সপ্তম অধ্যায়- দ্রোণপুত্র দন্ডিত

শৌনক ঋষি জিজ্ঞাসা করনে– “হে সূত গোস্বামী, অত্যন্ত মহৎ এবং দিব্য গুণসম্পন্ন ব্যাসদেব শ্রীনারদমুনির কাছ থেকে সব কিছু শুনেছিলেন।  সুতরাং নারদ মুনি চলে যাওয়ার পর ব্যাসদেব কি করলেন ?”

শ্রীসূত গোস্বামী বললেন–“বেদের সঙ্গে অতি অন্তরঙ্গভাবে সম্পর্কিত সরস্বতী নদীর পশ্চিম তটে ঋষিদের চিন্ময় কার্যকলাপের আনন্দ বর্ধনকারী শম্যাপ্রাস নামক স্থানে একটি আশ্রম আছে।  সেই স্থানে, শ্রীল ব্যাসদেব বদরী বৃক্ষ পরিবৃত তাঁর আশ্রমে উপবেশন করলেন এবং জল স্পর্শ করে তাঁর চিত্তকে পবিত্র করার জন্য ধ্যানস্থ হলেন।  এইভাবে তাঁর মনকে একাগ্র করে জড় কলুষ থেকে সর্বতোভোবে মুক্ত হয়ে তিনি যখন পূর্ণরূপে ভক্তিযোগে যুক্ত হয়েছিলেন, তখন তিনি পরমেশ্বর ভগবানকে তাঁর মায়াশক্তি সহ দর্শণ করেছিলেন, যে মায়া পূর্ণরূপে তাঁর বশীভূত ছিল।  এই বহিরঙ্গা শক্তির প্রভাবে জীব জড়া প্রকৃতির তিনটি গুণের অতীত হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে জড়া প্রকৃতি সম্ভূত বলে মনে করে এবং তার ফলে জড় জগতের দুঃখ ভোগ করে।  জীবের জাগতিক দুঃখ-দুর্দশা, যা হচ্ছে তার কাছে অনর্থ, ভক্তিযোগের মাধ্যমে অচিরেই তার উপশম হয়।  কিন্তু সাধারণ মানুষ তা জানে না, এবং তাই মহাজ্ঞানী ব্যাসদেব পরম-তত্ত্ব সমন্বিত এই সাত্বত সংহিতা সংকলন করেছেন।  কেবলমাত্র বৈদিক শাস্ত্র শ্রবণ করার মাধ্যমে পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তির উদয় হয় এবং তার ফলে শোক, মোহ এবং ভয় তৎক্ষণাৎ অপগত হয়।  শ্রীমদ্ভাগবত রচনা করার পর মহর্ষি বেদব্যাস পুনর্বিচারপূর্বক তা সংশোধন করেন এবং তা তাঁর পুত্র শুকদেব গোস্বামীকে শিক্ষা দান করান, যিনি ইতিমধ্যেই নিবৃত্তি মার্গে নিরত ছিলেন। ”

শ্রীশৌনক সূত গোস্বামী জিজ্ঞাসা করলেন–“শ্রীশুকদেব গোস্বামী ইতিমধ্যেই নিবৃত্তি মার্গে নিরত ছিলেন এবং তার ফলে তিনি ছিলেন আত্মারাম।  তা হলে কেন তাঁকে এই বিশাল সাহিত্য অধ্যয়ন করার কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছিল ?”

শ্রীসূত গোস্বামী বললেন–“সমস্ত আত্মারামেরা বিশেষ করে যাঁরা নিবৃত্তি মার্গে নিরত, সব রকমের জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পরমেশ্বর ভগবানের অহৈতুকী ভক্তি লাভের আকাক্সক্ষা করেন।  পরমেশ্বর ভগবান দিব্য গুণাবলীতে বিভূষিত এবং তাই তিনি সকলকে আকর্ষণ করেন, এমন কি মুক্ত পুরুষদেরও।  ব্যাসনন্দন শ্রীল শুকদেবের চিত্ত ভগবান শ্রীহরির গুণে আকৃষ্ট হওয়ায় এই ভাগবত-পুরাণ অত্যন্ত বিশাল হলেও তা তিনি অধ্যয়ন করেছিলেন।  সেই ভগবত্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করার ফলে তিনি বৈষ্ণবদের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হয়েছিলেন।  এখন মুখ্যভাবে কৃষ্ণকথাই যাতে উদিত হয় সেইভাবে আমি রাজর্ষি পরীক্ষিতের জন্ম ও কর্মবৃত্তান্ত এবং দেহত্যাগ বা মুক্তিবৃত্তান্ত এবং পান্ডবদের মহাপ্রস্থান বর্ণনা করব।”

