শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “এই শ্রীমদ্ভাগবতে ব্রহ্মান্ডের উৎপত্তি, উপসৃষ্টি, লোকসমূহের স্থিতি, ভগবান কর্তৃক পালন, কর্মবাসনা, মন্বন্তর, ভগবত্তত্ত্বজ্ঞান, ভগবদ্ধামে প্রত্যাবর্তন, মুক্তি এবং আশ্রয়- এই দশটি লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে। দশম তত্ত্বে (আশ্রয়ের) বিশুদ্ধ আলোচনার জন্য পূর্ব নয়টি লক্ষণ মহাত্মারা বৈদিক প্রমাণের দ্বারা কখনও বা সাক্ষাৎ বিশ্লেষণের দ্বারা, কখনও বা সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যাখ্যা করে বর্ণনা করেছেন। ষোড়স উপাদানের সৃষ্টি যথা- পঞ্চমহাভূত (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম), রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক এবং মন- এদের বলা হয় সর্গ। আর জড়া প্রকৃতির গুণের প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় বিসর্গ। ভগবানের সৃষ্টি বস্তুসমূহের মর্যাদা পালন দ্বারা যে উৎকর্ষ তার নাম ‘স্থিতি’; তাঁর ভক্তের প্রতি ভগবানের যে অনুগ্রহ, এর নাম ‘পোষণ’; তাঁর অনুগৃহীত মনুদের ভগবদুপাসনার নির্দেশ স্বরূপ ধর্মই ‘সদ্ধর্ম’; এই প্রকাশ ভিত্তিতে যে বহুবিধ কর্মবাসনা, তার নাম ‘ঊতি’। শ্রীহরির অবতারসমূহের অনুচরিত্র এবং তাঁর ভক্তদের নানাবিধ উপাখ্যান “ঈশকথা” বলে উক্ত হয়েছে। মহাবিষ্ণুর যোগনিদ্রার পর উপাধিসহ জীবদের যে শয়ন, তার নাম “নিরোধ”; মায়িক স্থূল-সূক্ষ্ণরূপ পরিহার করে শুদ্ধ স্বরূপে অবস্থানের নাম “মুক্তি”। যাঁর থেকে এই জগৎ প্রকাশিত হয় এবং যাঁর থেকে সৃষ্টি ও লয় হয়, তিনি পরম ব্রহ্ম বা পরমাত্মা বলে অভিহিত হন। তিনি আশ্রয়- তিনি পরম সত্য।”
“বিবিধ ইন্দ্রিয় সমন্বিত স্বতন্ত্র ব্যক্তিকে বলা হয় আধ্যাত্মিক পুরুষ, ইন্দ্রিয়সমূহের নিয়ন্ত্রণকারী দেবতাকে বলা হয় আধিদৈবিক পুরুষ এবং চক্ষুগোলকে দৃষ্ট ব্যক্তিকে বলা হয় আধিভৌতিক পুরুষ। জীবাত্মার উপরোক্ত তিনটি অবস্থা পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। একটির অনুপস্থিতিতে অন্যটির অস্তিত্ব উপলদ্ধি করা যায় না। কিন্তু পরমেশ্বর, যিনি সমস্ত আশ্রয়ের আশ্রয় হিসাবে সে সব কটি অবস্থই দর্শন করেন, তিনি সেগুলি থেকে স্বতন্ত্র, এবং তাই তিনি হচ্ছেন পরম আশ্রয়। বিভিন্ন ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করে সেই বিরাট পুরুষ (মহাবিষ্ণু), কারণ-সমুদ্র থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিটি ব্রহ্মান্ডে প্রবেশ করলেন এবং শয়ন করার ইচ্ছা করে দিব্য জল (গর্ভোদক) সৃষ্টি করলেন। পরমেশ্বর ভগবান নির্বিশেষ নন এবং তাই স্পষ্টভাবে তিনি নর বা পুরুষ। সেই পরম পুরুষ থেকে উদ্ভুত সেই দিব্য জলরাশি তাই নার বলে কথিত। যেহেতু তিনি সেই জলে শয়ন করেন তাই তার নাম নারায়ণ। নিজের সৃষ্ট সেই জলে তিনি হাজার হাজার বছর বাস করতে লাগলেন। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখা উচিত যে, সমস্ত দ্রব্য, কর্ম, কাল, স্বভাব এবং এই সবের ভোক্তা জীব কেবল তাঁর কৃপার প্রভাবেই বর্তমান, এবং তিনি উপেক্ষা করলে আর তাদের অস্তিত্ব থাকে না। পরমেশ্বর ভগবান বহু রূপে প্রকাশিত হতে ইচ্ছা করে যোগনিদ্রা থেকে উত্থিত হলেন এবং হিরন্ময় বীর্যকে মায়াশক্তির দ্বারা তিনভাগে বিভক্ত করলেন।”
