ব্রহ্মা বললেন- “সেই বিরাট পুরুষের মুখ বাক্ ইন্দ্রিয় এবং অধিষ্ঠাত্রী দেবতা অগ্নির উৎপত্তি স্থান, তাঁর ত্বক আদি সপ্তধাতু গায়ত্রী আদি বেদের সপ্ত ছন্দের ক্ষেত্র। তাঁর জিহ্বা হব্য (দেবতাদের অন্ন) , কব্য (পিতৃদেব অন্ন), অমৃত (মনুষ্যদের অন্ন), মধুরাদি ষড়বিধ রসের উৎপত্তিস্থান। তাঁর নাসারন্দদ্বয় সমস্ত জীবের প্রাণের ও বায়ুর উৎপত্তিস্থল, তাঁর ঘ্রাণেন্দ্রিয় থেকে অশ্বিনী কুমারদ্বয় ও সর্বপ্রকার ওষধি উৎপন্ন হয়েছে এবং শ্বাসশক্তি থেকে বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধি উৎপন্ন হয়েছে। তাঁর নেত্র রূপসমূহের এবং রূপ প্রকাশক বস্তুসমূহের উৎপত্তিস্থল। তাঁর নেত্রগোলকদ্বয় স্বর্গ এবং সূর্যের উৎপত্তিস্থল। তাঁর কর্ণদ্বয় দিকসমূহ এবং সমস্ত বেদের উৎপত্তি স্থান এবং তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয় আকাশ এবং সর্বপ্রকার শব্দের উৎপত্তিস্থল। তাঁর শরীর বস্তুশক্তি সমূহের এবং সৌভাগ্যের স্থান। তাঁর ত্বক গতিশীল বায়ু, স্পর্শ এবং সর্বপ্রকার যজ্ঞের উৎপত্তিসথল। তাঁর রোমসমূহ সমস্ত বনস্পতির উৎপত্তিস্থল। তাঁর কেশদাম ও শ্মশ্রুসমূহ মেঘসমূহের উৎপত্তি স্থান এবং তাঁর নখসমূহ বিদ্যুতের, শিলা ও ধাতুর উৎপত্তি স্থান। ভগবানের বাহুদ্বয় মহান্ দেবতা এবং জনসাধারণের রক্ষক নেতাদের উৎপত্তিস্থল। সেই পুরুষের পদক্ষেপ ভূর্লোক, ভূবর্লোক এবং স্বর্লোকের আশ্রয়। তাঁর শ্রীপাদপদ্ম আমাদের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় বস্তুসমূহকে রক্ষা করে, সর্বপ্রকার ভয় থেকে রক্ষা করে এবং সর্ববিধ কাম ও সকল প্রকার বর আশীর্বাদের আশ্রয়স্থল। ভগবানের জননেন্দ্রিয় থেকে জল, বীর্র্য, জনন, বৃষ্টি এবং প্রজাপতিদের উৎপত্তি হয়েছে। তাঁর জননেন্দ্রিয় সমস্ত সুখের কারণ যা জননের ক্লেশকে লাঘব করে।”
“হে নারদ, সেই পুরুষের গুহ্যেন্দ্রিয় হচ্ছে যম, মিত্র ও মলত্যাগের স্থান, এবং তাঁর পায়ু হিংসা, দুর্ভাগ্য, মৃত্যু এবং নরকের আশ্রয় বলে খ্যাত। সেই বিরাট পুরুষের পৃষ্টদেশ পরাভব, অধর্ম ও অজ্ঞানের স্থান, তাঁর নাড়ীসমূহ নদ-নদীর এবং তাঁর অস্থিরাজি পর্বতসমূহের অধিষ্ঠান। সেই বিরাট পুরুষের নির্বিশেষ রূপ মহাসাগর সমূহের আশ্রয়স্থল। তাঁর উদর ভৌতিক দৃষ্টিতে নিহত জীবদের আশ্রয়। তাঁর হৃদয় জীবদের সুক্ষ্ম শরীরের আলয়। বুদ্ধিমান মানুষেরা এইভাবে তাঁকে জানেন। সেই মহান পুরুষের চেতনা ধর্মের, আমার, তোমার এবং সনক, সনাতন, সনৎ কুমার, সনন্দন, এই চার কুমারদের আশ্রয়স্থল। সেই চেতনা সত্য এবং দিব্য জ্ঞানেরও আশ্রয়। আমার (ব্রহ্মা) থেকে শুরু করে তুমি, ভব (শিব), তোমার অগ্রজ মহান ঋষিগণ, দেবতাগণ, অসুরগণ, মনুষ্যগণ, নাগসমূহ, পক্ষীকুল, জন্তুগণ, সরীসৃপগণ, গন্ধর্বগণ, অপ্সরাগণ যক্ষসমূহ, রাক্ষণগণ, ভূতগণ, উরগ (সর্পাদি), পশুসমূহ, পিতৃগণ, সিদ্ধগণ, বিদ্যাধরগণ, চারণগণ, বৃক্ষরাজি এবং জল, স্থল ও অন্তরীক্ষচারী অন্যান্য বিবিধ প্রাণীসমূহ এবং গ্রহ, নক্ষত্র, ধুমকেতু, তারকা, তড়িৎ, মেঘমালা, ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান যে কিছু সকলেই সেই পুরুষ। অর্থাৎ তার থেকে কিছুরই ভিন্ন সত্তা নেই। যদিও তিনি এক বিঘৎ পরিমান (নয় ইঞ্চি) স্থানেমাত্র অধিষ্ঠিত, তথাপি তিনি এই বিশ্বকে আবৃত করে আছেন। সূর্য যেমন বিকিরণের মাধ্যমে অন্তর এবং বাহির উভয়ই আলোকিত করে, তেমনই সেই পরম পুরুষ বিরাট রূপ প্রকাশ করে ব্রহ্মান্ডের অন্তরে এবং বাহিরে সবকিছু পালন করেন।”
“হে ব্রাহ্মণ নারদ, সেই পরমেশ্বর ভগবান অমৃত এবং অভয়ের নিয়ন্তা। তিনি মৃত্যু এবং জড় জগতের সকাম কর্মের অতীত। তাই সেই পরমেশ্বরের মহিমা অসীম। পরমেশ্বর ভগবান তাঁর শক্তির এক-চতুর্থাংশের দ্বারা এই জড় জগৎ প্রকাশ করেছেন, যেখানে সমস্ত বদ্ধ জীবেরা বিরাজ করে। কিন্তু তিনটি উচ্চতর লোকের এবং জড় জগতের আবরণের উর্ধ্বে স্থিত ভগবদ্ধাম অমরতা, নির্ভয়তা এবং জরা ও ব্যাধির উৎকন্ঠা থেকে মুক্ত নিত্য নিবাস। চিজ্জগত, যা ভগবানের শক্তির তিন-চতুর্থাংশ, তা জড় জগতের বাহিরে অবস্থিত এবং সেই স্থান তাদের জন্য যাদের কখনো পুনর্জন্ম হবে না। আর যারা সংসার-জীবনে প্রতি আসক্ত এবং কঠোর ব্রহ্মচর্য ব্রত পালন করে না, তাদের জড় জগতের ত্রিলোকের মধ্যেই থাকতে হয়। সর্বব্যাপ্ত পরমেশ্বর ভগবান তাঁর শক্তির প্রভাবে, যারা জড় জগতের উপর আধিপত্য করতে চায় এবং যারা ভগবদ্ভক্তিপরায়ণ, উভয়েরই পরম নিয়ন্তা। তিনি সর্বাবস্থাতেই অজ্ঞান এবং বাস্তবিক জ্ঞান উভয়েরই পরম প্রভু। সেই পরমেশ্বর ভগবান থেকে সমস্ত ব্রহ্মান্ড এবং জড় উপাদান, গুণ এবং ইন্দ্রিয় সমন্বিত বিরাটরূপ উদ্ভুত হয়েছে। তথাপি তিনি এই সমস্ত জড় প্রকাশ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, ঠিক যেমন সূর্য তার কিরণ এবং তাপ থেকে ভিন্ন থাকে। আমি যখন মহাপুরুষের (মহা বিষ্ণু) নাভি পদ্মা থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলাম, তখন আমার কাছে যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার জন্য সেই মহাপুরুষের অবয়ব ব্যতীত অন্য কোন সামগ্রী ছিল না। যজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য যথোপযুক্ত কালসহ (বসন্ত), পুষ্প, পত্র, কুশ ও যজ্ঞভূমি- এই সমস্ত যজ্ঞ সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। যজ্ঞ অনুষ্ঠানের অন্য সমস্ত উপকরণগুলি হচ্ছে পাত্র, শস্য, ঘৃত, মধু, স্বর্ণ, মৃত্তিকা, জল, ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ এবং যজ্ঞ সম্পাদনকারী চারজন পুরোহিত। যজ্ঞের অন্যান্য প্রয়োজনগুলি হচ্ছে বিভিন্ন নাম বিশিষ্ট মন্ত্র, ব্রত এবং দক্ষিণার দ্বারা বিভিন্ন দেবতাদের আহ্বান করা। এই আহ্বান বিশিষ্ট