সূত গোস্বামী বললেন- “তিনি (শ্রীকৃষ্ণ) আনর্তদের দেশে (দ্বারকা) তাঁর অতি সমৃদ্ধশালী মহানগরীর প্রান্তে উপস্থিত হয়ে তাঁর আগমন-বার্তা ঘোষণা করে যেন সেই দেশবাসীর বিষন্নতা প্রশমনের জন্যই তাঁর মঙ্গল-শঙ্খটি (পাঞ্চজন্য) ধ্বনিত করলেন। শুভ্র স্ফীতোদর শঙ্খটি পরমেশ্বর ভগবানের করকমলে বিধৃত হয়ে তাঁর দ্বারা ধ্বনিত হলে, তাঁর অপ্রাকৃত অধরোষ্ঠের স্পর্শে সেটি রক্তিমাভ হয়ে উঠেছিল। তখন মনে হচ্ছিল, একটি শুভ্র রাজহংস যেন রক্তিমাভ কমলদলের মৃণাল মধ্যে উচ্চরবে খেলা করছে। সংসারের মহাভয় বিনাশক সেই শঙ্খ-নিনাদ শুনে, সকল ভক্তবৃন্দের রক্ষাকর্তা পরমেশ্বর ভগবানকে দর্শনের বহুপ্রতীক্ষিত বাসনায় দ্বারকাবাসী সকলেই তাঁর প্রতি দ্রুত ধাবিত হলেন। নগরবাসীরা তাঁদের উপহার-সামগ্রী নিয়ে পরমেশ্বর ভগবানের সমক্ষে উপস্থিত হলেন এবং যেনি পূর্ণ পরিতৃপ্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, যিনি তাঁর আপন শক্তির দ্বারা সকলকে নিরন্তর সব কিছু দিয়ে থাকেন, তাঁকে সেই অর্ঘগুলি নিবেদন করলেন। এই সকল উপহার সামগ্রী যেন সূর্যের কাছে প্রদীপ নিবেদনের মতোই হয়েছিল। তবুও সন্তানেরা যেভাবে তাদের পিতা, বন্ধুবান্ধব এবং অভিবাবককে সমাদর করে থাকে, সেইভাবেই নগরবাসীরা পরমেশ্বর ভগবানকে অভ্যর্থনা জানাবার মানসে, দিব্য আনন্দে উচ্ছ্বসিত স্বরে কথা বলতে লাগলেন।”
প্রজারা বললেন- “ হে প্রভু, আপনি ব্রহ্মা, চতুঃসন এবং ইন্দ্রাদি দেবতাদেরও পূজিত। যারা জীবনের পরম কল্যাণ লাভ করতে চায়, আপনি তাদের পরম গতি। আপনি জড়াতীত পরমেশ্বর ভগবান এবং অপ্রতিহত কালও আপনার উপর তার প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। হে জগতের সৃষ্টিকর্তা, আপনি আমাদের মাতা, শুভাকাঙক্ষী, প্রভু, পতি, পিতা, গুরু এবং আরাধ্য ভগবান। আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা সর্বতোভাবে সার্থক হয়েছি। তাই আমরা প্রার্থনা করি যেন আপনি সর্বদাই আমাদের উপর আপনার কৃপা বর্ষণ করেন। আহা, এটি আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, পুনরায় আপনার কৃপায় অনাথ আমরা সনাথ হয়েছি। আপনি স্বর্গের দেবতাদের দুর্লভ দর্শন। আপনি ফিরে আসায়, আপনার ঈষৎ হাস্যযুক্ত স্নেহদৃষ্টিময় বদনমন্ডল এবং সর্বমঙ্গলময় একই অপ্রাকৃতি রূপ আমরা দর্শন করতে পারছি। হে কমললোচন শ্রীহরি, যখন আপনি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমাদের পরিত্যাগ করে মথুরা, বৃন্দাবন বা হস্তিনাপুরে গমন করেন, তখন আপনার বিচ্ছেদ-বিরহে এক মুহূর্ত সময়ও আমাদের কাছে কোটি কোটি বছরের মতো মনে হয়। হে অচ্যুত, তখন আমাদের অবস্থা সূর্যের কিরণ থেকে বঞ্চিত চক্ষুর মতো হয়। হে প্রভু, আপনি যদি এইভাবে সব সময় প্রবাসে থাকেন, তা হলে সমস্ত তাপ মোচনকারী সুন্দর হাস্য শোভিত আপনার মুখমন্ডল দর্র্শন না করতে পেরে কিভাবে আমরা জীবন ধারণ করতে পারি।
