এক যুক্তিবিদ কিছু ময়দা কেনার জন্য এক কল চালকের নিকট গেলেন।
কলচালক- দয়া করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন আমি এক্ষুনি তা ভেঙ্গে নিয়ে আসছি।
সেই যুক্তিবিদ লক্ষ্য করলেন যে, সেই কলচালক এই কাজটি সম্পাদনের জন্য এক ষাঁড় রেখেছিলেন। এই ষাঁড়টি যখন বৃত্তাকারে ঘোরে, তখন তার কাঁধের সাথে যুক্ত সেই জোয়ালের মাধ্যমে একটি একটি পাথর ঘোরায় যা শস্যকে গুড়া করতে থাকে। সেই ষাঁড়ের গলায় আবার একটি ঘন্টা বাঁধা ছিল, যা তার হাঁটার তালে তালে টুনটুন করে বাজছিল।
এই সময় কলচালকটি বাসার মধ্যে অন্য কাজ শেষ করে কিছুক্ষণ পরে গুড়াকৃত কিছু ময়দা একটি বস্তায় করে সেই যুক্তিবিদের হাতে দিল।
যুক্তিবিদ তখন বলল, আমার তোমাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ছিল।
কলচালক- আমাকে আপনি কি প্রশ্ন করবেন? আমি এক সাধারণ কৃষক, আমি কিভাবে আপনার মত বিচক্ষণতার সাথে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি?
যুক্তিবিদ- না ঠিক সেই রকম নয়, এটি তোমার কাজের সম্বন্ধেই একটি জিজ্ঞাসা। আমাকে শুধু এটিই বলো যে, তুমি ষাঁড়ের গলায় এই ঘন্টা বেঁেধ অযথাই টাকা নষ্ট করছ কেন?
কলচালক- ওহ! তাহলে আমি এটি ছাড়া আর কি-ই বা করতে পারতাম? যখন ষাঁড়টি হাঁটে তখন আমি তার ঘন্টার শব্দ শুনতে পাই। যদি আমি কোন শব্দ না পাই, তবে বাইরে থেকে এসে ষাঁড়টিকে তাড়া দিলে সে আবার হাঁটতে শুরু করে। তা- নাহলে, আমাকে এই ষাঁড়টি দেখার জন্য আমাকে সারাদিন এখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
যুক্তিবিদ- কিন্তু ষাঁড়টি যদি না হেঁটে শুধু মাথা নাড়িয়ে ঘন্টা বাজাতে থাকে, তবে তুমি কিভাবে বুঝতে সে কাজ করছে কি-না?
কলচালক- ঠিক আছে, কিন্তু ষাঁড়টি তো তোমার মত যুক্তিবিদ নয়।
। হিতোপদেশ।
কিছু কিছু সময় অতি বুদ্ধিমত্তা কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে, কারণ তখন চিন্তা করতে থাকে কিভাবে শ্রম থেকে দূরে থাকা যায়।