শুদ্ধভক্তের দৃষ্টিতে নবদ্বীপ দর্শনের যোগ্যতা

প্রতি বছর গৌর-পূর্ণিমায় বৈষ্ণবরা নবদ্বীপ ধাম পরিক্রমা করেন। সবচেয়ে উদারভাবে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সকল জীবকে ভগবৎ-প্রেম লাভের পথ দেখিয়েছেন। শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর গান গেয়েছেন–
গৌর আমার যে সব স্থানে
করল ভ্রমণ রঙ্গে।
সে সব স্থান হেরিব আমি
প্রণয়ী ভকত সঙ্গে ॥
প্রকৃত ভগবদনুশীলনকারী হচ্ছেন অকিঞ্চন, ভগবান ছাড়া তাঁর কেউ নেই, ভগবানই তাঁর একমাত্র সম্পদ। তিনি ভগবানের দিব্য নাম, রূপ, গুণ, লীলা, পরিকর আদি চিন্তা করেন। তাঁর জীবন ভগবৎ-সেবায় উৎসর্গীকৃত, তিনি সব সময় ভগবদ্ভক্ত সঙ্গ করেন। তিনি ভগবৎ-কথা আলোচনা করেন ভগবদ্ভক্তদের সঙ্গে, এইভাবে তাঁরা চিন্ময় আনন্দ লাভ করেন। ভগবান জগতে অবতরণ করে যে সব স্থানে সপার্ষদ লীলা বিলাস করেছিলেন, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর আমাদের সেই সব স্থান স্বজাতীয় স্নিগ্ধ ভক্ত সঙ্গে দর্শন করতে অনুপ্রাণিত করেছেন।
ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীরাবিলাস ভূমি এই নবদ্বীপ ধাম, শুদ্ধ ভক্তদের সঙ্গে এই ধাম পরিক্রমা করা ভগবৎ-প্রেম প্রার্থী মাত্রই অবশ্য কর্তব্য। নিগম শাস্ত্রে নবদ্বীপকে ব্রহ্মপুর বলে বর্ণনা করা হয়েছে, পুরাণে শ্বেতদ্বীপ বলা হয়েছে, রসিক পন্ডিতরা এই নবদ্বীপকে চিদানন্দময় ব্রজধাম থেকে অভিন্ন বলে বর্ণনা করেছেন। কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ তাঁর প্রণীত শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতের ভাষ্যে এক জায়গায় লিখেছেন, বহু ব্রহ্মান্ডের মধ্যে এই ব্রহ্মান্ড শ্রেষ্ঠ, এই ব্রহ্মান্ডের মধ্যে পৃথিবী শ্রেষ্ঠ, এই পৃথিবীর মধ্যে এই পুণ্য ভারত ভূমি শ্রেষ্ঠ, ভারত ভূমিতে বহু তীর্থ স্থান আছে। বৈদিক শাস্ত্রে মোক্ষদা সপ্ত পুরীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে; অযোধ্যা, মথুরা, মায়া, কাশী, কাঞ্চী, অবন্তী, দ্বারকা–সব তীর্থই এই নবদ্বীপে অবস্থান করছে। কিন্তু তাদের মধ্যে এই গৌরমন্ডল তথা নবদ্বীপ-ধাম শ্রেষ্ঠ কেননা এখানে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছেন এবং ব্রহ্মারও দুর্লভ ভগবৎ-প্রেম সকলকে দান করেছেন।
নবদ্বীপের ন’টি দ্বীপের মধ্যস্থলে অন্তর্দ্বীপ বিরাজমান আটটি দ্বীপ যেন পদ্মের আটটি পাপঁড়ির মত। অন্ত, সীমন্ত, গোদ্রুম, মধ্য, কোল, ঋতু, জহ্নু, মোদদ্রুম ও রুদ্র–এই ন’টি, নবধা ভক্তির পীঠস্থান। এই নবধা ভক্তি হচ্ছে–শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, অর্চন, বন্দন, পাদসেবন, দাস্য, সখ্য ও আত্মনিবেদন। আর এদের মধ্য অন্তর্দ্বীপ আত্মনিবেদনক্ষেত্র, সীমন্ত দ্বীপ শ্রবণক্ষেত্র, গোদ্রুম দ্বীপ কীর্তনক্ষেত্র, মধ্যদ্বীপ স্মরণক্ষেত্র, কোলদ্বীপ পাদসেবনক্ষেত্র, ঋতু, জহ্নু, মোদদ্রুম ও রুদ্র যথাক্রমে অর্চন, বন্দন, দাস্য ও সখ্য ভক্ত্যঙ্গ পীঠ। এইসব স্থান পরম পবিত্র, অন্তরঙ্গ পার্ষদের নিয়ে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এখানে লীলাবিলাস করেছেন, তাই এই স্থানের মহিমা যথাযথভাবে বর্ণনা করা প্রায় কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর ‘নবদ্বীপ-ভাবতরঙ্গ’- এ লিখেছেন–