“তখন ভক্তবৎসল ভগবান প্রজাদের এই প্রকার অভিনন্দনবাক্যসমূহ শ্রবণ করে সহর্ষে তাঁর চিন্ময় দৃষ্টিপাতের দ্বারা কৃপা বিস্তার করতে করতে দ্বারকা নগরীতে প্রবেশ করলেন। নাগলোকের রাজধানী ভোগবতী যেমন নাগদের দ্বারা সুরক্ষিত, তেমনই দ্বারকা নগরী শ্রীকৃষ্ণেরই মতো বলশালী মধু, ভোজ, দর্শাহ, অর্হ, কুকুর, অন্ধক ও বৃষ্ণিদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। দ্বারকা নগরী সমস্ত ঋতুর সর্ববিধ ঐশ^র্য ও সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। সেখানে সর্বত্র পবিত্র বৃক্ষ ও লতা, আশ্রম, উদ্যান, উপবন, বিলাসকুঞ্জ এবং বিকশিত পদ্মে পূর্ণ সরোবর ছিল। পরমেশ্বর ভগবানকে স্বাগত জানাবার জন্য পুরদ্বার, গৃহদ্বার এবং পথিপার্শ্বে নির্মিত তোরণসমূহ উৎসবের চিহ্নস্বরূপ ধ্বজ, পতাকা, কদলীবৃক্ষ, আম্রপল্লব, পুষ্পমাল্যের দ্বারা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছিল এবং সেগুলি সমবেতভাবে সূর্যকিরণকে রুদ্ধ করে ছায়া সৃষ্টি করেছিল। রাজপথ, সঙ্কীর্ণ পথ, পণ্যবিপনী এবং অঙ্গনসমূহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিষ্কার করা হয়েছিল এবং তারপর সুবাসিত বারিতে পরিসিক্ত হয়েছিল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে স্বাগত জানাবার জন্য ফল, ফুল এবং অভগ্ন শস্যাদির অঙ্কুরসমূহ সর্বত্র ছড়ানো হয়েছিল। প্রতিটি আবাসগৃহের দ্বারে দ্বারে দধি, অভগ্ন ফল, ইক্ষু, এবং জলপূর্ণ কলস প্রভৃতি মাঙ্গলিক সামগ্রী রাখা হয়েছিল এবং পূজার উপকরণ, ধূপ এবং দীপ প্রভৃতির দ্বারা সুশোভিত করা হয়েছিল। প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকাধামে আসছেন শুনে মহাত্মা বসুদেব, অক্রুর, উগ্রসেন, অদ্ভুত বলশালী বলদেব, প্রদ্যুম্ন, চারুদেষ্ণ ও জাম্ববতী-নন্দ সাম্ব, সকলেই আনন্দের আতিশষ্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে শয়ন, আসন, ভোজন পরিত্যাগ করেছিলেন। পুষ্পাদি মাঙ্গলিক দ্রব্যসহ ব্রাহ্মণদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা রথে চড়ে দ্রুতবেগে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য গমন করলেন। তাদের অগ্রে ছিল সৌভাগ্যের প্রতীকস্বরূপ রাজহস্তী। তখন শঙ্খ এবং তুর্য ধবনিত হচ্ছিল এবং বৈদিক মন্ত্র উচ্চাতির হচ্ছিল। এইভাবে তাঁরা তাদের প্রণয়পূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। তখন শত শত বিখ্যাত বারবনিতাগণ শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করার জন্য অত্যন্ত উৎসুক হয়ে বিধি যানসমূহে আরোহণ করে তাঁর প্রতি ধাবিত হয়েছিল। তাদের সুন্দর মুখ-মন্ডলে দোদুল্যমান বর্ণোজ্জ্বল কুন্ডল শোভা পচ্ছিল, যার ফলে তাদের কপোলদেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। সুদক্ষ অভিনেতাগণ, শিল্পীবৃন্দ নর্তকগণ, গায়কগণ, পৌরাণিকগণ, ভাটগণ এবং স্তাবকগণ সকলেই শ্রীকৃষ্ণের অলৌকিক লীলা চরিতকথাসমূহের দ্বরা অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁকে যে যার মতো অভ্যর্থনা করতে লাগলেন। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পুরবাসী এবং আর যারা তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছিল তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাদের সকলকে যথোচিত সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শণ করলেন। সর্বশক্তিমান ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কাউকে মস্তক অবনত করে নমস্কার, কাউকে অভিবাদন করে, কাউকে আলিঙ্গন, কাউকে হস্ত দ্বারা স্পর্শ, কাউকে ঈষৎ হাস্যযুক্ত দর্শন দানে এবং কাউকে বা অভীষ্ট বর এবং অভয় প্রদান করে, আচন্ডাল সকলকেই যথোচিত সম্মান করেছিলেন। তারপর সপত্নীক বৃদ্ধ গুরুজনগণ ও ব্রাহ্মণগণ সমভিব্যাহারে ভগবান দ্বারকাপুরীতে প্রবেশ করলেন। সকলেই তাঁকে আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর মহিমা কীর্তন করলেন।”
“হে বিপ্রগণ, শ্রীকৃষ্ণ যখন রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দ্বারকার কুলরমণীগণ তাঁকে দর্শন করার জন্য প্রাসাদসমূহের শীর্ষে আরোহন করেছিলেন। তাঁদের কাছে তা এক মহোৎসবের মতো মনে হয়েছিল। দ্বারকাবাসীরা সর্বদা সমস্ত সৌন্দর্যের আধারস্বরূপ অচ্যুত ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করেও তৃপ্তি লাভ করতেন না। শ্রীকৃষ্ণের বক্ষস্থল লক্ষ্মীদেবীর বিলাসস্থান। তাঁর মুখচন্দ্র সৌন্দর্যরূপ অমৃত পানের আকাঙ্ক্ষীদের পানপাত্রস্বরূপ। তাঁর বাহু লোকপালদের আশ্রয় এবং তাঁর শ্রীপাদপদ্ম তাঁর মহিমা কীর্তনকারী শুদ্ধ ভক্তদের ধাম। শ্রীকৃষ্ণ যখন দ্বারকার রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর মাথার উপর শ্বেত ছত্র শোভা পাচ্ছিল, শ্বেত চামর ব্যজন করা হচ্ছিল এবং পুষ্প বৃষ্টির ফলে সারা পথ পুষ্পাচ্ছাদিত হয়েছিল। তখন পীতবাস ও বনমালা শোভিত শ্রীকৃষ্ণকে একসঙ্গে সূর্য, চন্দ্র, ইন্দ্রধনু ও বিদ্যুত শোভিত ঘন মেঘের মতো মনে হচ্ছিল। তারপর তাঁর পিতার আলয়ে প্রবেশ করে তিনি দেবকী আদি তাঁর মাতাদের দ্বারা আলিঙ্গিত হলেন এবং তিনি মস্তক অবনত করে তাঁদের প্রণতি নিবেদন করলেন। তাঁদের পুত্রকে আলিঙ্গন করে মাতারা তাঁকে তাঁদের কোলে বসালেন। তখন স্নেহবশত তাঁদের স্তন থেকে দুগ্ধ ক্ষরিত হতে লাগল এবং আনন্দাশ্রুর দ্বারা তাঁরা তখন শ্রীকৃষ্ণকে অভিষিক্ত করেছিলেন। তারপর যেখানে তাঁর ষোল হাজারেও অধিক পত্নী বাস করতেন, সেই সর্ব অভীষ্টপ্রদ সর্বোৎকৃষ্ট তাঁর প্রাসাদসমূহে ভগবান প্রবেশ করলেন।”
“দীর্ঘ প্রবাসের পর পতিকে গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে দেখে শ্রীকৃষ্ণের পত্নীদের হৃদয় পরমানন্দে পূর্ণ হল, তাঁদের চক্ষু ও বদন লজ্জাবনত হল এবং তাঁরা তাঁদের আসন এবং চিন্তামগ্ন অবস্থা থেকে তৎক্ষণাৎ উত্থিত হলেন। তাঁদের দুরন্ত ভাব ছিল এতই প্রবল যে লজ্জাশীলা মহিষীরা প্রথমে ভগবানকে তাঁদের অন্তরের অন্তঃস্থলে আলিঙ্গন করলেন। তারপর তাঁরা তাঁকে চোখ দিয়ে আলিঙ্গন করলেন। তারপর তাঁকে আলিঙ্গন করার জন্য