এক গাঁয়ে পঞ্চানন নামে এক ছেলে ছিল। গরমের দেশে শিশুরা প্রায়ই উলঙ্গ থাকে। পঞ্চাননের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন সেও উলঙ্গ থাকত। সেইজন পাড়াপড়শীরা পঞ্চাননকে ‘ন্যাংটা পেঁচো’ বলে ডাকত। সে লেখাপড়ায় ও চরিত্রে খুবই ভাল ছেলে ছিল। প্রতি বছর পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করতে লাগল ও সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠল।
পঞ্চাননের বাবার সঙ্গে কয়েকজন লোকের বিরোধ ছিল। তারাই শুধু পঞ্চাননের গুণ শুনে দুঃখ পেত এবং বলত-“আরে রেখে দাও- ন্যাংটা পেঁচো আবার লেখাপড়া।” কয়েক বৎসরের মধ্যে পঞ্চানন বি-এল ও ডি-এল পাশ করে উকিল হল। এই কথা নিন্দুকের কানে যখন পৌছল, তখন তারা বলল-“পেঁচো নকল করে পরীক্ষায় পাস করেছে।”
পঞ্চাননবাবু কয়েক বৎসরের মধ্যে জেলা জজ হলেন। তাঁর যশ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তখন ঈর্ষাকাতর সেই লোকেরা হিংসায় অধীর হয়ে মুখ ভ্যাংচিয়ে বলতে লাগল আরে রেখে দাও তোমার গাঁজাখুরি কথা, সেদিনকার ছোঁড়া ন্যাংটা পেঁচো, সে নাকি আবার জজ সাহেব?” যখন কেউ পঞ্চাননবাবু জজ সাহেবের নাম তাদেরকে কাগজে কলমে দেখিয়ে দিল, তখন তারা বলে উঠল-‘ন্যাংটা পেঁচো জজ সাহেব হলেও মাইনে পায় না।’
। হিতোপদেশ।
নীচকুলজাত ব্যক্তিও যদি ভগবানের শরণাগত হন তবে তাঁকে ভগবদ্ভক্ত হিসেবে সম্মান করা উচিৎ। তাঁকে বৈষ্ণব বলে স্বীকার করা উচিত। কিন্তু তার পূর্ব ইতিহাসের কোন তথাকথিত কলঙ্ক নিয়ে তা’র নিন্দা করা বেড়ানো ঈর্ষাকাতর হিংসুক লোকের কাজ। এটা মস্ত বড় বৈষ্ণব অপরাধ। জজ পঞ্চানন শৈশবে কখনও উলঙ্গ ছিল সেইজন্য তাকে ‘ন্যাংটা পেঁচো’ হিসেবে দেখা এবং জজ হলেও মাইনে পায় না’- এসব কথার মধ্যে বক্তার ঈর্ষা নামক মারাত্মক দোষটিই প্রকাশ পায়। এই ঈর্ষাকে কোন মতেই ভগবৎমুখী করা যায় না। সেই সমস্ত হিংসুক লোকের কাছে সম্মান না পেয়ে অপরের সম্মানের হানি করার জন্য মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চিন্তা করে না যে, তারা বৃদ্ধ হয়ে মৃত্যুর দিকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, এখন তাদের কর্তব্য কি ? তারা ভগবদভক্ত না হয়ে শুধু নিন্দাই করে চলেছে।