শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বর্ণণা করেছেন যে, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু জীবদের প্রতি দয়া করে অত্যন্ত দুর্লভ কৃষ্ণপ্রেম দান করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছেন।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু জীবে দয়া করি’।
স্বপার্ষদ স্বীয় ধাম সহ অবতরি ॥’
অত্যন্ত দুর্লভ প্রেম করিবারে দান।
শিখায় শরণাগতি ভকতের প্রাণ ॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। দ্বাপরে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ব্রজলীলা বিলাস করার পর তিনি এই কলির প্রথম সন্ধ্যায় আবির্ভূত হয়েছেন ভক্তরূপে।
ভগবান এই অবতারে তাঁর ভগবত্তা প্রকাশ করে আসেননি। তিনি এসেছেন ভক্তরূপে। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং। শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতী রাধারাণীর ভাব এবং অঙ্গকান্তি অবলম্বন করে অবতীর্ণ হয়েছেন এই নবদ্বীপ মায়াপুরে।
“শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য রাধাকৃষ্ণ নহে অন্য” শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে রাধাকৃষ্ণের কোন পার্থক্য নেই। তারা অন্য কেউ নন। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যই হচ্ছেন রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু। রাধা এবং কৃষ্ণ যখন একত্রীভূত হন তখন তিনিই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু। শ্যামসুন্দর শ্রীকৃষ্ণ যখন রাধারাণীর অঙ্গকান্তি এবং ভাব অবলম্বন করে…শ্রীমতী রাধারাণীর অঙ্গকান্তি হচ্ছে তপ্ত কাঞ্চনের মতো, কাঁচা সোনার মতো এবং শ্রীমতী রাধারাণীর অন্তরের ভাব হল ভক্তির মহাভাব। তাঁর অঙ্গকান্তি ও ভাব অবলম্বন করে শ্রীকৃষ্ণ যখন আসেন, তখন তিনিই হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু।
শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যে কোনও পার্থক নেই। ঠিক তেমনই শ্রীকৃষ্ণের ধাম বৃন্দাবন এবং এই মায়াপুরের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। বৃন্দাবন হচ্ছে এই জড় জগতের উর্ধ্বে চিন্ময় জগৎ। সেই চিন্ময় জগতের সর্বোচ্চ স্থান। এই জড় এবং চিৎ জগতের যে ভূগোল Geography বা তার বর্ননা করে বলা হচ্ছে, এই জড় জগতের ঊর্ধ্বে হচ্ছে বিরজা অর্থাৎ কারণ সমুদ্র। এই ব্রহ্মান্ড ভেদ করে যদি আমরা যাই তবে কারণ সমুদ্র দেখতে পাব। সেই কারণ-সমুদ্রের ঊর্ধ্বে ব্রহ্মজ্যোতি। এভাবে সেই ব্রহ্মজ্যোতিতে অসংখ্য বৈকুন্ঠলোক রয়েছে। চিন্ময় জগতে অসংখ্য বৈকুন্ঠ লোক রয়েছে। সেই বৈকুন্ঠের সর্বোচ্চ স্থান বা সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে গোলোক বৃন্দাবন। সেই গোলোকের একদিক হচ্ছে বৃন্দাবন এবং অপর দিক হচ্ছে নবদ্বীপ। গোলকের একটি প্রকোষ্ঠ বৃন্দাবন এবং আর একটি প্রকোষ্ঠ নবদ্বীপ। শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে যে লীলাবিলাস করছেন তারই প্রতিরূপ এই নবদ্বীপ। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ ব্রজগোপিকাদের সঙ্গে রাস লীলা-বিলাস করছেন তাঁর পার্ষদদের সঙ্গে। আর সেই কৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে তাঁর পার্ষদের সঙ্গে সংকীর্তন লীলা বিলাস করছেন। তিনি বৃন্দাবনে যে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন করছেন, নবদ্বীপে তিনি সেই প্রেম বিতরণ করছেন। পার্থক্য কেবল একই লীলার দুটি দিক। এক লীলায় শ্রীকৃষ্ণ প্রেম আস্বাদন করছেন, আর অন্য লীলায় সেই প্রেম বিতরণ করছেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে। তিনি মাধুর্যলীলায় কৃষ্ণপ্রেম বা প্রেমভক্তি আস্বাদন করছেন আর নবদ্বীপে ঔদার্যলীলায় অত্যন্ত উদারভাবে তিনি সেই প্রেম বা প্রেমভক্তি বিতরণ করছেন। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের যে লীলা সেটি সর্বোত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ।
জয় জয়োজ্জ্বল-রস সর্বরসসার।
পরকীয়া ভাবে যাহা ব্রজেতে প্রচার ॥
রস হচ্ছে আনন্দ আস্বাদনের বা সম্পর্ক স্থাপনের ভিত্তি। যে বস্তুটির দ্বারা ভাবের বিনিময় হয় বা সম্পর্ক স্থাপন হয় সেটিই হচ্ছে রস। এখন সমস্ত রসের মধ্যে এই রস বারো প্রকার। তার মধ্যে ৫টি মুখ্য এবং ৭ট গৌণ। ৫ টি মুখ্যরস হচ্ছে শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, মধুর। আর ৭টি গৌণরস– হাস্য, অদ্ভুত, বীর, রৌদ্র, ভয়ানক, করুন, বীভৎস্য। এখন এই ১২টি রসের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ–‘জয় জয় উজ্জ্বলরস সর্বরস সার।’
সমস্ত রসের যে সারাতি সার সেইটি ব্রজে ‘পরকীয়া ভাবে যাহা ব্রজেতে প্রচার।’
সেই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের যে লীলা তা মাধুর্য-উজ্জ্বল রসের প্রকাশ। এখন সেই ব্রজের সম্পদটি শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে নবদ্বীপে তা বিতরণ করছেন ঔদার্য রসে। তিনি অকাতরে কোন রকমের যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিচান না করে সেই বস্তুটি তিনি সকলকে দান করছেন। এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাস্থলী হচ্ছে সেই মায়াপুর। নবদ্বীপ হচ্ছে ৯ টি দ্বীপ। এই দ্বীপটি ভগবদ্ধাম। আর তার রূপটি–
“সহস্রপত্রকমলং গোকুলাখ্যং মহৎপদম্”– গোকুল সেটি সহস্র পত্র সমন্বিত, হাজার হাজার পাপড়ি সমন্বিত একটি পদ্মের মতো। এই পদ্মের মাঝখানে রয়েছে একটি কোরক। কোরকের চারপাশে প্রথম পংক্তিতে রয়েছে ৮টি পাপড়ি বা পত্র। সেই কোরকটি হচ্ছে এই অর্ন্তদ্বীপ বা মায়াপুর। আর তার চার পাশে ৮টি পাপড়ি হচ্ছে আটটি দ্বীপ– সীমন্ত দ্বীপ, গোদ্রুম দ্বীপ, মোদদ্রুম দ্বীপ, জহ্নুদ্বীপ, কোলদ্বীপ, ঋতুদ্বীপ ও রুদ্রদ্বীপ। এই অন্তর্দ্বীপে ঠিক মাঝখানে রয়েছে যোগপীঠ। সেই যোগপীঠে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছেন। যেটি হচ্ছে তঁর জন্মলীলা স্থান। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই নবদ্বীপে লীলা বিলাস করেছেন তাঁর প্রথম ২৪ বছর। অর্থাৎ তাঁর জন্মলীলা থেকে কৌমারলীলা। বাল্যলীলা, কৌমার লীলা, কৈশোর লীলা এভাবে গার্হস্থ্য লীলা। গার্হস্থ্য লীলার পর শ্রীচেতন্য মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করেন ২৪ বছর বয়সে। সেই সন্ন্যাস লীলায় মহাপ্রভু বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন এবং বিশেষভাবে তিনি জগন্নাথপুরীতে অবস্থান