তাঁরা তাদের পুত্রদের পাঠালেন (এবং তা ছিল নিজেরই আলিঙ্গন করার মতো)। কিন্তু হে ভৃগুশেষ্ঠ! যদিও তাঁরা তাঁদের অনুভূতিকে চেপে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তা সত্তে¡ও অনিচ্ছাকৃতভাবেই তাঁরা অশ্রু বর্ষণ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ যদিও সর্বদা একান্তভাবে তাঁদের পাশে অবস্থান করতেন, তবুও তাঁর শ্রীপাদপদ্মযুগল প্রতিক্ষণ তাঁদের কাছে নব নবায়মান বলে মনে হত। শ্রীলক্ষ্মীদেবী যদিও চঞ্চলস্বভাবা, কিন্তু তিনি ভগবানের পাদপদ্ম কখনো পরিত্যাগ করতে পারেন না। অতএব কোন্ নারী একবার সেই পদযুগলের আশ্রয় গ্রহণ করে তাঁর সেবা থেকে বিরত হতে পারে? বায়ু যেমন বাঁশে বাঁশে পরস্পর সংঘর্ষণের দ্বারা অগ্নি উৎপন্ন করে বাঁশ বনকে দগ্ধ করে, ঠিক তেমনই পৃথিবীর ভারস্বরূপ অশ্ব, গজ, রথ পদাতিক সমন্বিত বহু অক্ষৌহিণী সেনাযুক্ত দাম্ভিক রাজাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা উৎপাদনপূর্বক ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তাদের বধ করেছিলেন। সেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অহৈতৃকী কৃপার প্রভাবে তাঁর অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে এই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে প্রাকৃত লোকের মতো সর্বশ্রেষ্ঠ রমণীদের মধ্যে অবস্থান করে আনন্দ উপভোগ করেছিলেন। যদিও পরমাসুন্দরী মহিষীদের গূঢ় ভঙ্গিসূচক নির্মল মনোহর হাস্য এবং সলজ্জ দৃষ্টিপাতে স্বয়ং কন্দর্পও পরাভূত হয়ে হতাশায় তাঁর পুষ্পধনু পরিত্যাগ করেন এবং মহাধৈর্যশালী সাক্ষাৎ মহাদেবও সম্মোহপ্রাপ্ত হন, কিন্তু তবুও তাঁদের মোহিনী বিদ্যা এবং আকর্ষণী শক্তির দ্বারা তাঁরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইন্দ্রিয় বিচলিত করতে পারেননি। মায়ামুগ্ধ বিষয়াসক্ত মানুষেরা শ্রীকৃষ্ণকে তাদেরই মতো একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করে। তত্ত্বজ্ঞানের অভাবে তারা নিরাসক্ত, প্রাকৃত সঙ্গাতীত শ্রীকৃষ্ণকে জড়ের দ্বারা প্রভাবিত প্রকৃতির সঙ্গী বলে মনে করে। পরমেশ্বর ভগবানের এমনই ঐশী প্রভাব- প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত মায়া-প্রপঞ্চে অবস্থিত হয়েও তিনি প্রকৃতির গুণের দ্বারা প্রভাবিত হন না। তেমনই তাঁর চরণাশ্রয় গ্রহণ করেছেন যে সকল ভক্ত, তাঁরাও জড়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা প্রভাবিত হন না। সেই সরলা ও অবলা স্ত্রীগণ তাঁদের প্রিয়তম পতি শ্রীকৃষ্ণের মহিমা না জেনে মোহবশত তাঁকে তাঁদের বশীভূত ও একান্ত অনুগত বলে মনে করতেন। নাস্তিকেরা যেমন ভগবানের পরমেশ্বরত্ব উপলব্ধি করতে পারে না, তেমনই তাঁরা তাঁদের পতির মহিমারাজির পরিসীমা সম্বন্ধে অবগত ছিলেন না।
একাদশ অধ্যায়- ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকায় প্রবেশ
08 Apr 2025 Leave a comment
in অমল পুরান, প্রথম স্কন্ধ- সৃষ্টি