অষ্টম অধ্যায়- ভরত মহারাজের চরিত্র বর্ণনা

শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে রাজন্, একদিন মল-মূত্র ত্যাগ আদি প্রাতঃকৃত্য সমাপন করে স্নান করার পর, মহারাজ ভরত প্রণব মন্ত্র জপ করতে করতে তিন মুহূর্তকাল গণ্ডকী নদীর তীরে উপবেশন করেছিলেন। হে রাজন্, মহারাজ ভরত যখন নদীর তীরে বসে ছিলেন, তখন পিপাসায় কাতর হয়ে একটি হরিণী সেখানে জলপান করতে এসেছিল। হরিণীটি যখন গভীর তৃপ্তি সহকারে জলপান করছিল, তখন অতি নিকটে একটি সিংহ গর্জন করে উঠল। সেই লোক-ভয়ঙ্কর শব্দ হরিণীটির কর্ণে প্রবেশ করল। হরিণী স্বভাবতই মৃত্যুভয়ে ভীতা এবং তাই সে চকিত নয়নে ইতস্তত দৃষ্টিপাত করছিল। সেই গর্জন শুনে সে অত্যন্ত ভয়ার্ত হয়েছিল এবং ভয়চকিত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, পিপাসা নিবৃত্তি না হলেও সে লাফ দিয়ে নদী পার হল। সেই হরিণীটি পূর্ণ গর্ভবর্তী ছিল; সুতরাং ভয়ে সে যখন লাফ দিয়েছিল, তখন তার গর্ভস্থ সন্তান যোনিনির্গত হয়ে নদীর প্রবাহে পতিত হল। যূথ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং গর্ভপাতে ক্লিষ্ট সেই কৃষ্ণসার মৃগবধূ লাফ দিয়ে নদী পার হওয়ার পর ভয়ে অত্যন্ত পীড়িতা হয়ে, একটি গুহায় নিপতিত হওয়া মাত্র দেহত্যাগ করল। রাজর্ষি ভরত নদীর তীরে বসে, সেই মাতৃহারা হরিণ-শিশুটিকে নদীর জলে ভেসে যেতে দেখলেন। তা দেখে তাঁর হৃদয়ে করুণার সঞ্চার হল।
তিনি বন্ধুর মতো সেই মৃগ-শিশুটিকে স্রোত থেকে তুলে এনে তাকে মাতৃহারা জেনে তাঁর আশ্রমে নিয়ে এসেছিলেন। ধীরে ধীরে মহারাজ ভরত সেই মৃগটির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তৃণ আদি দ্বারা পোষণ, বাঘ এবং অন্যান্য হিংস্র প্রাণীদের আক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা, কণ্ডূয়ন আদির দ্বারা প্রীতি সম্পাদন, চুম্বন আদির দ্বারা লালন প্রভৃতির দ্বারা তিনি তাকে গভীর স্নেহে লালন-পালন করতে লাগলেন। এইভাবে হরিণ শিশুটির প্রতি আসক্ত হয়ে, মহারাজ ভরত তাঁর আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের কর্তব্য কর্মগুলি বিস্মৃত হয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তিনি ভগবানের আরাধনা থেকেও ভ্রষ্ট হয়েছিলেন। এইভাবে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তাঁর পারমার্থিক উন্নতি সাধনের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে বিস্মৃত হয়েছিলেন।”
মহারাজ ভরত মনে মনে চিন্তা করতেন- “আহা, এই অসহায় হরিণ শিশুটি ভগবানের কালরূপ চক্রের পরিভ্রমণের বেগে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের থেকে বিচ্যুত হয়ে আমাকেই আশ্রয় রূপে প্রাপ্ত হয়েছে। সে আমাকেই তার মাতা, পিতা, ভ্রাতা, আত্মীয় ও সহচর বলে মনে করছে। আমার প্রতি এর পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমাকে ছাড়া এ আর অন্য কাউকে জানে না। অতএব, এর প্রতি মাৎসর্য পরায়ণ হয়ে আমার মনে করা উচিত নয় যে, এর জন্য আমার স্বার্থহানি হবে। এর লালন, পালন, পোষণ এবং তোষণ করা আমার অবশ্য কর্তব্য। যেহেতু এ আমার শরণাগত হয়েছে, তাই আমি কিভাবে তাকে অবহেলা করতে পারি? যদিও এই হরিণটির জন্য আমার পারমার্থিক কর্তব্য ব্যাহত হচ্ছে, তবুও শরণাগতের