সর্বধাম শিরোমণি সন্ধিনী-বিলাস।
ষোল ক্রোশ নবদ্বীপ চিদানন্দ বাস ॥
সর্বতীর্থ-দেব-ঋষি-শ্রুতির বিশ্রাম।
স্ফরুক্্ নয়নে মম নবদ্বীপ ধাম ॥
নবদ্বীপ ধামে সকল তীর্থ রয়েছে; কলিযুগের এই সর্বশ্রেষ্ঠ ভগবদ্ধাম শুদ্ধ ভগবদ্ভজনকারীর কাছে প্রকাশিত হয়। সাধারণ লোকের কাছে এই স্থান জড় জগতের একটি অংশ বলে মনে হতে পারে কিন্তু শুদ্ধ ভক্ত এই ষোলক্রোশ নবদ্বীপধামকে চিদানন্দময় অনুভব করেন।
আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে শ্রীমন্ নিত্যানন্দ প্রভু শ্রীল জীব গোস্বামী প্রভুকে এই নবদ্বীপধাম দর্শন করান ও তাঁর মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করেন।
পরবর্তীকালে বিশেষভাবে গৌড়ীয় গগণের পরমহংস-কূলচূড়ামণি, ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর শিষ্যবর্গ সহ এই নবদ্বীপ ধাম পরিক্রমা করেন ও নবদ্বীপ ধাম মাহাত্ম বিশ্লেষণ করে গৌরভক্তদের অসীম আনন্দ দান করেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের স্নেহধন্য শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামীর পরিচালনায় অনেক বছর থেকেই সারা বিশ্বের শত শত ভগবদ্ভক্তরা এই ধাম পরিক্রমা করছেন ও গৌরলীলামৃত আস্বাদন করছেন।
যোগ্যতা অর্জন করলেই, এই চিন্ময় ধাম জীবকুলের হৃদয়ে স্ফুরিত হয়। কৃষ্ণ ও কৃষ্ণভক্তের কৃপা ও সাধুসঙ্গের দ্বারা শ্রদ্ধা লাভ হলে জড় মায়ার জাল মুক্ত হয়ে জীব যখন তার জড় ইন্দ্রিয়ের দর্শনে যে স্থান চিন্ময় তা বুঝতে পারতো না, তখন সেই স্থানই জড়াতীত, অপ্রাকৃত বলে উপলব্ধি করে। তখন কৃষ্ণ ও শুদ্ধ ভক্তের কৃপায় জীব ভগবদ্ধামে শোভা দর্শন করতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে ভগবানের ধামকে জড়া-প্রকৃতি স্পর্শ করতে পারে না। যারা বিষয়ী তারা ভগবানের চিন্ময় ধামকে দর্শন করতে সমর্থ হয় না, আমিষ আহারে আসক্ত, স্ত্রীসঙ্গ লোলুপ, মাদক দ্রব্য সেবনকারী ও জুয়াদি খেলায় আসক্ত ব্যক্তিদের জানা উচিত যে তাদের কাছে অপ্রাকৃত ধাম প্রকাশিত হয় না। জড় জগতের টাকা-পয়সা দিয়ে যানবাহনে করে ভগবদ্ধামে যাওয়া যায় না, যারা ‘রথ দেখা ও কলা বেচা’র নীতি গ্রহণ করে এই রকম বিষয় ভোগপর মনোভাব নিয়ে ভগবানের ধামে যারা যান, তারা ঠিক ধামে তো যান না পক্ষান্তরে নরকে যাবার পথ প্রশস্ত করেন–ধামে গিয়ে ঐসব ভোগ করে নিরয়গমনের পথযাত্রী হন।
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর এই সম্বন্ধে লিখেছেন–
বহির্মুখ-জন মায়ামুগ্ধ আঁখিদ্বয়ে।
কভু নাহি দেখে সেই উপবন-চয়ে ॥
তিনি ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছেন, তিনি যেন শ্রীমায়াপুরের দক্ষিণে জাহ্নবী ও সরস্বতীর সঙ্গম স্থলের ‘ঈশোদ্যান’ নামক উপবনে শ্রীগৌরাঙ্গের ভজন করতে পারেন। মহাপ্রভু তাঁর ভক্তদের নিয়ে মধ্যাহ্নে এখানে লীলাবিলাস করতেন, এখানে যে সকল বৃক্ষ, লতা রয়েছে, তা এক নিবিড় বন সৃষ্টি করেছে, এখানে সরোবর ও মন্দির শোভা অপূর্ব। নানা রকম পাখিরা এখানে এসে গৌরাঙ্গ গুণ-কীর্তন করে।
