হৃশীকেশ শিবানন্দ সরস্বতী একদা জয়পুরের রাজার নিকট থেকে একট চিঠি পেলেন।
রাজা- আমি শুনেছিলাম যে, আপনি সকল সময় সমাধি স্তরে অবস্থান করেন। আমি আপনার এই সমাধিস্থ অবস্থা দর্শন করতে চাই।
তখন সেই যোগী লিখে পাঠালেন যে, তাহলে ফ্রেব্রুয়ারীতে আপনি আসুন আমি সেদিন সমাধিস্থ হব। কথামত রাজা ১৬ ফেব্রুয়ারীতে খুব সকালে যথাস্থানে উপস্থিত হলেন, যখন তিনি শিবানন্দের মন্দিরে প্রবেশ করলেন তখন দেখলেন যে, শিবানন্দ সিঁড়ি বেয়ে ওঠা নামা করছেন। আর জপ করছেন- “হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র”। শিবানন্দ রাজাকে কোন ভ্রুক্ষেপই করলেন না তিনি শুধু সিঁড়ির উপর নিচে যাতায়াত করতে থাকলেন। “হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র” রাজা চিন্তা করলেন, স্বামীজি মনে হয় কিছু ভজন করছেন, কিছুক্ষণ পর তিনি বুঝি সেই অতীন্দ্রিয় সমাধিতে বসবেন। এভাবেই প্রায় আধাঘন্টা, একঘন্টা, দুই ঘন্টা, তিনঘন্টা অতিক্রান্ত হলো। স্বামীজি একইভাবে উপরে উঠা নামা করতে থাকলেন। রাজা ভাবতে লাগলেন কখন সমাধি শুরু হবে। কিছুক্ষণ পরে তিনি যোগীর সামনে গিয়ে তাঁকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু স্বামীজির দৃষ্টি একই স্থানে নিবদ্ধ রইল। তিনি শুধু এক মনে- “হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র” এই মহামন্ত্র জপ করে চলছিলেন এবং তার বেগ যেন বেড়েই চলছিল। তিনি নৃত্যের তালে তালে জপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এভাবে পাঁচ ঘন্টা পর স্বামীজি নিবৃত হলেন।
তখন রাজা বললেন স্বামীজি আপনি কি তবে এবার সমাধি শুরু করবেন? তখন স্বামীজি বললেন- শুরু করব মানে তুমি কি বলছ? আমি এই মাত্র সমাধি থেকে ফিরে এলাম। রাজা হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন! কিন্তু আপনি তো কোন রকম প্রাণায়াম বা এসব কিছুই করলেন না। এইগুলো প্রাথমিক স্তরের যোগীদের জন্য। আর আমি যেটা করলাম সেটাই হলো সর্বোচ্চ স্তরের অবস্থা। তুমি যদি এটি করতে পার তবে এটিই হবে সবচেয়ে উত্তম সমাধি। তুমি কি লক্ষ্য করনি? আমার পাঁচ ঘন্টা ধরে বাহ্য বিষয়ে কোন জ্ঞান ছিল না। তাহলে তুমিও এটি করতে পার। তবে অনন্ত হরিনাম একটি বইতে লিখে আমার নিকট পাঠাতে পার।
। হিতোপদেশ।
আর এভাবেই হাজার হাজার মানুষের দ্বারা লিখিত হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের মাধ্যমে হরিনাম মন্দিরটি তৈরী করা হয়েছিল। জানা সত্ত্বেও শিবানন্দ একজন নিরীশ্বরবাদী ছিলেন। যদিও তিনি জানতেন যে এটিই ভক্তি জীবনের সর্বোচ্চ স্তর, কিন্তু তিনি এ বিষয়ে তেমন কিছুই করেননি। হরিনাম জপ করাই সমাধির সর্বোচ্চ স্তর।