ঝারিখন্ডের পথে মহাপ্রভুর দিব্যলীলা

শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী তাঁর “শ্রীশ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত” গ্রন্থে মধ্যলীলার সপ্তদশ পরিচ্ছেদে ঝারিখন্ডের বনপথে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভ্রমণ লীলাবিলাসের বর্ণনা করেছেন।
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তাঁর ‘অমৃতপ্রবাহ’ ভাষ্যে সপ্তদশ পরিচ্ছেদে কথাসারে বলেছেন, “সেই বছর জগন্নাথ পুরীতে রথযাত্রা দর্শন করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বৃন্দাবন যেতে মনস্থ করলেন। শ্রীরামানন্দ রায় ও শ্রীস্বরূপ দামোদার, বলদেব ভট্টাচার্য ও তাঁর সঙ্গী এক ব্রাহ্মণ তাঁর সঙ্গে দিলেন। পরের দিন রাত্রি প্রভাত হবার পূর্বেই মহাপ্রভু কটক অভিমুখে যাত্রা করে কটক দক্ষিণে রেখে নির্জন বনপথে চললেন এবং বনপথে বাঘ, হাতি, প্রভৃতি জন্তুকে প্রেমে কৃষ্ণনাম গান করালেন। পথ চলতে চলতে যেখানেই গ্রাম পেতেন, সেখানে ভিক্ষা করে অন্ন ব্যঞ্জনাদি প্রস্তুত করে সেবাদি সম্পন্ন করতেন। গ্রাম না থাকলে সঞ্চিত চাল পাক হত এবং বন্য শাকাদি সংগৃহীত হত। বলভদ্র ভট্টাচার্যের সুব্যবহারে মহপ্রভু অত্যন্ত প্রীত হন।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাওযার পথে বাঘ, হাতি, হরিণ ও পাখিদের যেভাবে কৃষ্ণপ্রেমে উন্মত্ত করে নৃত্য করিয়েছিলেন, সে সম্বন্ধে প্রথমেই নিম্নোক্ত শ্লোকটি শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী উল্লেখ করেছেন–
গচ্ছন্ বৃন্দাবনং গৌরো ব্যাঘ্রেভৈনখগান্ বনে।
প্রেমোন্মত্তান্ সহোন্নৃত্যান্ বিদঘে কৃষ্ণজল্পিনঃ ॥
জনগণ, সাধারণ মানুষকে কৃষ্ণশিক্ষা দেবার জন্যই মহাপ্রভু বৃন্দাবনে যাচ্ছিলেন। ভৌম বৃন্দাবনের অপ্রাকৃতত্ত্ব সম্বন্ধে নাস্তিক তুল্য জনগণের বিশ্বাস নেই। প্রকৃতপক্ষে শুদ্ধ ভগবদ্ভক্ত মাত্রই বৃন্দাবনবাসী। গদাধর প্রভু একবার মহাপ্রভুকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘তুমি যেখানেই থাক, সেই স্থানটি বৃন্দাবন, যেখানে গঙ্গা, যমুনাদি সবতীর্থস্থানগুলি উপস্থিত।
শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে ঝারিখন্ডের বনের পথে মহাপ্রভুর গমনের বিবরণ দেওয়া আছে এইভাবে–
‘নির্জন-বনে চলে প্রভু কৃষ্ণনাম লৈঞা।
হস্তীব্যাঘ্র পথ ছাড়ে প্রভুরে দেখিয়া ॥
পালে-পালে ব্যাঘ্র, হস্তী, গন্ডার, শূকরগণ।
তার মধ্যে আবেশে প্রভু করিলা গমন ॥
এইসব দেখে বলভদ্র ভট্টাচার্যের মহাভয় হল; কিন্তু মহাপ্রভুর প্রভাবে এই সব হিংস্র জানোয়ার সব একপাশে সরে গেল। একদিন পথের পাশে এক বাঘ শুয়েছিল, ভগবৎ-প্রেমে আবিষ্ট মহাপ্রভুর পা-টি তার গায়ে লাগে; কিন্তু তার ফলে কি হল তা চৈতন্যচরিতকার বলছেন–
প্রভু কহে–কহ ‘কৃষ্ণ’, ব্যাঘ্র উঠিল।
‘কৃষ্ণ’ ‘কৃষ্ণ’ কহি ব্যাঘ্র নাচিতে লাগিল ॥