প্রয়োজন এবং বিশিষ্ট বিধির দ্বারা বিশেষ শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে হওয়া উচিত। পরমেশ্বর ভগবানের অঙ্গ থেকে আমি যজ্ঞের এই সমস্ত সামগ্রী সংগ্রহ করেছি। দেবতাদের নাম উচ্চারণ করার মাধ্যমে ক্রমশঃ চরম লক্ষ্য বিষ্ণুকে লাভ করা যায় এবং এইভাবে প্রায়শ্চিত্ত এবং চরম আহুতি পূর্ণরূপে সম্পাদিত হয়। এইভাবে আমি সমস্ত যজ্ঞের পরম ভোক্তা, পরমেশ্বর ভগবানের দেহের অঙ্গ থেকে যজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য সমস্ত সামগ্রী এবং সম্ভার সৃষ্টি করে তাঁর যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে তাঁকে সন্তুষ্ট করেছিলাম।”
“হে পুত্র! তারপর তোমার নয়জন ভ্রাতা, যারা হচ্ছে প্রজাপতি, ব্যক্ত এবং অব্যক্ত দুইপ্রকার পুরুষদের প্রসন্ন করার জন্য যথাযথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিল। তারপর মনুষ্য জাতির পিতা মনুগণ, মহান ঋষিগণ, দেবতাগণ, বিদ্বান পন্ডিতগণ, দেবতাগণ, দৈত্যগণ এবং মানবগণ যজ্ঞের দ্বারা সেই পরমেশ্বর ভগবানকে আরাধনা করেছিলেন। ভগবানের শক্তিশালী জড়া প্রকৃতিতে এই বিশ্ব অধিষ্ঠিত। ভগবান স্বয়ং অগুণ হওয়া সত্তে¡ও সৃষ্টি কার্য, পালন কার্য এবং বিনাশকার্য সাধনের জন্য প্রকৃতির গুণসমূহ গ্রহণ করেন। তাঁর ইচ্ছায় আমি সৃষ্টি করি, শিব সংহার করেন এবং তিনি স্বয়ং নিত্য ভগবানস্বরূপে সবকিছু পালন করেন। তিনি এই তিন শক্তির শক্তিমান নিয়ন্তা।”
“হে পুত্র! তুমি আমার কাছে যা কিছু প্রশ্ন করেছ, আমি তা তোমাকে এইভাবে বললাম। তুমি নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো যে (জড় এবং চেতন জগতে) কার্য এবং কারণরূপে যা কিছু বর্তমান, তাদের কোন কিছুই পরমেশ্বর ভগবান থেকে স্বতন্ত্র নয়।”
“হে নারদ! যেহেতু আমি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির শ্রীপাদপদ্ম অত্যন্ত ঐকান্তিকতা সহকারে ধারণ করেছি, তাই আমি যা কিছু বলি তা কখনোই মিথ্যা হয় না। আমার মনের প্রগতিও কখনো অবরুদ্ধ হয় না এবং আমার ইন্দ্রিয়সমূহ কখনো বিষয়ের অনিত্য আসক্তিতে অধঃপতিত হয় না। বেদময়, তপোময়, এবং প্রজাপতিদের দ্বারা পূজিত প্রভু একাগ্র চিত্তে নিপুণতা সহকারে যোগ সমাশ্রয় করেও যখন জন্মদাতার সম্বন্ধে জানতে পারিনি, তখন আমার সৃষ্ট অন্যান্য জীবেরা কিভাবে সেই পুরুষকে জানতে পারবে? তাই জন্ম-মৃত্যুর ক্লেশ থেকে উদ্ধারকারী তাঁর শ্রীচরণে আত্ম-সমর্পণ করাই আমার পক্ষে সর্বাপেক্ষা শ্রেয়স্কর। এই আত্ম-সমর্পণ সর্বমঙ্গলময় এবং তার ফলে সর্ব প্রকার সুখ লাভ হয়। আকাশ যেমন নিজেই নিজের অন্ত পায় না, তেমনই ভগবানও তাঁর সীমা অনুমান করতে পারেন না। অতএব অন্যেরা কিভাবে তা করতে পারে? যেহেতু আমি, তুমি এবং শিব এই চিন্ময় আনন্দের অবধি অনুমান করতে পারি না, অন্য দেবতারা তা কিভাবে জানবে? যেহেতু