কি রকম মনোভাব নিয়ে ধাম দর্শনে যাওয়া উচিত তা আজ থেকে ৫০০০ হাজার বছর আগে শুদ্ধ কৃষ্ণভক্ত অক্রুর বৃন্দাবন গমন লীলা থেকে আমরা জানতে পারি। কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামীর মতে কৃষ্ণভক্ত অক্রুরের এই বৃন্দাবন লীলা যেমন শিক্ষাপ্রদ তেমনি এই পন্থা আমাদের অনুসরণীয়ও। যিনি ধাম দর্শন করতে চান, যিনি গৌরাঙ্গ দর্শনে ইচ্ছুক, তাকে শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে, সব সময় ভগবানের অপ্রাকৃত লীলাবিলাস স্মরণ করতে হবে। শাস্ত্রে আছে–সর্বোপাধি বিনির্মুক্তং-অর্থাৎ জগতের যত কিছু মানমর্যাদাপূর্ণ পরিচয় রয়েছে, সে সব মিথ্যা অহংকার সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করা উচিত, নিজেকে ‘তৃণাদপি সুনীচেন’ মনোভাব গ্রহণ করতে হবে, কেননা ভগবান বিশেষভাবে মহাপ্রভু দীনহীন, পতিতকে সহজেই কৃপা করেন, পান্ডিত্য, কৌলিণ্য ও ধনদৌলতের সংস্পর্শের মানুষ মত্ত ও অভিমানী হয়ে পড়ে, তার ফলে ভগবান, ভগবানের ধাম, তাঁর রূপ, গুণ, লীলা ও এইসব দিব্য, অপ্রাকৃত তত্ত্বের মাহাত্ম্য তার কাছে প্রকাশিত হয় না।
ভগবান ও ভগবানের ধাম, তাঁর রূপ, গুণ, লীলা পরিকর আদি এক জাতীয় তত্ত্ব। ভগবান ও তাঁর ধামের রজ, নদী, পশু, পাখী, বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, তৃণ–সবই এক জাতীয় তত্ত্ব। শ্রীল প্রভুপাদকে তাঁর এক শিষ্য এক প্রশ্ন করেছিল–ধামের রজ বা দিব্য ধূলিকনা সম্বন্ধে–ধামের ধূলিকণা, এরাও কি এক একজন স্বতন্ত্র চেতন সত্ত্বা? শ্রীল প্রভুপাদ উত্তরে বলেছিলেন–ইচ্ছা করলে বৃন্দাবনের একটি ধূলিকণা কৃপা পরবশ হয়ে জীবের ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারে। বৃন্দাবনে ষড় গোস্বামীরা যখন ভজন করতেন তখন এক এক রাত এক এক বৃক্ষের নিচে তাঁরা বাস করতেন। ধামের বৃক্ষ জীবের ইচ্ছা পূর্ণ করে–তারা কল্পবৃক্ষ–গোস্বামীরা ভজন প্রভাবে অনুভব করতেন।
গৌরপার্ষদ ও বৈষ্ণব জগতে সকলের পরম প্রিয় নরোত্তম দাস ঠাকুর আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন কিভাবে আমরা মনকে শুদ্ধ করে, পবিত্র করে, পরম পবিত্র ভগবানের ধামকে দর্শন করতে পারব। গৌর ও গৌর-পার্ষদ বিরহে তিনি যে মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, তা অমৃতোপম দিব্য গীতিমালা রূপে ভক্তরা সাদরে গ্রহণ করেন, আস্বাদন করেন ও দান করেন– ‘বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন ॥’
জড় জাগতিক রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শ সুখ–এইগুলি হচ্ছে বিষয় ইন্দ্রিয় ভোগ্য দ্রব্য, এসব ভোগ বাসনা মনে মনে পোষণ করাও ত্যাগ করতে হবে, কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য আমরা মনকে নিষ্ক্রিয় রাখতে পারি না, মন অত্যন্ত চঞ্চল। আমরা যেন শুদ্ধচিত্তে কৃষ্ণের প্রিয় ধামের সেবা করতে পারি। তারপর ‘সেবোন্মুখে হি জিহ্বাদৌ’–অর্থাৎ, কৃষ্ণসেবান্মুখ হলে, তখন তিনি তুষ্ট হয়ে আমাদের নিকট আত্মপ্রকাশ করবেন। যেমন চোখ থাকলেই সব সময় সবকিছু দেখা যায় না, অন্ধকারে আমরা চোখ দিয়ে কিছু দেখতে পারি না, সেই রকম বিষয়ভোগে অন্ধ আমরা ভগবদ্ধামের মাহাত্ম্য অনুভব করতে পারি না; কিন্তু ভগবানের চিন্ময় ধাম দেখা যায়–তাঁর সেবা,–প্রীতি-ভাবময়ী সেবার আলোকে। ঠিক যেমন সূর্য যখন উদিত হবে–সূর্যের আলোকেই সূর্যকে দেখা যায়, ভগবানও তেমন আমাদের সেবায় খুশি হয়ে দর্শন দান করেন। সেই ভগবান, সেই দেখতে পারে–ভগবান অনিত্য, তাঁর ধামে অপ্রাকৃত লীলাবিলাস করে চলেছেন। তাই শ্রেষ্ঠ গৌরভক্তরা গান করেছেন–