তারপর মহাপ্রভু একদিন যখন নদীতে স্নান করছিলেন, সেই সময়ে সেখানে একদল মত্ত হাতি আসে জলপান করতে। মহাপ্রভু জল ছুঁড়ে মারলেন হাতিগুলিকে, মহাপ্রভু হাতিদের কৃষ্ণনাম করতে বললেন। যাদের গায়ে মহাপ্রভুর ছেটানো জল লেগেছিল, তৎক্ষণাৎ সেই হাতিগুলি প্রেমাবেশে নৃত্য ও গান করতে লাগল। কোন হাতি ভূমিতে গড়াগড়ি খেতে লাগল, কোন হাতি বা পরমানন্দে চিৎকার করতে শুরু করল। এই দেখে বলভদ্র ভট্টাচার্য চমৎকৃত হলেন।
তারপর পথে যেতে যেতে মহাপ্রভু উচ্চস্বরে হরিনাম সংকীর্তন করতে লাগলেন; আর মহাপ্রভুর মধুর কন্ঠস্বরে হরিণ-হরিণীরা আকৃষ্ট হয়ে মহাপ্রভুর কাছে ছুটে এল। এই সময়ে পাঁচ-সাতটি বাঘ বন থেকে এসে হরিণীদের সঙ্গে একত্রে মহাপ্রভুকে অনুসরণ করে চলতে লাগল। এই সব দেখে মহাপ্রভুর বৃন্দাবনের কথা স্মরণ হল। তিনি শ্রীমদ্ভাগবত থেকে এই প্রসঙ্গে যে শ্লোক উচ্চারণ করেছিলেন তা হল কৃষ্ণ সঙ্গের জন্য আকুল ব্রজগোপীদেরই গান; শরৎকালে শ্রীকৃষ্ণ বনভ্রমণ করতে করতে মুরলী বাদন করতেন তখন কৃষ্ণসঙ্গ কামনায় ব্রজগোপিকারা এই গান গাইত। এই মূঢ় হরিণীরা ধন; কারণ তারা বিচিত্র বেশধারী নন্দনন্দনকে পেয়ে ও তাঁর বংশীধ্বনি শুনে কৃষ্ণসারদের প্রণয়দৃষ্টির মাধ্যমে পূজা করেছিল।
শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে পরবর্তী ঘটনা এইভাবে বর্ণনা করা হয়েছে–
“কৃষ্ণ, ‘কৃষ্ণ’ কহ করি প্রভু যবে বলিল।
‘কৃষ্ণ’ কহি ব্যাঘ্র-মৃগ নাচিতে লাগিল ॥
নাচে কুন্দে ব্যাঘ্রগণ-মৃগীগণ সঙ্গে।
ব্যাঘ্র-মৃগ অন্যোন্যে করে আলিঙ্গন।
মুখে মুখ দিয়া করে অন্যোন্যে চুম্বন ॥
পশুকুলের এই সব মজার ব্যাপার দেখে মহাপ্রভু হাসতে হাসতে তাদের আগে চলে গেলেন। ময়ূরেরাও ‘কৃষ্ণ’ ‘কৃষ্ণ’ বলে উন্মত্তের মতো নাচতে নাচতে মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলল।
এরপর মহাপ্রভু উচ্চস্বরে ‘হরিবোল’, ‘হরিবোল’ বলতে থাকলে, সেই ‘হরিবোল’ ধ্বনি শুনে কাছাকাছি বৃক্ষলতারাও প্রফুল্লিত হয়ে উঠেছিল। এই প্রসঙ্গে হরিদাস ঠাকুরের মন্তব্য স্মরণীয়। তিনি ছিলেন নামাচার্য। তিনি বলেছিলেন উচ্চৈস্বরে মহামন্ত্র–
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ॥
কীর্তনের ফলে মনুষ্যেতর জীব–বৃক্ষ-লতা, কীট-পতঙ্গ সকলেই উদ্ধার লাভ করবে। তাই উচ্চৈস্বরে মহামন্ত্র কীর্তনীয়, তা হলে সকলেরই মঙ্গল হবে।
পথে মহাপ্রভুর মুখারবিন্দের কৃষ্ণনাম শুনে কিভাবে স্থাবর-জঙ্গম ভগবদ্ভক্তি লাভ করেছিল, তার সুন্দর বর্ণনা করেছেন চৈতন্যচরিতকার–
ঝারিখন্ডে স্থাবর-জঙ্গম আছে যত।
কৃষ্ণনাম দিয়া কৈল প্রেমেতে উন্মত্ত ॥
যেই গ্রাম দিয়ে যান, যাহাঁ করেন স্থিতি।
সে-সব গ্রামের লোকের হয় ‘প্রেমভক্তি’ ॥
কেহ যদি তাঁর মুখে শুনে কৃষ্ণনাম।
তাঁর মুখে আন শুনে, তাঁর মুখে আন ॥
সবে ‘কৃষ্ণ’ ‘হরি’ বলি নাচে, কান্দে, হাসে।
পরম্পরায় ‘বৈষ্ণব’ হইল সর্বদেশে ॥
শুদ্ধ ভগবদ্ভক্ত জড় অভিলাষশূণ্য হয়ে নিরপরাধে কৃষ্ণনাম করেন,; তা শুনে অন্যে বৈষ্ণব হন; তার মুখে কৃষ্ণ নাম শুনে আবার অন্য একজন বৈষ্ণব হন। এইভাবে বহু লোক বৈষ্ণব হন। বস্তুত এখানে ‘কৃষ্ণ’ নামের অপ্রাকৃত শক্তির বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বহির্মুখ ব্যক্তিদের তিনি এই পথে উদ্ধার করলেন।
