অথবা পূর্ব কল্পে আপনিও করেননি এবং ভবিষ্যতেও কেউ তা করতে সাহস করবে না। এই ব্রহ্মান্ডে আপনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী, তাহলে কিভাবে আপনি আপনার কন্যার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে চান এবং অপনার সেই বাসনাকে সংযত করতে পারেন না? আপনি যদিও সবচাইতে শক্তিশালী ব্যক্তি, তবুও এই আচরণ আপনার শোভা পায় না কেননা পারমাথিক উন্নতি সাধনের জন্য জনগণ আপনর চরিত্রের অনুসরণ করে। আমরা পরমেশ্বর ভগবানকে আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি, যিনি আত্মস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বীয় জ্যোতির দ্বারা এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন। সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য তিনি যেন দয়া করে ধর্মকে রক্ষা করেন।’ প্রজাপতিদের পিতা ব্রহ্মা তাঁর পুত্র সমস্ত প্রজাপতিদের এইভাবে বলতে দেখে অত্যন্ত লজ্জিত হয়েছিলেন এবং তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর শরীর ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর সেই শরীর তখন সর্বদিকে অন্ধকারে ভয়ঙ্কর কুজ্‌ঝটিকারূপে প্রকাশিত হয়েছিল।”
“কোন এক সময়, যখন ব্রহ্মা চিন্তা করেছিলেন, কিভাবে তিনি বিগত কল্পের মতো বিশ্ব সৃষ্টি করবেন, তখন তাঁর চার মুখ থেকে বিবিধ জ্ঞান সমন্বিত চতুর্বেদ প্রকাশিত হয়েছিল। অগ্নিহোত্র যজ্ঞের চার প্রকার উপকরণ- যজমান (মন্ত্রগায়ক), হোতা অগ্নি এবং উপবেদের নির্দেশ অনুসারে সম্পাদিত কর্ম প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর ধর্মের চারটি তত্ত্ব (সত্য, তপ, দয়া ও শৌচ) এবং চারটি বর্ণের কর্তব্য সব কিছুই প্রকাশিত হয়।”
বিদুর বললেন- “হে তপোধন মহর্ষি! দয়া করে আপনি আমার কাছে বিশ্লেষণ করুন, কিভাবে এবং কার সাহায্যে ব্রহ্মা তাঁর মুখনিঃসৃত বৈদিক জ্ঞান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
মৈত্রেয় বললেন- “ব্রহ্মার পূর্বাদি মুখ থেকে যথাক্রমে ঋক্, যজু, সাম ও অথর্ব এই চারটি বেদ প্রকাশিত হয়। তারপর, পূর্বে অনুচ্চারিত বৈদিক মন্ত্র ইজ্যা (পৌরোহিত্য), স্ততিস্তোমের প্রতিপাদ্য বিষয়, প্রায়শ্চিত্ত (চিন্ময় কার্যকলাপ) ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান, যুদ্ধকলা, সঙ্গীতকলা ও স্থাপত্য বিজ্ঞান- এই সমস্ত বেদ থেকে রচনা করেছিলেন। এইগুলি তাঁর পূর্ব মুখ থেকে শুরু করে একে একে প্রকাশিত হয়েছিল। যেহেতু তিনি সমগ্র অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দর্শন করতে পারেন, তাই তিনি তাঁর সমস্ত মুখ থেকে পঞ্চম বেদ- পুরাণ ও ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। বিভিন্ন প্রকারের যজ্ঞ (ষোড়সী, উক্‌থ, পুরীষি, অগ্নিষ্টোম, আপ্তোর্যাম, অতিরাত্র, বাজপেয় ও গোসব) ব্রহ্মার পূর্ব মুখ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বিদ্যা, দান, তপশ্চর্যা ও সত্য- এইগুলিকে ধর্মের চারটি পা বলা হয় এবং সেইগুলি জানবার জন্য জীবনের চারটি আশ্রম এবং বৃত্তি অনুসারে চারটি বর্ণবিভাগ রয়েছে। ধারাবাহিক ক্রম অনুসারে ব্রহ্মা সেইগুলি সৃষ্টি করেছেন। তারপর সাবিত্র বা দ্বিজনের উপনয়ন সংস্কার, প্রাজাপত্য বা বর্ষব্যাপী ব্রত অবলম্বন, ব্রাহ্ম বা বেদ গ্রহণ, বৃহদ্‌ব্রত বা আমরণ নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচর্য, বার্তা বা বৈদিক নির্দেশ অনুসারে জীবিকা- নির্বাহ, সঞ্চয় যা যাজনাদি বৃত্তি, শালীন বা