হৃদয়ের পরিবর্তন

পুরানে এক নিষ্ঠুর ব্যক্তির কাহিনীর উল্লেখ আছে। যে স্বভাবতই অনেক নিষ্ঠুর ও নির্মম হৃদয়ের ছিল। যার কাজই ছিল গ্রামের মানুষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লাগানো। সকলের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করাই ছিল তার মূখ্য উদ্দেশ্য। সে ভাবত গ্রামের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করলে সে অনেক লাভবান হবে। তাই বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে সে অশান্তি সৃষ্টি করত। কিন্তু যখন মৃত্যুর সময় আসল, তখন তার হৃদয়ে কিছুটা পরিবর্তন আসল।
সে ভাবল “সারা জীবন দেখেছি বৈষ্ণবদের হরিনাম করতে, কিন্তু আমি কখনও হরিনাম করতে চেষ্টা করিনি, যেহেতু আমি মারাই যাচ্ছি, তাহলে শেষবারের মত একটু হরিণাম করার চেষ্টা করে দেখি, কেমন হয়।”
এটা ভেবেই সে ভৃত্যকে ডেকে বাজার থেকে জপমালা আনতে বলল। ভৃত্য বাজারের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করল। কিন্তু বাজার থেকে আসার পূর্বেই ঐ ব্যক্তিটির মৃত্যু হল।
তখন তাকে নেওয়ার জন্য যমদূত ও বিষ্ণুদূত উভয়ই উপস্থিত হলেন এবং পরস্পরের সাথে যুক্তি তর্ক করতে লাগলেন।
যমদূতেরা বলতে লাগলেন, “এই ব্যক্তি অত্যন্ত পাপী, সে তার জীবনে কখনও ভাল কাজ করেনি, তার সৎকর্মেরও কোনো প্রমাণ নেই, তাহলে হে বিষ্ণুদূতগণ আপনারা এখানে কি করছেন?”
তখন বিষ্ণুদূতেরা বললেন, “আমরা এসেছি তাকে ভগবৎ ধামে নিয়ে যাওয়ার জন্য, কারণ তার হৃদয় হরিনাম করার বাসনা পোষণ করেছিল।” তখন যমদূতেরা ঐ ব্যক্তিকে বিষ্ণুদূতদের কাছে রেখে যমলোকে প্রস্থান করল।
। হিতোপদেশ।
যদি নামাভাস কিংবা অপরাধযুক্ত নাম এত শক্তিশালী হয়, তাহলে শুদ্ধ নাম গ্রহণের কি কথা?

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,943 hits