সঞ্জয় উবাচ
দৃষ্ট্বা তু পান্ডবানীকং ব্যূঢ়ং দুর্যোধনস্তদা।
আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ ॥ ১ ॥
সঞ্জয়ঃ উবাচ–সঞ্জয় বললেন; দৃষ্ট্বা–দর্শন করে; তু–কিন্তু; পান্ডবানীকম্–পান্ডবদের সৈন্য; ব্যূঢ়ম্–সামরিক ব্যূহ; দুর্যোধনঃ–রাজা দুর্যোধন; তদা–সেই সময়; আচার্যম্–দ্রোণাচার্য; উপসঙ্গম্য–কাছে গিয়ে; রাজা–রাজা; বচনম্-বাক্য; অব্রবীৎ–বলেছিলেন।
গীতার গান
সঞ্জয় কহিল রাজা শুন মন দিয়া।
পান্ডবের সৈন্যসজ্জা সাজান দেখিয়া ॥
রাজা দুর্যোধন শ্রীঘ্র দ্রোণাচার্য পাশে।
যাইয়া বৃত্তান্ত সব কহিল সকাশে ॥
অনুবাদ
সঞ্জয় বললেন–হে রাজন্! পান্ডবদের সৈন্যসজ্জা দর্শন করে রাজা দুর্যোধন দ্রোণাচার্যের কাছে গিয়ে বললেন–
তাৎপর্য
ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন জন্মান্ধ। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি পারমার্থিক তত্ত্বদর্শন থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তিনি ভালভাবেই জানতেন যে, ধর্মের ব্যাপারে তাঁর পুত্রেরাও ছিল তাঁরই মতো অন্ধ, এবং তিনি নিশ্চিত যে, তাঁর পাপিষ্ঠ পুত্রেরা পান্ডবদের সঙ্গে কোন রকম আপস-মীমাংসা করতে সক্ষম হবে না, কারণ পান্ডবেরা সকলেই জন্ম থেকে অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। তবুও তিনি ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রের প্রভাব সম্বন্ধে সন্দিগ্ধ ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্বন্ধে ধৃতরাষ্ট্রের এই প্রশ্ন করার প্রকৃত উদ্দেশ্য সঞ্জয় বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি নৈরাশ্যগ্রস্ত রাজাকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন, এই পবিত্র ধর্মক্ষেত্রের প্রভাবের ফলে তাঁর সন্তানেরা পান্ডবদের সঙ্গে কোন রকম আপস-মীমাংসা করতে সক্ষম হবে না। সঞ্জয় তখনই ধৃতরাষ্ট্রকে বললেন যে, তাঁর পুত্র দুর্যোধন পান্ডবদের মহৎ সৈন্যসজ্জা দর্শন করে, তার বিবরন দিতে তৎক্ষণাৎ সেনাপতি দ্রোণাচার্যের কাছে উপস্থিত হলেন। দুর্যোধনকে যদিও রাজা বলা হয়েছে, তবুও সেই সঙ্কটময় অবস্থায় তাঁকে তাঁর সেনাপতির কাছে উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি, চতুর রাজনীতিবিদ্ হবার সমস্ত গুণগুলি দুর্যোধনের মধ্যে বর্তমান ছিল। কিন্তু পান্ডবদের মহতী সৈন্যসজ্জা দেখে দুর্যোধনের মনে যে মহাভয়ের সঞ্চার হয়েছিল, তা তিনি তাঁর চতুরতার আবরণে ঢেকে রাখতে পারেননি।