অবহেলা করা তো উচিত নয়। তাহলে সেটি মস্ত বড় অন্যায় হবে। ত্যাগের আশ্রম অবলম্বন করা সত্ত্বেও, মহান ব্যক্তি অবশ্যই দুঃখ-দুর্দশাক্লিষ্ট বদ্ধ জীবদের প্রতি অত্যন্ত করুণা অনুভব করেন। নিশ্চয়ই এই প্রকার শরণাগত ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য নিজের গুরুতর স্বার্থও উপেক্ষা করা উচিত। সেই হরিণ-শিশুটির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়ে, মহারাজ ভরত তার সঙ্গে উপবেশন, শয়ন, ভ্রমণ, স্নান, এমনকি আহার পর্যন্ত করতেন। এইভাবে হরিণ-শিশুটির প্রেমে তাঁর হৃদয় আবদ্ধ হযেছিল। মহারাজ ভরত যখন কুশ, কুসুম, সমিৎ, পত্র, ফল, মূল এবং জল সংগ্রহ করার জন্য বনে যেতেন, তখন পাছে শৃগাল, কুকুর, ব্যাঘ্র আদি হিংস্র জন্তু এসে মৃগ শিশুটির প্রাণ বিনাশ করে, এই আশঙ্কায় তিনি সেই হরিণ-শিশুটিকে সঙ্গে করেই বনে প্রবেশ করতেন। বনে প্রবেশ করে সেই হরিণ-শাবকের শিশুসুলভ আচরনে মহারাজ ভরত অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে স্নেহবিহ্বল হয়ে পড়তেন। তিনি কখনও সেই হরিণ-শিশুটিকে স্কন্ধে বহন করতেন, কখনও কোলে স্থাপন করতেন এবং যখন শয়ন করতেন, তখন ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর বক্ষে স্থাপন করতেন। এইভাবে সেই পশুটিকে আদরের সঙ্গে লালন করতে করতে তিনি পরম আনন্দ লাভ করতেন। মহারাজ ভরত যখন ভগবানের পূজা করতেন অথবা নিত্য-নৈমিত্তিক কর্ম অনুষ্ঠান করতেন, তখন সেই ক্রিয়া সমাপ্ত না হতেই তিনি মাঝে মাঝে উঠে সেই হরিণ-শিশুটি কোথায় গেছে তা দেখতেন। যখন তিনি দেখতেন যে হরিণ-শিশুটি ভালভাবেই রয়েছে, তখন তাঁর মন এবং হৃদয় অত্যন্ত উৎফুল্ল হত এবং তিনি সেই হরিণ-শাবকটিকে আশীর্বাদ করে বলতেন, “হে বৎস, তোমার সর্বপ্রকার মঙ্গল হোক।” ভরত মহারাজ যদি কখনও সেই হরিণটিকে না দেখতে পেতেন, তখন তাঁর মন অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে উঠত। কৃপণ ব্যক্তি যেমন ধন লাভ করার পর সেই ধন হারিয়ে ফেললে অত্যন্ত দুঃখিত হয়, তেমনই ভরত মহারাজ সেই হরিণ-শাবকটির অদর্শনে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে শোক করতেন। এইভাবে মোহাচ্ছন্ন হয়ে তিনি বলেছিলেন- “আহা, এই মৃগটি এখন অসহায়। আমি অত্যন্ত দুর্ভাগা এবং আমার মন চতুর ব্যাধের মতো সর্বদা প্রবঞ্চনা এবং নিষ্ঠুরতায় পূর্ণ। সজ্জন ব্যক্তি যেমন ধূর্ত বন্ধুর দুর্ব্যবহারের কথা ভুলে গিয়ে তাকে বিশ্বাস করে, ঠিক সেইভাবে এই হরিণটি আমার উপর তার বিশ্বাস স্থাপন করেছে। আমি এইবাবে অবিশ্বাসীর মতো আচরণ করলেও সে কি পুনরায় আমার কাছে ফিরে আসবে এবং আমার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে? আহা! আমি কি আবার দেখতে পাব যে, এই পশুটি দেবতা কর্তৃক সুরক্ষিত হয়ে এবং ব্যাঘ্র আদি হিংস্র প্রাণীর অনুপস্থিতিতে নির্ভয়ে কোমল তৃণ ভক্ষণ করতে করতে এই আশ্রমের উপবনে চরে বেড়াচ্ছে? কি জানি, কোন নেকড়ে অথবা কুকুর অথবা যূথচর শূকর আদি অথবা কোন একচর ব্যাঘ্র তাকে ভক্ষণ করেনি তো? হায়, যখন সূর্যের উদয় হয়, তখন সমগ্র জগতের মঙ্গলোদয় হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেবল আমারই মঙ্গলোদয় হল না। সূর্যদেব মূতিমান বেদস্বরূপ, কিন্তু আমি বেদোক্ত সমস্ত