ঝারিখন্ডের জনগণ সুসভ্য ছিল না, তাদের প্রায় অসভ্য বলা চলে; তাদেরও মহাবদান্যবতার পরমেশ্বর ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ‘কৃষ্ণ’ নাম দিয়ে উদ্ধার করলেন। এখানে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী আফ্রিকার নিগ্রোদের মতো শূদ্রাধম ভীলদের কথা বলেছেন।
শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে (মধ্যলীলা ১৭/৫) উল্লেখ আছে–
নাম-প্রেম দিয়া কৈল সবারে নিস্তার।
চৈতন্যের গূঢ়লীলা বুঝিতে শক্তি কার ॥
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য ওঁ বিষ্ণুপদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য অষ্টোত্তরশত শ্রীশ্রীমৎ অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ স্বয়ং আফ্রিকায় গিয়ে অসভ্য লোকেদের বৈষ্ণবে পরিণত করেও সদৈন্যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর গুণ কীর্তন করে এই শ্লোকের তাৎপর্যে লিখেছেন–শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর করুণার প্রমাণস্বরূপ আমরা দেখতে পাই যে, আফ্রিকার মানুষরা কৃষ্ণভক্তির পন্থা অবলম্বন করে অন্যান্য বৈষ্ণবদের মতো কীর্তন করছেন, নৃত্য করছেন এবং কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণ করছেন। আর তা সম্ভব হয়েছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শক্তির প্রভাবে। সারা পৃথিবীময় তাঁর শক্তি কিভাবে ক্রিয়া করছে তা কে বুঝতে পারে?
আজ সারা বিশ্বের জনগণ ‘হরেকৃষ্ণ’ মহামন্ত্র শ্রবণ ও কীর্তন করছেন। এইভাবে জনগণ কৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবে পরিণত হচ্ছেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এখনও সকলের কাছে প্রকট নন, কিন্তু আজ সকলেই–
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈতগদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ ॥
কীর্তন করে মহাপ্রভুর সঙ্গ লাভ করতে পারেন। আবার কেউ কেউ শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত গ্রন্থ শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তের পরম্পরা ধারা থেকে যদি শ্রবণ করেন তাহলে তিনিও একদিন শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তে পরিণত হবেন।
প্রতিদিন নির্ঝরের উষ্ণ জলে মহাপ্রভু তিনবার স্নান করতেন আর সন্ধ্যার সময় কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতেন। বলভট্ট দাস পরমানন্দে মহাপ্রভুর সেবা করতেন; মহাপ্রভু তাঁর সেবায় তুষ্ট হয়েছিলেন; এ সম্বন্ধে শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে সুন্দর বর্ণনা আছে–
ভট্টাচার্য পাক করে বন্য ব্যঞ্জন।
বন্য ব্যঞ্জনে প্রভুর আনন্দিত মন ॥
বলভদ্রের সেবায় মহাপ্রভু যে তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন তা শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে এভাবে উল্লেখ আছে–
ভট্টাচার্যে আলিঙ্গিয়া তাঁহারে কহিল।