“কৌরব এবং পান্ডব উভয় পক্ষের বীরেরা যখন কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে হত হয়ে তাঁদের গন্তব্যস্থল প্রাপ্ত হন এবং যখন ভীমের গদাঘাতে ভগ্ন উরু ধৃতরাষ্ট্রপুত্র শোক করতে করতে ধরাশায়ী হন, তখন দ্রোণাচার্যের পুত্র (অশ্বত্থামা) দ্রোপদীর পঞ্চপুত্রকে নিদ্রিত অবস্থায় হত্যা করে তাদের মস্তক তার প্রভুকে পুরস্কারস্বরূপ দান করে।  মূর্খের মতো সে মনে করেছিল যে তার ফলে দুর্যোধন প্রসন্ন হবে।  দুর্যোধন কিন্তু তার এই গর্হিত কর্ম অনুমোদন করেনি এবং সে তাতে মোটেই প্রীত হয়নি।  পান্ডবদের পাঁচ পুত্রের জননী দ্রোপদী তাঁর পুত্রদের মৃত্যু সংবাদ শ্রবণ করে অশ্রুপূর্ণ নয়নে আকুলভাবে ক্রন্দন করতে থাকেন।  তাঁর গভীর শোক শান্ত করার চেষ্টায় অর্জুন তাঁকে বললেন, ‘হে ভদ্রে, আমার গান্ডীবের থেকে নিক্ষিপ্ত তীর দিয়ে তোমার পুত্রদের হত্যাকারীর মস্তক ছেদন করে আমি তোমাকে তা উপহার দেব।  তখন আমি তোমার চোখের জল মুছিয়ে দেব এবং আমি তোমাকে সান্তনা দেব। তারপর তোমার পুত্রদের মৃতদেহ সৎকার করে তুমি তার মাথার উপর দিয়ে দাঁড়িয়ে স্নান করো। ’ অর্জুন, যাঁকে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীঅচ্যুত সখা এবং সারথিরূপে সর্বদা পরিচালিত করেন, তিনি এই ধরনের বাক্যের দ্বারা দ্রৌপদীকে সান্তনা দিলেন।  তারপর ভয়ঙ্কর অস্ত্রশস্ত্রের দ্বারা সজ্জিত হয়ে রথে চড়ে তিনি তাঁর অস্ত্রগুরুর পুত্র অশ্বত্থামার পশ্চাদ্ধাবন করলেন। রাজপুত্রদের হত্যাকারী অশ্বত্থামা দূর থেকে অর্জুনকে প্রচন্ড গতিতে তার দিকে আসতে দেখে অত্যন্ত ভীত হয়ে তার জীবন রক্ষার জন্য রথে করে পলায়ন করে, ঠিক যেভাবে ব্রহ্মা রুদ্রের ভয়ে পলায়ন করেছিলেন।  দ্বিজপুত্র (অশ্বত্থামা) যখন দেখল যে তার অশ্বগুলি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তখন সে বিবেচনা করল যে ব্রহ্মশির নামক (পারমানবিক অস্ত্র) চরম অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া তার আত্মরক্ষা করার আর কোনও উপায় নেই।  তার জীবন বিপন্ন হওয়ার ফলে সে জল স্পর্শপূর্বক আচমন করে ব্রহ্মশির অস্ত্র প্রয়োগ করার জন্য একাগ্র চিত্তে মন্ত্র উচ্চারণ করল, যদিও সে জানত না কিভাবে সেই অস্ত্রটিকে সংবরণ করা যায়।  তার ফলে এক প্রচন্ড তেজরাশি সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ল।  তা এত প্রচন্ড ছিল যে অর্জুন মনে করেছিলেন যে তাঁর জীবন বিপন্ন এবং তখন তিনি শ্রীকৃষ্ণকে সম্বোধন করে বললেন, ‘হে কৃষ্ণ, তুমি হচ্ছ সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর ভগবান।  তোমার বিভিন্ন শক্তির কোন সীমা নেই।  তাই তুমি তোমার ভক্তদের হৃদয়ে অভয় দান করতে পার।  জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশার তাপে দগ্ধ সকলেরই মুক্তির পথ হচ্ছ তুমি।  তুমিই হচ্ছ সেই আদি পুরুষ ভগবান যিনি সৃষ্টির সর্বত্র নিজেকে বিস্তার করেছেন এবং যিনি হচ্ছেন মায়াশক্তির অতীত।  তুমি তোমার চিৎ শক্তির প্রভবে জড়া প্রকৃতির প্রভাব প্রতিহত করেছ।  তুমি সর্বদাই চিন্ময় জ্ঞান এবং আনন্দে অধিষ্ঠিত।  যদিও তুমি এই জড়া প্রকৃতির অতীত, তবুও বদ্ধ জীবের পরম মঙ্গল সাধনের জন্য তুমি চতুর্বর্গাদি অনুষ্ঠান করে মানুষকে মুক্তির পথ প্রদর্শন কর।  এইভাবে ভূ-ভার হরণ করার জন্য এবং তোমার সখাদের ও তোমার অনন্য ভক্তদের নিরন্তর তোমার কথা স্মরণ করাবার জন্য তুমি অবতরণ কর।  হে দেবতাদের দেবতা, এই ভয়ঙ্কর তেজ কিভাবে সর্বত্র বিস্মৃত হচ্ছে ? তা আসছে কোথা থেকে ? আমি তা বুঝতে পারছি না। ’ ”