দয়া ধর্ম থেকে বঞ্চিত। সূর্যদেব এখন অস্তাচলে গমন করছেন, কিন্তু মাতৃহারা হয়ে সে অসহায় পশুটি আমাকে বিশ্বাস করেছিল, সে এখনও ফিরে এল না। সে হরিণ-শিশুটি ঠিক একটি রাজকুমারের মতো। সে কখন ফিরে আসবে? সে কখন আবার তার অত্যন্ত মনোমুদ্ধকর ক্রীড়াবিলাস প্রদর্শন করবে? সে কখন আমার আহত হৃদয়কে শান্ত করবে? আমার নিশ্চয়ই পুণ্যের লেশমাত্র নেই, তা না হলে এখনও সেই হরিণটি ফিরে আসছে না কেন। হায়! আমি যখন অলীক সমাধি অবলম্বন করে চক্ষু নিমীলিত করে থাকতাম, তখন সে প্রণয়-কোপবশত আমার চতুর্দিকে ভ্রমণ করতে করতে জলবিন্দুর মতো কোমল শৃঙ্গের অগ্রভাগ দ্বারা ভয়ে ভয়ে আমাকে স্পর্শ করত। আমি যখন কুশ ঘাসে যজ্ঞের সামগ্রী রাখতাম, তখন সেই হরিণ-শিশুটি খেলা করতে করতে তার দন্তের দ্বারা কুশ আকর্ষণ করে যজ্ঞীয় দ্রব্যকে দূষিত করলে, আমি যখন তাকে তিরস্কার করতাম, তখন সে অত্যন্ত ভীত হয়ে, খেলা পরিত্যাগ করে, সংযতেন্দ্রিয় মুনি-বালকের মতো স্থির হয়ে বসে থাকত। এইভাবে উন্মাদের মতো প্রলাপ করে, মহারাজ ভরত গ্রাত্রোত্থান করে বাইরে গেলেন। মৃগ শিশুর পদচিহ্ন দর্শন করে তিনি বলতে লাগলেন, “হে দুর্ভাগা ভরত, ধরিত্রীর তপস্যার তুলনায় তোমার তপস্যা অতি নগণ্য। ভাগ্যবতী বসুন্ধরা তাঁর তপস্যার ফলে মৃগ শিশুর ক্ষুদ্র, সুন্দর, পরম মঙ্গলময় এবং কোমল পদচিহ্নের দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে। এই পদচিহ্নের পঙ্‌ক্তি আমার মতো মৃগের বিরহকাতর ব্যক্তিকে প্রদর্শন করছে কিভাবে সে বনের দিকে গেছে এবং কিভাবে আমি আমার সেই হারানো ধন ফিরে পেতে পারি। এই পদচিহ্নের প্রভাবে এই ভূমি স্বর্গ অথবা মুক্তিকামী ব্রাহ্মণদের দেবযজ্ঞ অনুষ্ঠানের উপযুক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। তারপর চন্দ্র উদিত হলে, চন্দ্রে মৃগাঙ্ক দর্শন করে মহারাজ ভরত উন্মাদের মতো বলতে লাগলেন, ‘হয়ত দীনজন-বৎসল ভগবান চন্দ্রদেব আশ্রমচ্যুত মাতৃহারা এই মৃগ-শিশুটিকে কৃপাপরবশ হয়ে, ভয়ঙ্কর সিংহের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছেন। তারপর চন্দ্রকিরণ অনুভব করে, মহারাজ ভরত উন্মাদের মতো বলতে লাগলেন, ‘ঐ মৃগশিশু আমার একান্ত অনুগত, আমি তাকে পুত্ররূপে অঙ্গীকার করেছি, দাবাগ্নি শিখার মতো তার বিরহবেদনা আমার হৃদয়রূপ স্থলপদ্মকে বিশীর্ণ করছে। আমার এই বেদনা দর্শন করে, চন্দ্রদেব আমার উপর অমৃত বর্ষণ করছেন, ঠিক যেভাবে প্রবল জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার বন্ধু জল সিঞ্চন করেন। এইভাবে চন্দ্রদেব আমার সুখ বিধান করছেন।’ ”
শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বললেন- “হে রাজন্, এইভাবে ভরত মহারাজ মৃগ-শিশুরূপে প্রকাশমান দুর্দমনীয় বাসনার দ্বারা অভিভূত হয়েছিলেন। তাঁর পূর্বকৃত কর্মের ফলে তিনি যোগ, তপস্যা এবং ভগবানের আরাধনা থেকে ভ্রষ্ট হয়েছিলেন। তা যদি তাঁর পূর্বকৃত কর্মের ফল না হত, তাহলে কিভাবে তিনি তাঁর নিজের পুত্র এবং আত্মীয়-স্বজনদের পারমার্থিক প্রগতির পথে প্রতিবন্ধকরূপে মনে করে পরিত্যাগ করেও, অবশেষে একটি হরিণ-শিশুর প্রতি এইভাবে আসক্ত হয়ে পড়লেন? এটি অবশ্যই তাঁর প্রারব্ধ কর্মের ফল। রাজা সেই হরিণ-শাবকটির লালন-পালনে এতই মগ্ন ছিলেন যে, তিনি তাঁর