আমরা সকলেই ভগবানের মায়ার দ্বারা বিমোহিত, তাঁর মায়া বিনির্মিত এই বিশ্বকে আমরা আমাদের নিজ নিজ ক্ষমতা অনুসারে দর্শন করি। আমরা সেই পরমেশ্বর ভগবানকে আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি, যাঁর অবতার এবং কার্যসমূহ আমরা মহিমা কীর্তনের জন্য গান করি, যদিও তাঁর স্বরূপে তাঁকে পূর্ণরূপে জানা প্রায় অসম্ভব। সেই আদিপুরুষ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মরহিত হওয়া সত্ত্বেও প্রথম অবতার মহাবিষ্ণু রূপে নিজেকে বিস্তার করে এই ব্যক্ত জগতের সৃষ্টি করেন। তাঁর মধ্যেই অবশ্য সৃষ্টি প্রকাশিত হয়, এবং জড় পদার্থ ও জড় অভিব্যক্তি সবই তিনি স্বয়ং। কিছুকালের জন্য তিনি তাদের পালন করেন এবং তারপর তিনি পুনরায় তাদের আত্মসাৎ করে নেন। পরমেশ্বর ভগবান পূর্ণ শুদ্ধ এবং জড় জগতের সমস্ত কলুষ থেকে মুক্ত। তিনি পরম সত্য এবং পূর্ণ জ্ঞানের মূর্ত বিগ্রহ। তিনি সর্বব্যাপ্ত, অদ্বিতীয়, অনাদি এবং অনন্ত। হে মহর্ষি নারদ, মহান মুনিরা সবরকম জড় কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে যখন অবিচলিত ইন্দ্রিয়ের শরণ গ্রহণ করেন, তখন তাঁকে জানতে পারেন। অন্যথা, বৃথা তর্কের দ্বারা সবকিছু বিকৃত হয়ে যায় এবং ভগবান আমাদের দৃষ্টির অগোচরে চলে যান। কারণার্ণবশায়ী বিষ্ণু পরমেশ্বর ভগবানের প্রথম অবতার, এবং তিনি নিত্যকাল, স্বভাব, কার্যকারণাত্মক প্রকৃতি, মন, মহাভূত, অহঙ্কার-তত্ত্ব, প্রকৃতির গুণসমূহ, ইন্দ্রিয়সমূহ, বিরাটরূপ, গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু, স্থাবর, জঙ্গম আদি সমস্ত জীব সমষ্টির ঈশ্বর। আমি স্বয়ং (ব্রহ্মা, শিব, ভগবান বিষ্ণু, দক্ষ আদি প্রজাপতি, তোমরা (নারদ তথা কুমারগণ) ইন্দ্র, চন্দ্র আদি স্বর্গলোকের অধিপতিগণ, ভুবর্লোকের অধিপতিগণ, মনুষ্যলোকের অধিপতিগণ, পাতালাদির অধিপতিগণ, গন্ধর্ব, বিদ্যাধর ও চারণলোকের অধিপতিগণ, যক্ষ, রাক্ষস, সর্প ও নাগকুলের নায়কগণ, ঋষিগণ ও পিতৃগণের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ, দৈত্যেন্দ্র,সিদ্ধেশ্বর ও দানবেন্দ্রগণ, অন্যান্য যে সমস্ত প্রেত, পিশাচ, ভূত, কুষ্মান্ড, জলচর, পশু এবং পক্ষীকুলের অধিপতিগণ এবং এই জগতে যা কিছু ঐশ্বর্যযুক্ত, তেজযুক্ত, ইন্দ্রিয় শক্তিযুক্ত, মনোশক্তিযুক্ত, বলবান, শোভাসম্পন্ন, লজ্জাযুক্ত, বিভূতিসম্পন্ন, বুদ্ধিযুক্ত, আশ্চর্যজনক, রূপমান ও অরূপ তা সকলেই পরমেশ্বর ভগবানের অনন্ত শক্তির এক অংশ মাত্র।”
“হে নারদ, সেই পরম পুরুষের লীলাবতারদের কথা শ্রবণ করলে অন্য কথা শ্রবণ করার বাসনারূপ কলুষ বিদূরিত হয়। সেই সমস্ত লীলা অত্যন্ত শ্রুতিমধুর এবং আস্বাদনীয়। তাই তারা আমার হৃদয়ে সর্বদাই বিরাজমান।”
ষষ্ঠ অধ্যায়- পুরুষ-সূক্তের স্বীকৃতি
04 May 2025 Leave a comment
in অমল পুরান, দ্বিতীয় স্কন্ধ- জগতের প্রকাশ