অদ্যাপিহ সেই লীলা করে গৌররায়।
কোন কোন ভাগ্যবান দেখিবারে পায় ॥
বৃন্দাবন দর্শন আর গৌরধাম দর্শনের বিষয়ে কিছু জানা দরকার। বৃন্দাবনে অপরাধের অনেক ফল ভোগ করতে হয়, কিন্তু গৌর অনেক উদার, গৌর ধামে অপরাধের তত গুরুত্ব নেই। সব অবতারের শিরোমণি হচ্ছেন গৌর ও নিতাই, তাই বৈষ্ণব আচার্যরা প্রথমে গৌর নিতাই এর ভজনা করতে বলেছেন। জড় ভোগ বাসনা ত্যাগ করে গৌর ভজনে সম্পূর্ণ নিমগ্ন হয়ে সব সময় গৌরকীর্তনে আমাদের নিমগ্ন হতে হবে। গৌরভক্ত সঙ্গে গৌরভজন শুধু চিন্ময় আনন্দই লাভ হয়, আমরা শ্রেষ্ঠ গৌরভক্তদের কাছে উপদেশ পাই–
নাচ গাও ভক্ত সঙ্গে কর সংকীর্তন।
বড়ই মধুর মহাপ্রভুর বচন ॥
এই কলিযুগে মানুষ মাত্রই ভগবদ্ভজনে বিশেষ আগ্রহী নয়, প্রত্যেকের নিজ নিজ মতবাদ রয়েছে, এই মতবাদ নিয়ে তারা সর্বদাই কলহ পরায়ণ, তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন নয়, তারা সব সময় নানা-দৈব-দুর্বিপাকে বিপন্ন। কিন্তু নিতাই ও চৈতন্যের কৃপা ভিক্ষা করলে আমরা সহজেই কলির প্রভাব মুক্ত হতে পারি, দুরতিক্রম্য সংসার বন্ধন থেকে উদ্ধার লাভ করতে পারি–তাদের ভজনা করে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুনিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ ॥
এই পঞ্চতত্ত্ব-মহামন্ত্র কীর্তন করে, তারপর আমরা হরিনাম মহামন্ত্র কীর্তন করতে পারি–
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ॥
এই মহামন্ত্র কীর্তন করে, হরি ভজনের পথে অপরাধ রয়েছে অনেক, সে সব অপরাধ সকলের পক্ষে অচিরেই ত্যাগ করে শুদ্ধ হরিভজন করা কঠিন। কিন্তু নিতাই-চৈতন্য পরম দয়ালু। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন মহাবদান্য, অপরাধী, পতিত, পাপী সকলকে কৃপা করেন, উদ্ধার করেন, আবার গৌর নিতাই-এর চেয়ে তাঁদের ভক্ত আরো কৃপাময়। তাই শুদ্ধ গৌরভক্তের অনুগত্যে আমাদের ভগবদ্ভজন করা উচিত। তখন আমরা ভগবদ্ধাম দর্শন করবার যোগ্যতা অর্জন করব।
শ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তারকেশ্বর- এ একরাত্রে স্বপ্নে ভগবানের আদেশ পান,–বৃন্দাবনে যাওয়ার দরকার নেই, নদীয়ার নবদ্বীপে তাঁর আবির্ভাব ও লীলার স্থান পুনরুদ্ধার ও তাঁর মাহাত্ম্য প্রচারের মাধ্যমে ভগবৎ সেবা করবার ভগবৎ আদেশ তিনি পান। তাঁর এই গৌর সেবা অতুলনীয়, তিনি যে ভগবদ্ভক্তির মন্দাকিনী ধারা প্রবাহিত করেন, তা ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ ষড় গোস্বামীদের ভগবৎ-সেবায় পর্যায়ভুক্ত বলা চলে। তারা এই প্রদর্শিত পথ ও উপদেশ ভগবদনুশীলনকারীর কাছে অমূল্যসম্পদ। ভগবৎ অনুশীলনকারীর মাত্রই তা অনুসরণীয়।

Comments are closed.

November 2015
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

Blog Stats

  • 140,959 hits