পারমার্থিক কার্যকলাপ থেকে অধঃপতিত হন। অবশেষে, কালসর্প যেভাবে মুষিক বিবরে প্রবেশ করে, সেইভাবে মৃত্যু তাঁর সম্মুখে এসে উপস্থিত হল। তাঁর মৃত্যুর সময় তিনি দেখলেন যেন সেই হরিণ-শিশুটি তাঁর নিজের পুত্রের মতো তাঁর পাশে বসে শোক প্রকাশ করছে। তাঁর চিত্ত সেই হরিণটিতেই অভিনিবিষ্ট ছিল, তার ফলে তিনি ভগবৎ বিমুখ মানুষের মতো এই সংসার, হরিণ এবং মনুষ্য দেহ ত্যাগ করায়, পরবর্তী জীবনে তিনি একটি হরিণের শরীর প্রাপ্ত হলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর একটি লাভ হয়েছিল। একটি হরিণের শরীর প্রাপ্ত হলেও তাঁর পূর্বজন্মের স্মৃতি বিনষ্ট হয়নি। হরিণের শরীর পাওয়া সত্ত্বেও ভরত মহারাজ তাঁর পূর্ব জন্মের সুদৃঢ় ভক্তির প্রভাবে তাঁর সেই শরীর ধারণ করার কারণ উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাঁর বিগত এবং বর্তমান জীবনের কথা বিবেচনা করে, তিনি নিরন্তর অনুতাপ করতে করতে নিম্নলিখিত কথাগুলি বলেছিলেন।”
হরিণ-শরীরে মহারাজ ভরত অনুতাপ করতে লাগলেন- “হায় কী দুর্ভাগ্য! আমি আত্ম-উপলব্ধির পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছি। আমি আমার নিজের পুত্র, স্ত্রী, গৃহ ইত্যাদি পরিত্যাগ করে, আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য পবিত্র বনের নির্জন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলাম। আমি জিতেন্দ্রিয় হয়ে এবং আত্মাকে উপলব্ধি করে, ভগবান বাসুদেবের কথা শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, বন্দন, অর্চন আদি ভক্তির অঙ্গ অনুশীলন করার মাধ্যমে ভগবানের সেবায় যুক্ত হয়েছিলাম। আমার এই প্রচেষ্টায় আমি এতই সফল হয়েছিলাম যে, আমার মন সর্বদা ভগবানের পেমময়ী সেবায় মগ্ন থাকত। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আমার মূর্খতার জন্য আমার চিত্ত পুনরায় একটি হরিণের প্রতি আসক্ত হয়েছিল। এখন একটি হরিণ-শরীর প্রাপ্ত হয়ে আমি ভগবদ্ভক্তির স্তর থেকে অনেক নীচে অধঃপতিত হয়েছি।”
“ভরত মহারাজ যদিও মৃগ-শরীর প্রাপ্ত হয়েছিলেন, কিন্তু নিরন্তর অনুতাপ করার ফলে, তিনি সম্পূর্ণরূপে জড় বিষয়ের প্রতি বিরক্ত হয়েছিলেন। তিনি সেই কথা কারোর কাছে প্রকাশ করেননি, কিন্তু তিনি তাঁর মৃগমাতাকে পরিত্যাগ করে, তাঁর জন্মস্থান কালঞ্জর পর্বত থেকে পুনরায় শালগ্রাম ক্ষেত্রে পুলস্ত্য-পুলহ আশ্রমে ফিরে গিয়েছিলেন। সেই আশ্রমে অবস্থান করে, আবার যাতে অসৎ সঙ্গের শিকার না হতে হয়, সেই জন্য মহারাজ ভরত অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তাঁর পূর্বজীবনের কথা কারও কাছে ব্যক্ত না করে, তিনি কেবল শুকনো পাতা খেয়ে সেই আশ্রমে অবস্থান করতে লাগলেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে একাকী ছিলেন না, কারণ পরমাত্মা যে সর্বদাই তাঁর সঙ্গে রয়েছেন, সেই কথা তিনি উপলব্ধি করতেন। এইভাবে তিনি তাঁর মৃগ-শরীরের অবসানকালের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। তারপর দেহ অবসানকাল সমুপস্থিত হলে, তিনি সেই পবিত্র তীর্থে স্নান করে তাঁর মৃগ-শরীর পরিত্যাগ করেছিলেন।”

Leave a Reply

September 2025
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

Blog Stats

  • 140,959 hits