পরমেশ্বর ভগবান বললেন–“এটি দ্রোণপুত্রের কর্ম।  যদিও সে সেই অস্ত্র সংবরণ করার উপায় জানে না, তবুও সে এই ব্রহ্মশির অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।  সে তার আসন্ন মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে এই কাজ করেছে।  হে অর্জুন, আর একটি ব্রহ্মশির অস্ত্র প্রয়োগের দ্বারাই কেবল এই অস্ত্রের প্রভাব প্রতিহত করা যাবে।  তুমি হচ্ছ অস্ত্রবিশারদ, তোমার নিজের অস্ত্রের দ্বারা তুমি এই অস্ত্রের তেজ প্রতিহত কর। ”

শ্রীসূত গোস্বামী বললেন–“পরমেশ্বর ভগবানের কাছ থেকে সে কথা শুনে অর্জুন পবিত্র হওয়ার জন্য জল স্পর্শ করে আচমন করলেন এবং তারপর পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রদক্ষিণ করে তিনি ব্রহ্মশির অস্ত্রকে প্রতিহত করার জন্য তাঁর ব্রহ্মশির অস্ত্র প্রয়োগ করলেন।  সেই দুটি ব্রহ্মশির অস্ত্রের তেজপুঞ্জের সংঘর্ষের ফলে সূর্যমন্ডলের মতো এক প্রকান্ড অগ্নিপিন্ড নভোমন্ডল এবং সমস্ত গ্রহগুলি আচ্ছাদিত করেছিল।  ত্রিভুবনের সমস্ত অধিবাসীরা সেই অস্ত্র দুটির সংঘর্ষের আগুনের তাপ অনুভব করে প্রলয়কালীন সংবর্তক আগুনের কথা ভাবতে লাগলেন।  এইভাবে জনসাধারণকে উপদ্রুত দেখে এবং গ্রহসমূহের অবশ্যম্ভাবী ধ্বংস আশঙ্কা করে অর্জুন তৎক্ষণাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা অনুসারে সেই দুটি ব্রহ্মশির অস্ত্রকেই তৎক্ষনাৎ সংবরণ করলেন।  অর্জুন, ক্রোধে যাঁর চোখ দুটি তাম্র-গোলকের মতো রক্তিম হয়ে উঠেছিল, ক্ষিপ্রভাবে গৌতমীর পুত্রকে গেপ্তার করে একটি পশুর মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেললেন। ”