‘তোমার প্রসাদে এত সুখ পাইল’ ॥
তখন বলভদ্র পরম দৈন্যোক্তি করে মহাপ্রভুর বন্দনা করেছিলেন এইভাবে–
তুমি ‘কৃষ্ণ’ তুমি ‘দয়াময়’।
অধম জীব মুঞি, মোর হইলা সদয় ॥
মুঞি ছার, মোরে তুমি সঙ্গে লঞা আইলা।
কৃপা করি মোর হাতে ‘প্রভু’ ভিক্ষা কৈলা ॥
অধম-কাকেরে কৈলা গরুড় সমান।
‘স্বতন্ত্র ঈশ্বর’ তুমি- স্বয়ং ভগবান ॥
এইভাবে বৃন্দাবন পথে যেতে যেতে পাহাড় দেখলে মহপ্রভু সেটিকে ‘গোবর্ধন’ বলে মনে করতেন, আর কোন নদী দেখলে সেটি ‘কালিন্দী’ বলে তাঁর ভ্রম হত।
মহাপ্রভু কখনো কখনো কোন গ্রামে উপস্থিত হলে, স্থানীয় ব্রাহ্মণরা তাঁকে নিমন্ত্রণ করতেন। আবার কেউ বলভদ্রের কাছে অন্ন নিয়ে আসতেন। অন্যরা দুধ, ঘি ও মিছরি নিয়ে আসতেন। গ্রামে ব্রাহ্মণ না থাকলে, অব্রাহ্মণ পরিবারের ভক্ত এসে বলভদ্রের কাছে নিয়ন্ত্রণ করে যেতেন। এ বিষয়ে ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ বলেছেন–ভগবদ্ভক্ত অবৈষ্ণব ব্রাহ্মণের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেন না। কিন্তু শূদ্র কুলোদ্ভুত ব্যক্তি বৈষ্ণব হলে, তার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। মহাপ্রভু শূদ্র মহাজনের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন, এ থেকে জানা যাচ্ছে যে, বৈষ্ণব মন্ত্রে দীক্ষিত ব্যক্তির ব্রাহ্মণত্ব প্রাপ্তি হয়।
ভগবান হলেও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এখানে মহাভাগবতের লীলাবিলাস করেছিলেন। মহাভাগবতের দৃষ্টিভঙ্গী এইভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবদ্গীতায় (৫/১৮) প্রকাশ করেছেন–
বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি।
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পন্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ ॥
তত্ত্ববিদ মহাভাগবত ব্রাহ্মণ, গাভী, কুকুর ও চন্ডালের প্রতি সমদৃষ্টিসম্পন্ন হন অর্থাৎ মহাভাগবতের লক্ষণ হচ্ছে তিনি শত্রু-মিত্রে ভেদ দেখেন না। তিনি চিৎতত্ত্ব অনুভূতির উন্নত শিখরে অবস্থিত হওয়ায় বাঘ, হাতি ও পন্ডিতের মধ্যে কোন ভেদ দেখেন না; তিনি সর্বক্ষণ ভগবদ্ সেবায় নিযুক্ত, ঈর্ষাদ্বেষশূন্য ও নির্ভীক।
মহাপ্রভুকে আমরা অনুকরণ করতে পারি না। তাঁর নির্দেশ পালনই আমাদের কর্তব্য। তিনি কৃষ্ণ অন্বেষণ করতে গিয়ে ভগবদ্ প্রেমে গভীরভাবে আবিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। তখন ঝারিখন্ডের বন তাঁর কাছে বৃন্দাবন বলে মনে হয়েছিল। মহাভাগবতের হৃদয় সমস্ত জড় কলুষতামুক্ত হওয়ায় তিনি বনের হিংস্র জানোয়ারদের কাছেও প্রিয় হয়ে ওঠেন। ঐ স্তরে অবস্থিত ভক্ত হিংস্র পশুদেরও বন্ধুর মতো ব্যবহার করেন।
ভগবান বলেছেন, তিনি সকলের অন্তর্যামী এবং সকল জীবকে তিনি নির্দেশ দেন, পরিচালনা করেন। এইভাবে তিনি তাঁর উন্নত ভক্তকে উৎপীড়ন না করতে বন্য পশুদেরকেও নির্দেশ দেন।

Comments are closed.

November 2015
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

Blog Stats

  • 140,943 hits