করেছিলেন। বাকি ২৪ বছরের মধ্যে ৬ বছর তিনি ভ্রমণ লীলা করেন। আর বাকি ১৮ বছর তিনি জগন্নাথপুরীতে ছিলেন। শ্রীজগন্নাথপুরীতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর যে লীলা সেটি বিপ্রলম্ভের পরাকাষ্ঠা। শ্রীকৃষ্ণের বিরহে ভক্তের যে আকুলতা, কৃষ্ণের বিরহে রাধারাণীর যে আকুলতা, সেই আকুলতাটি চৈতন্য মহাপ্রভু জগন্নাথপুরীতে আস্বাদন করেন। এইভাবে বিপ্রলম্ভ ভাব প্রকাশ করে শ্রীচৈতন্য মহপ্রভু আমাদের শিক্ষা দিলেন কিভাবে ভক্ত হতে হয়। সম্ভোগ আর বিপ্রলম্ভ–প্রেমের সম্পর্ক। মহাপ্রভু দেখিয়ে গেলেন বিপ্রলম্ভই হচ্ছে ভগবদ্ভক্তি আস্বাদনের সর্বশ্রেষ্ঠ স্তর। এবং সেই বিপ্রলম্ভ ভাব অবলম্বন করে বা সেই বিরহে আকুল হয়ে ভগবানের প্রতি ভক্তি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রদর্শণ করে গেছেন। সেই বস্তুটি শ্রীল পভুপাদ সারা পৃথিবী জুড়ে বিতরণ করে গেছেন। আপাতদৃষ্টিতে যদিও ইসকনের উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষ্ণভক্তি প্রচার করা কিন্তু সেই প্রচারকার্য সাধনের সময় এককালে কৃষ্ণের কৃপায় শুদ্ধভক্তির প্রকাশ হৃদয়ে হবে এবং সেটিই হচ্ছে জীবনের চরম লক্ষ্য। সুতরাং যারা এই কৃষ্ণভক্তি অর্জন করতে পারে তাদের বুঝতে হবে এটি এক মহা সৌভাগ্যের ফল স্বরূপ। অত্যন্ত অমূল্য কোন সম্পদ লাভ করলে যেমন আমরা নিজেদের অত্যন্ত ভাগ্যবান বলে মনে করি। এই ব্যাপারেও আমাদের অত্যন্ত ভাগ্যবান বলে মনে করতে হবে। যে কি এক চরম সৌভাগ্যের ফলে আজ এমন একটি দুর্লভ বস্তু লাভ করতে পেরেছি। এখন সেই দুর্লভ সম্পদটি যথাযথভাবে আগলে রেখে সন্তর্পণে অর্থাৎ অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে সম্পর্কটিকে আগলে রেখে সম্পত্তিটির সদ্ব্যবহার করতে হবে। এই সম্পত্তির কাছে অন্য সব কিছু অত্যন্ত তুচ্ছ, নগন্য হয়ে যায়। কৃষ্ণ ভক্তির কাছে কৈবল্যং নরকায়তে–মুক্তি নরক সদৃশ বলে মনে হয়। ত্রিদশপুরাকাশপুষ্পায়তে–স্বর্গসুখকে আকাশ কুসুম বলে মনে হয়। দুর্দান্ত-ইন্দ্রিয়-কালসর্পপটলী প্রোৎখাত দংষ্ট্রায়তে–অদ্যম, দুর্দমনীয় এই সমস্ত ইন্দ্রিযগুলি যাকে কিছুতেই বশ করা যায় না। যে ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের জন্য সর্বদা লালায়িত হয়ে কত রকমের আকার্য কুকার্য করা হয়ে থাকে। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় যখন এই কৃষ্ণভক্তি লাভ হয় তখন সেই ইন্দ্রিয়গুলি দাঁত ভাঙা সর্পের মতো মনে হয়। প্রোৎখাত দংষ্ট্রায়তে। বিষধর সাপের দাঁতগুলি যদি ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তখন কি আর ভয় থাকে! ঠিক তেমন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় যখন কৃষ্ণভক্তি লাভ হয় ইন্দ্রিয়গুলি প্রকৃষ্টরূপ উৎখাৎ-দন্ত সাপের মতো হয়ে যায়। সেগুলি তখন ক্ষতি করতে পারে না। ইন্দ্রিয়গুলির কার্যকলাপ থাকে কিন্তু তা থেকে কোনো রকমের ভয়ের কিছু থাকে না। এমনই এক অপূর্ব সুন্দর সম্পদ হচ্ছে এই কৃষ্ণভক্তি। যা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় আজকে আমরা লাভ করতে পেরেছি। এখন এই সম্পটিকে আমাদের যথাযথভাবে সদ্ব্যবহার করতে হবে। নিজে গ্রহণ করাটাই যথেষ্ট হবে না। নিজে গ্রহণ করে সেটি অন্যদের কাছে বিতরণ করতে