একসময় এক ব্রাহ্মণ এক রাজসভায় উপস্থিত হল, সে অনেক ভাষা জানত। কিন্তু তাকে নিয়ে সকলেই সমস্যায় পড়ল, কারণ কেউই বুঝতে পারত না তিনি প্রকৃতপক্ষে কোন ভাষায় কথা বলেন।
তখন রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোন ভাষায় কথা বলছ?”
উত্তরে সে বলল, “মহারাজ আপনি যদি বের করতে পারেন যে আমার প্রকৃত ভাষা কি তাহলে আমি মেনে নেব যে, আপনি প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।”
রাজা খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। সে সময় রাজসভায় ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের তেনালীরাম নামে একজন কৌতুকপ্রবণ লোক ছিল, যার বুদ্ধিমত্তা ছিল খুব প্রখর। মহারাজ তাকে এই দায়িত্বভার অর্পণ করলেন। বিনিময়ে তাকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার আশ্বাসও দিলেন। সাথে সাথে তেনালীরামও মহারাজকে আশ্বাস দিয়ে বেরিয়ে পড়ল। একদিন সন্ধ্যার সময় যখন ঐ ব্রাহ্মণ বাগানে হাঁটছিলেন, তখন ঐ বাগানের একটি গাছে তেনালীরাম কম্বল জড়িয়ে উঠে পড়ল। তখন ব্রাহ্মণ ভয়ে আতঙ্কে উঠে মালায়াম ভাষায় বলে ফেলল, “হে ভগবান বাঁচাও, আর তখনই তার আসল ভাষা তেনালীরাম জেনে গেল।”
। হিতোপদেশ।
দার্শনিকরা হয়তো অতি উচ্চ পর্যায়ের দর্শনতত্ত্ব নিয়ে কথা বলতে পারে, কিন্তু যখনই তারা প্রতিকূল অবস্থায় পড়েন, তখন তাদের আসল উদ্দেশ্য সকলের সামনে প্রকাশিত হয়ে যায়।