অযাচিত বৃত্তি এবং শিলোঞ্ছ বা পরিত্যক্ত শস্য সংগ্রহের দ্বারা জীবিকা-নির্বাহ- এই সমস্ত গৃহের কর্তব্যসমূহ ব্রহ্মা সৃষ্টি করলেন। বানপ্রস্থ আশ্রমের চারটি বিভাগ হচ্ছে- বৈখানস, বালখিল্য, ঔদুম্বর ও ফেনপ। সন্ন্যাস আশ্রমের চারটি বিভাগ হচ্ছে- কুটীচক, বহ্বোদক, হংস ও নিষ্ক্রিয়। এইগুলি ব্রহ্মার থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। তর্কবিদ্যা, বেদ-নির্ধারিত জীবনের লক্ষ্য, আইন-শৃঙ্খলা, নীতিশাস্ত্র এবং প্রসিদ্ধ মন্ত্র ভূঃ, ভুবঃ ও স্বঃ, এই সবই ব্রহ্মার মুখ থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রণব ওঁকার প্রকাশিত হয়েছে তাঁর হৃদয় থেকে। তারপর সর্বশক্তিমান প্রজাপতির দেহের লোম থেকে উষ্ণিক্ নামক বৈদিক ছন্দ, ত্বক থেকে প্রধান বৈদিক মন্ত্র গায়ত্রী, মাংস থেকে ত্রিষ্টুপ্, স্নায়ু থেকে অনুষ্টুপ এবং অস্থি থেকে জগতী ছন্দ উৎপন্ন হয়েছে। পদ্য লেখার কলা বা পঙ্‌ক্তি তাঁর মজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং বৃহতী নামক আর এক প্রকার ছন্দ প্রজাপতির প্রাণ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। ব্রহ্মার আত্মা থেকে স্পর্শবর্ণ, দেহ থেকে স্বরবর্ণ, ইন্দ্রিয় থেকে উষ্মবর্ণ, বল থেকে অন্তঃস্থবর্ণ এবং তাঁর ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপ থেকে সঙ্গীতের সাতটি স্বর উদ্ভুত হয়েছে। শব্দ-ব্রহ্মের উৎসরূপে ব্রহ্মা পরমেশ্বর ভগবানের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি এবং তাই তিনি ব্যক্ত ও অব্যক্ত ধারণার অতীত। ব্রহ্মা হচ্ছেন পরম তত্ত্বের পূর্ণ প্রকাশ এবং তিনি বিবিধ শক্তি-সমন্বিত।”
“তারপর ব্রহ্মা অন্য আর একটি শরীর গ্রহণ করেছিলেন, যার মাধ্যমে যৌনজীবন নিষিদ্ধ ছিল না, এইভাবে তিনি সৃষ্টিকার্যে মনোনিবেশ করেছিলেন। হে কৌরব! ব্রহ্মা যখন দেখলেন যে মহাবীর্যবান ঋষিদের উপস্থিতি সত্তে¡ও জনসংখ্যা পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পেল না, তখন তিনি গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করলেন কিভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।”
ব্রহ্মা মনে মনে ভাবলেন- “আহা, কি আশ্চর্য! আমি সর্বদা সৃষ্টিকার্যে ব্যাপৃত রয়েছি, তবুও আমার প্রজাসমূহ বিস্তার লাভ করছে না। দৈব ছাড়া এই দুর্ভাগ্যের আর অন্য কোন কারণ নেই। এইভাবে তিনি যখন চিন্তামগ্ন ছিলেন এবং দৈবশক্তি নিরীক্ষণ করছিলেন, তখন তাঁর দেহ থেকে আরও দুইটি মূর্তি প্রকাশিত হয়েছিল। সেইগুলি ব্রহ্মার দেহ বলে প্রসিদ্ধ। সদ্য বিভক্ত দেহ দুটি যৌন সম্পর্কের দ্বারা যুক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে যিনি পুরুষ তিনি স্বায়ম্ভুব মনু নামে পরিচিত হন এবং যিনি স্ত্রী তিনি মহাত্মা মনুর মহিষী শতরূপা নামে পরিচিতা হয়েছিলেন। সেই সময় থেকে মৈথুন-ধর্মের দ্বারা প্রজাসমূহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে লাগল। হে ভারত! যথাসময়ে তিনি (মনু) শতরূপা থেকে পাঁচটি সন্তান প্রাপ্ত হয়েছিলেন- দুই পুত্র প্রিয়ব্রত ও উত্তানপাদ এবং তিনটি কন্যা আকূতি, দেবহূতি ও প্রসূতি। পিতা মনু তাঁর প্রথম কন্যা আকূতিকে রুচি নামক ঋষিকে দান করেন, মধ্যমা কন্যা দেবহূতিকে কর্দম নামক ঋষিকে দান করেন এবং কনিষ্ঠা কন্যা প্রসূতিকে দক্ষের নিকট দান করেন। তাঁদের থেকে সমগ্র জগৎ জনসংখ্যায় পূর্ণ হয়েছে।”

Leave a Reply

May 2025
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

Blog Stats

  • 140,943 hits