ভগবানের শক্তি কিভাবে অধিদৈব, অধিআত্ম এবং অধিভূত এই তিনভাগে বিভক্ত হয়, তা আমার কাছে শ্রবণ কর। মহাবিষ্ণুর দিব্য শরীরের হৃদয়াকাশ থেকে ইন্দ্রিয়শক্তি, মনঃশক্তি ও দেহশক্তি উৎপন্ন হল। তারপর সমস্ত জীবনী শক্তির উৎসস্বরূপ প্রাণশক্তি উৎপন্ন হল। রাজার অনুচরেরা যেমন তাদের প্রভুর অনুগমন করে, তেমনই জীবদেহের ব্যষ্টি প্রাণসমূহ (ইন্দ্রিয়সমূহ) মুখ্য প্রাণের শক্তি দ্বারা চালিত হয়। মুখ্য প্রাণ নিশ্চেষ্ট হলে সমস্ত জীবদেহের ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপও স্তব্ধ হয়। প্রাণশক্তি কর্তৃক ক্ষোভিত হয়ে বিরাট পুরুষের ক্ষুধা এবং তৃষ্ণার উদ্রেক হয়, এবং যখন তিনি আহার ও পান করতে ইচ্ছা করেন তখন তাঁর মুখ বিকশিত হয়। মুখ থেকে তালু প্রকট হয় এবং তারপর জিহ্বা উৎপন্ন হয়। তারপর বিভিন্ন প্রকার স্বাদের উৎপত্তি হয় যাতে জিহ্বা তাদের আস্বাদন করতে পারে। পরমেশ্বর ভগবান যখন কথা বলতে ইচ্ছা করেছিলেন তখন তাঁর মুখ থেকে বাক্ (ইন্দ্রিয়) ও তার অধিষ্ঠাতৃ দেবতা অগ্নি প্রকাশিত হলেন। পরে তিনি যখন জলে শয়ন করেছিলেন, তখন এই সমস্ত ক্রিয়া নিরুদ্ধ ছিল। তারপর পরম পুরুষ যখন ঘ্রাণ গ্রহণ করার ইচ্ছা করলেন, তকন নাসিকা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস উৎপন্ন হল, এবং ঘ্রাণেন্দ্রিয় ও গন্ধ প্রকাশিত হল। সেই সঙ্গে গন্ধবহনকারী বায়ুর অধিষ্ঠাতৃ দেবতাও প্রকাশিত হলেন। এইভাবে সব কিছু যখন অন্ধকার ছিল ভগবান তখন নিজেকে এবং যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছিলেন সেই সব কিছু দর্শন করতে ইচ্ছা করেছিলেন। তখন চক্ষু, আলোকের দেবতা সূর্য, দৃষ্টিশক্তি এবং দৃশ্য বস্তুসমূহ সব কিছু প্রকট হয়েছিল। ঋষিদের জানবার ইচ্ছা বিকশিত হবার ফলে কর্ণ, শ্রবণ শক্তি, শ্রবণের অধিষ্ঠাতৃ দেবতা এবং শ্রোতব্য বস্তুসমূহ প্রকট হয়েছে। ঋষিগণ পরমাত্মা সম্বন্ধে জানবার বাসনা করেছিলেন। তখন কোমলতা, কাঠিন্য, উষ্ণতা, শীতলতা, লঘুতা এবং গুরুত্ব ইত্যাদি ভৌতিক গুণাবলী অনুভব করার বাসনা হয়েছিল, তখন ত্বক, রোমকূপ, দেহের রোম, এবং তাদের নিয়ন্ত্রণকারী দেবতাগণ (বৃক্ষসমূহ) উৎপন্ন হয়েছে। ত্বকের ভিতর এবং বাহিরে বায়ুর আবরণ রয়েছে, যার মাধ্যমে স্পর্শানুভূতি প্রকট হয়েছে। তারপর পরম পুরুষ যখন বিবিধ কর্ম অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর হস্তদ্বয়, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি এবং স্বর্গের দেবতা ইন্দ্র প্রকাশিত হন, সেই সঙ্গে হস্ত এবং দেবতা উভয়েরই উপর নির্ভরশীল কার্যও প্রকট হয়। তারপর গতি নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছার ফলে তাঁর পা প্রকট হয়, এবং তাঁর পা থেকে পায়ের অধিষ্টাতৃ দেবতা বিষ্ণু উৎপন্ন হন। তাঁর ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে মানুষেরা যজ্ঞ অনুষ্ঠানরূপ তাদের কর্তব্য কর্মে যুক্ত হয়। তারপর মৈথুন সুখের জন্য, সন্তান-সন্ততি উৎপাদনের জন্য এবং স্বর্গের অমৃত আস্বাদনের জন্য ভগবান জননেন্দ্রিয় প্রকাশ করেছেন। এই জননেন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাতৃ দেব হচ্ছেন প্রজাপতি। মৈথুন সুখের বিষয় এবং তার অধিষ্ঠাতৃ দেবতা ভগবানের উপস্থের নিয়ন্ত্রণাধীন। তারপর ভুক্ত অন্নাদির অসারাংশ ত্যাগ করতে ইচ্ছা করলে মলদ্বার স্বরূপ অধিষ্ঠান উৎপন্ন হল এবং তারপর পায়ু-ইন্দ্রিয় ও তার অধিষ্ঠাতৃ দেবতা মিত্র প্রকাশিত হলেন। পায়ু ইন্দ্রিয় এবং ত্যক্ত বস্তু উভয়েরই আশ্রয় হচ্ছেন মিত্র দেবতা। তারপর যখন তিনি এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন নাভি, অপান বায়ু এবং মৃত্যু একসঙ্গে সৃষ্টি হয়েছিল। মৃত্যু এবং অপান বায়ু উভয়েরই আশ্রয় হচ্ছে নাভি। যখন তাঁর আহার এবং পান করা ইচ্ছা হয়েছেল তখন কুক্ষি, অন্ত্র ও নাড়ীসমূহ প্রকাশিত হয়েছিল; নদী এবং সমুদ্রসমূহ তুষ্টি এবং পুষ্টির উৎস। যখন তাঁর স্বীয় মায়ার কার্যকলাপ সম্বন্ধে চিন্তা করার ইচ্ছা হয়েছিল, তখন হৃদয় (মনের অধিষ্ঠান), মন, চন্দ্র, সংকল্প এবং অভিলাষ উৎপন্ন হয়েছিল। দেহের সপ্তধাতু, যথা ত্বক, চর্ম, মাংস, রক্ত, মেদ, মজ্জা এবং অস্থি উৎপন্ন হয়েছে মাটি, জল এবং অগ্নি থেকে। আর আকাশ, জল এবং বায়ু থেকে প্রাণবায়ু প্রকাশিত হয়েছে। ইন্দ্রিয়সমূহ জড়া প্রকৃতির গুণের সঙ্গে যুক্ত, এবং গুণসমূহ অহঙ্কার থেকে উৎপন্ন। মন সর্ব প্রকার জড় অভিজ্ঞতার (সুখ এবং দুঃখ) দ্বারা প্রভাবিত, এবং বুদ্ধি মনের বিবেচনা করার ক্ষমতাস্বরূপ। এইভাবে পরমেশ্বর ভগবানের বহিরঙ্গা রূপ পৃথিবী আদি অষ্ট আবরণের দ্বারা আবৃত, যা আমি পূর্বে আপনার কাছে বিশ্লেষণ করেছি।”
“অতএব এর (জড় জগতের) অতীত এক দিব্য জগৎ রয়েছে যা সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর সেই জগতের আদি, মধ্য এবং অন্ত নেই; তাই তা বাণী অথবা চিন্তার অতীত এবং তা জড় ধারণা থেকে ভিন্ন। জড় দৃষ্টিকোণ থেকে ভগবানের যে উপরোক্ত বর্ণনা আপনার কাছে করলাম, তা ভগবানের সম্বন্ধে অবগত শুদ্ধ ভক্তদের দ্বারা স্বীকৃত হয়নি। পরমেশ্বর ভগবান তাঁর চিন্ময় নাম, রূপ, লীলা, পরিকর এবং বৈচিত্রের বিষয় হয়ে নিজেকে এক অপ্রাকৃত রূপে প্রকাশ করেন। যদিও তিনি এই সমস্ত কার্যকলাপ দ্বারা কখনো প্রভাবিত হন না, তথাপি মনে হয় যেন তিনি সেই সমস্ত কার্যকলাপে লিপ্ত।”
“হে রাজন্! জেনে রাখুন যে, সমস্ত জীবই তাদের পূর্বকৃত কর্ম অনুসারে পরমেশ্বর ভগবান কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে। ব্রহ্মা এবং দক্ষ আদি প্রজাপতিগণ, বৈবস্বত মনু প্রমুখ মনুগণ, ইন্দ্র, চন্দ্র, বরুণ আদি দেবতাগণ, ভৃগু, ব্যাস, বশিষ্ঠ আদি ঋষিগণ, পিতৃলোক এবং সিদ্ধলোকের অধিবাসীগণ, চারণ, গন্ধর্ব, বিদ্যাধর, অসুর, যক্ষ, কিন্নর, অপ্সরা, নাগ, সর্প, কিম্পুরুষ, নর, মাতৃ, রাক্ষস, পিশাচ, প্রেত, ভূত, বিনায়ক, কুষ্মান্ড, উন্মাদ, বেতাল, যাতুধান, গ্রহ, মৃগ, পশু, বৃক্ষ, সরীসৃপ, পর্বত, স্থাবর এবং জঙ্গম