হবে। এই কাজটি মহাপ্রভু স্বয়ং দিয়ে গেছেন। এই দায়িত্বভার। মহাপ্রভু বলেছেন “যারে দেখ তারে কহ কৃষ্ণ উপদেশ।” যাকে দেখ তাকে কৃষ্ণের বানী, কথা উপদেশ দাও। ভগবদগীতায় যে কথাগুলি শ্রীকৃষ্ণ বলে গেছেন সেই কথাগুলি প্রচার কর। জীবকে এই বস্তুটি দান কর। তার ফলে শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন হন। শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন যারা কৃষ্ণভক্তির প্রচার করে তারা সবচাইতে প্রিয়। অতএব শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি সাধনের জন্য অথবা কৃষ্ণের কৃপালাভের জন্য আমাদের এই কৃষ্ণভক্তি প্রচারে যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত এবং আমাদের যতটুকু ক্ষমতা সেই ক্ষমতা অনুসারে আমাদের প্রচার করতে হবে। কারো ক্ষমতা অনেক বেশী থাকে সে অনেক ব্যাপক ভাবে প্রচার করবে। যাদের ক্ষমতা কম তারা অল্প বা স্বল্পভাবে প্রচার করবে। কিন্তু প্রচার আমাদের সকলকে করতে হবে।
কতলোক মায়াপুরে আসে। তারা অনেকেই কৃষ্ণভক্তি লাভ করেনি। তাদের কাছে আমরা গিয়ে বলতে পারি। শ্রীকৃষ্ণ কে? শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কে? মহাপ্রভুর যে দান সেটি কিরূপ অদ্ভুত। কি অপূর্ব সুন্দর , কি দুর্লভ বস্তু। কখনও মনে করা উচিত নয় যে, আমি কি করে প্রচার করব। না যতটুকু জান ততটুকু প্রচার কর। কৃষ্ণ–ভগবান, এটুকুই যদি আমরা বোঝাতে পারি তাহলেই হবে। এ সম্পর্কে একটি দৃষ্টান্ত আমার মনে পড়ে। শ্রীল প্রভুপাদ তখন ভারতবর্ষে। প্রভুপাদের সঙ্গে তাঁর সচিব শ্যামসুন্দর প্রভু এবং তার স্ত্রী মালতীও রয়েছে, শ্যামসুন্দর ও মালতীর একটি ছোট্ট মেয়ে ছিল–সরস্বতী। সরস্বতীয় বয়স তখন ৬ বছর। একদিন একজন মন্ত্রী প্রভুপাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। যখন প্রভুপাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন সরস্বতী গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল। সরস্বতী তাকে জিজ্ঞাসা করে ‘তুমি জান কৃষ্ণ কে?’ সেই মন্ত্রী বলেন–‘জানি না।’ সরস্বতী বলে–‘ও! তুমি জান না কৃষ্ণ কে? কৃষ্ণ ভগবান।’ প্রভুপাদ যখন এই কথাটি শুনলেন তখন তিনি খুব প্রসন্ন হন। তিনি বললেন, দেখ কৃষ্ণভাবনামৃতের পথটি এমনি। যতটুকু আমরা জানি ততটুকুই বলতে হয়। অন্তত এটা আমরা জানি যে, কৃষ্ণ ভগবান। কৃষ্ণ ভগবান–এই বিশ্বাসটুকুই যদি আমাদের হয়ে থাকে, এটা আমরা সারা জগতের কাছে প্রচার করতে পারি।
একলে ঈশ্বর কৃষ্ণ আর সব ভৃত্য। অথচ আমরা যখন এই পৃথিবীর সর্বত্র দেখি তখন কি দেখি? তারা কি নিজেকে কৃষ্ণের ভৃত্য বলে মনে করছে? তারা সকলে মনে করছে তারা সকলের প্রভু। আর কৃষ্ণ কে? তারা মনে করে কৃষ্ণ এক ঐতিহাসিক ব্যক্তি। অতএব ভেবে দেখো কত বড় একটা কাজ পড়ে আছে। এখন এ কাজগুলি কে করবে? তাই আমাদের প্রচার করতে হবে। প্রচারের পদ্ধতি হচ্ছে যদি হৃদয় জয় করা যায়, তখন যা বোঝানো হয় সেটিই সকলে গ্রহণ করবে। তাই সর্বাগ্রে আমাদের চেষ্টা করতে হবে হৃদয় জয় করা। প্রচার মানে হচ্ছে সেই দুর্লভ বস্তুটি তাদের দান করা। মানুষ কতভাবে দুঃখ কষ্ট ভোগ করছে। কিন্তু এই বস্তুটি লাভ করলে তাদের সমস্ত দুঃখ-কষ্টের নিরসন হবে। তাই কৃষ্ণভক্তি প্রচারের এত প্রয়োজন।