“অশ্বত্থামাকে রজ্জুবদ্ধ করার পর অর্জুন তাকে শিবিরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।  পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন তাঁর পদ্মের মতো সুন্দর চক্ষুর দ্বারা দৃষ্টিপাত করে ক্রুদ্ধ অজুর্নকে বলেছিলেন, ‘হে পার্থ, যে অশ্বত্থামা নিরপরাধ, নিদ্রিত শিশুদের রাত্রিবেলা হত্যা করেছে, এই সেই ব্রাহ্মণাধমকে ছেড়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়, একে বধ কর।  মত্ত, প্রমত্ত, উন্মত্ত, নিদ্রিত, নিশ্চেষ্ট, শরণাগত, ভগ্নরথ, ভয়ার্ত, বালক বা স্ত্রীলোক শত্রু  হলেও ধার্মিক ব্যক্তি তাকে বধ করেন না।  যে ঘৃণ্য, ক্রুর ব্যক্তি পরের প্রাণ বধন করে স্বীয় প্রাণ পরিপোষণ করে, তাকে বধ করাই তার পক্ষে মঙ্গলজনক, তা না হলে তার সেই পাপের ফলে সে নরকগামী হবে।  হে অর্জুন, আমি শুনেছি যে তুমি দ্রোপদীর কাছে এই বলে প্রতিজ্ঞা করেছ যে তুমি তাঁর পুত্রহত্যাকারীর মস্তক তাঁকে উপহার দেবে।  অতএব, হে বীর! এই পাপিষ্ঠ কুলাঙ্গার তোমার স্বজনদের হত্যা করেছে, এবং স্বীয় প্রভু দুর্যোধনের অনভিপ্রেত কার্য অনুষ্ঠান করেছে।  সুতরাং, এই অশ্বত্থামাকে বধ কর। ’ ”

সূত গোস্বামী বললেন–“এইভাবে অর্জুনের ধর্মনিষ্ঠা পরীক্ষা করতে করতে শ্রীকৃষ্ণ যদিও তাঁকে উত্তেজিত করেছিলেন, তবুও মহাত্মা অর্জুন তাঁর মহত্ত্ব হেতু পুত্রহন্তা হলেও গুরুপুত্র অশ্বত্থামাকে হত্যা করতে চাইলেন না।  তারপর শ্রীকৃষ্ণকে যিনি সখা ও সারথিরূপে বরণ করেছিলেন, সেই অর্জুন নিজ শিবিরে উপস্থিত হয়ে নিহত পুত্রশোকমগ্না পত্নী দ্রোপদীর কাছে অশ্বত্থামাকে সমর্পণ করলেন।  পশুর মতো রজ্জুবদ্ধ এবং অত্যন্ত জঘন্য কার্য করার ফলে অধোবদন এবং মৌন গুরুপুত্রকে দর্শন করে অত্যন্ত শোভন-চরিতা দ্রোপদী দয়ার্দ্র চিত্তে সম্ভ্রমে তাকে প্রণাম করলেন।  এইভাবে অশ্বত্থামাকে রজ্জুবদ্ধ অবস্থায় দেখে সাধ্বী দ্রোপদী সমম্ভ্রমে বলে উঠলেন– এর বন্ধন মোচন কর, এর বন্ধন মোচন কর, কেননা ব্রাহ্মণ সব সময়ই আমাদের পূজার্হ।  দ্রোণাচার্যের কৃপার প্রভাবেই আপনি গোপনীয় মন্ত্র সহ ধনুর্বিদ্যায় এবং প্রয়োগ ও উপসংহার কৌশল সহ সমস্ত অস্ত্রে শিক্ষালাভ করেছেন। পূজনীয় দ্রোণাচার্য তাঁর পুত্র এই অশ্বত্থামারূপেই বিদ্যমান।  তাঁর অর্ধাঙ্গিনী কৃপীও জীবিত আছেন, কেন না বীর পুত্র প্রসবিনী বলে তিনি তাঁর মৃত পতির সহমৃতা হননি।  হে ধর্মবিদন, হে মহাযশস্বী ! সর্বদা আপনাদের পূর্জ্য এবং বন্দনীয় গুরুকুল যেন দুঃখপ্রাপ্ত না হন।  আমি যেমন পুত্রহারা হয়ে অশ্রুপূর্ণ নয়নে নিরন্তর রোদন করছি, এই অশ্বত্থামার মাতা পতিব্রতা গৌতমী যেন সেভাবে রোদন না করেন।  অসংযতমনা যে সমস্ত ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণকুলের ক্রোধ জন্মায়, সেই ক্রুদ্ধ ব্রহ্মকুল সেই ক্ষত্রিয় বংশকে সপরিবারে শোকে নিমজ্জিত করে শ্রীঘ্র নষ্ট করে। ”