জীবসমূহ, জরায়ুজ, অন্ডজ, স্বেদজ, এবং উদ্ভিজ্জ, আদি চর্তুবিধ প্রাণী, জলচর, ভূচর ও খচরসমূহ সুখী, অসুখী অথবা সুখ-দুঃখের মিশ্র অবস্থায় সমস্ত জীব তিনি সৃষ্টি করেছেন তাদের পূর্বকৃত কর্ম অনুসারে। সত্ত্ব, রজো এবং তমো, প্রকৃতির এই তিনটি গুণ অনুসারে দেব, নর এবং নারকী, এই তিন প্রকার জীব রয়েছে। হে রাজন্! এমনকি একটি গুণ প্রকৃতির অপর দুটি গুণের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে পুনরায় তিনটি গুণে বিভক্ত হয়, এইভাবে প্রতিটি জীব অন্য গুণ সমূহের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের অভ্যাস অর্জন করে। পরমেশ্বর ভগবান সমগ্রহ জগতের পালনকর্তা রূপে, সৃষ্টির পর বিভিন্ন রূপে অবর্তীর্ণ হয়ে মনুষ্য, মনুষ্যেতর জীবসমূহ এবং দেবতাদের মধ্যে সব রকম বদ্ধ জীবদের উদ্ধার করেন। তারপর কল্পান্তে ভগবান রুদ্ররূপে সমগ্র সৃষ্টিকে সংহার করবেন, ঠিক যেমন বায়ু মেঘরাশিকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। মহান্ তত্ত্বজ্ঞানীরা এইভাবে পরমেশ্বর ভগবানের কার্যকলাপ বর্ণনা করেন, কিন্তু শুদ্ধ ভক্ত এই সমস্ত রূপের অতীত ভগবানের অধিক মহিমামন্ডিত দিব্য কার্যকলাপ দর্শন করার উপযুক্ত। এই জড় জগতের সৃষ্টি এবং সংহার কায়ে ভগবান সরাসরিভাবে যুক্ত হন না। বেদে তাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের যে বর্ণনা রয়েছে, তা কেবল জড়া প্রকৃতি যে স্রষ্টা নয়, সেই ধারণা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এখানে সংক্ষেপে সৃষ্টি এবং সংহারের যে প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হয়েছে, তা ব্রহ্মার একদিনের বিধির বিধান। এটি মহত্তত্ত্বের সৃষ্টিরও বিধি, যাতে প্রকৃতি নিহিত থাকে।”
“হে রাজন্, যথাসময়ে আমি স্থূল এবং সূক্ষ্ম রূপে সময়ের মাপ এবং তাদের বিশিষ্ট লক্ষণসমূহ বর্ণনা করব। কিন্তু এখন আমি আপনার কাছে পাদ্মকল্পের বিষয়ে বলবো, শ্রবণ করুন। শৌনক ঋষি সৃষ্টি সম্বন্ধে সব কিছু শ্রবণ করার পর সূত গোস্বামীর কাছে বিদুর সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন, কেননা সূত গোস্বামী তাঁকে পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন, কিভাবে বিদুর তাঁর অতি অপরিহার্য আত্মীয়-স্বজনদের বর্জন করে গৃহত্যাগ করেছিলেন।”
শৌনক ঋষি বললেন- “দয়া করে আপনি আমাদের বলুন, বিদুর এবং মৈত্রেয়ের মধ্যে অধ্যাত্ম বিষয়ে কি আলোচনা হয়েছিল। বিদুর কি প্রশ্ন করেছিলেন এবং তার উত্তরে মৈত্রেয় কি বলেছিলেন। দয়া করে আপনি আমাদের এও বলুন বিদুর কেন তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন, এবং কেন তিনি পুনরায় গৃহে ফিরে এসেছিলেন। তীর্থ পর্যটন করার সময় বিদুর কি করেছিলেন তাও আপনি আমাদের বলুন।”
সূত গোস্বামী উত্তর দিলেন- “মহারাজ পরীক্ষিতের প্রশ্নের উত্তরে মহামুনি যা বলেছিলেন, সেই বিষয়ে আমি আপনাকে এখন বলব। দয়া করে তা শ্রবণ করুন।”
দশম অধ্যায়- শ্রীমদ্ভাগবত সমস্ত প্রশ্নের উত্তর
14 May 2025 Leave a comment
in অমল পুরান, দ্বিতীয় স্কন্ধ- জগতের প্রকাশ