গুরুদেব একজন শিষ্যের বাড়িতে গেছেন। শিষ্য গুরুদেবকে প্রচুর সেবা করছে। একদিন গুরুদেব প্রসাদ গ্রহণের পরে বললেন- “মুখশুদ্ধি দাও।” শিষ্য তাড়াতাড়ি এলাচের দানা ফেলে দিয়ে খোসাটি গুরুদেবের হাতে তুলে দিল। এই দেখেই গুরুদেব শিষ্যকে ভৎর্সনা করে বলতে লাগলেন,- “বোকা। এলাচের খোসা খায় না। দানা খায় ? দানা দিতে হয়।” সন্ধ্যার পর প্রসাদ গ্রহণ করে পুনরায় মুখশুদ্ধির জন্য শিষ্যকে বললেন- শিষ্য তৎক্ষণাৎ একটি হরিতকী এনে চিন্তা করতে লাগল। দুপুরবেলা দানা ফেলে দিয়ে খোসা দেওয়ায় তিনি আমাকে খুব ভৎর্সনা করেছিলেন। এখন তাহলে খোসা ফেলে দিয়ে দানা দেওয়া উচিত। এই কথা চিন্তা করে গুরুদেবের হাতে হরিতকীর দানা তুলে দিল। গুরুদেব চিৎকার করে বলে উঠলেন, “বোকা, কান্ডজ্ঞানহীন। হরিতকীর দানা কেউ খায় ? খোসা দিতে হয়।” তখন শিষ্য অবাক হয়ে চিন্তা করতে লাগল, একি। একবার বলেন খোসা খায়। আর একবার বলেন দানা খায়। একি শিষ্য জব্দ করার বুদ্ধি ? এরকম কথা তো ভাল নয়। অতএব এমন গুরুদেবকে পরিত্যাগ করবই। এইরূপ চিন্তা করে গুরুদেবের সেবা বন্ধ করে দিল।
। হিতোপদেশ।
এই রকম আমরা আমাদের নিজেদের অজ্ঞতার জন্য মহতের চরণে অপরাধ করে ফেলি। যদি শিষ্যটি গুরুদেবের চরণে নিবেদন করত, “ দানা খায় এবং খোষা খায় এবং খায় না এই দুইরকম কথায় দুইটি বুঝাইয়া দিন।” তা হলে তিনি আনন্দের সঙ্গে তার শিষ্যকে বুঝিয়ে দিতেন। শিষ্যও খুশী হত।