সূত গোস্বামী বললেন– “হে ব্রাহ্মণগণ ! ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির ধর্মনীতি অনুসারে উক্ত বাণীর সেই ন্যায় সঙ্গত মহৎ সকরুণ এবং সমতাপূর্ণ উক্তি সমর্থন করেছিলেন।  মহারাজ যুধিষ্ঠিরের কনিষ্ঠ দুইভ্রাতা নকুল ও সহদেব এবং সাত্যকি, অর্জুন, পরমেশ্বর ভগবান দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণ এবং অন্যান্য সকল মহিলারা সকলেই মহারাজের সঙ্গে একমত হলেন।  ভীম কিন্তু তাঁদের সঙ্গে একমত হতে পারলেন না। তিনি ক্রুদ্ধভাবে প্রস্তাব করলেন, যে জঘন্য দুর্বৃত্ত নিদ্রিত শিশুদের অনর্থক হত্যা করেছে, তাকে বধ করাই উচিত। ”

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভীম, দ্রোপদী এবং অন্যান্যদের কথা শুনে তার বন্ধু অর্জুনের মুখমন্ডল দর্শন করলেন এবং মৃদু হেসে বলতে শুরু করলেন– “ব্রহ্মবন্ধুকে হত্যা করা উচিত নয়, কিন্তু সে যদি আততায়ী হয়, তা হলে তাকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে।  এই সমস্ত নির্দেশ শাস্ত্রে রয়েছে এবং তোমার কর্তব্য হচ্ছে সেই নির্দেশ অনুসারে আচরণ করা। তোমার প্রিয় পত্নীর কাছে তোমার প্রতিজ্ঞাও তোমাকে রক্ষা করতে হবে এবং তোমাকে ভীমসেন এবং আমার সন্তুষ্টিবিধানের জন্য আচরণ করতে হবে। ”

শ্রীসূত গোস্বামী বললেন– “ঠিক সেই সময়ে অর্জুন ভগবানের নির্দেশ হৃদয়ঙ্গম করলেন এবং তাঁর তরবারির দ্বারা তিনি অশ্বত্থামার মস্তকের কেশরাশি এবং মণি ছেদন করলেন।  শিশু হত্যা করার ফলে অশ্বত্থামার দেহের দীপ্তি ইতিমধ্যেই হারিয়ে গিয়েছিল, এবং এখন তার মস্তকের মণি কেটে নেওয়ার ফলে সে সম্পূর্ণভাবে তেজহীন হয়ে পড়ল।  এই অবস্থায় তাকে বন্ধনমুক্ত করে শিবির থেকে বার করে দেওয়া হল।  মস্তক মুন্ডন করা, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা এবং বাসস্থান থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হচ্ছে ব্রহ্মবন্ধুর উপযুক্ত শাস্তি।  দৈহিকভাবে তাকে হত্যা করার নির্দেশ নেই।  তারপর পান্ডবেরা এবং দ্রোপদী শোকার্ত চিত্তে তাঁদের মৃত আত্মীয়দের সৎকার অনুষ্ঠান সম্পাদন করছিলেন।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,959 hits