একদা সেখানে তিনজন সন্ন্যাসী ছিল, এবং সেই সন্ন্যাসীরা আলোচনা করছিল, কোন যুগ জড় জগত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য উত্তম। প্রথম সন্ন্যাসী প্রস্তাব করলেন যে, সত্য যুগ হচ্ছে উত্তম যুগ কারন এটা হয় স্বর্ণময় যুগ, অজ্ঞতা দূরীকরণের যুগ। শুধু কয়েক শত হাজার বছর ধ্যান করে একজন বৈকুন্ঠে ফিরে যেতে পারে। এটাই হলো আমার উক্তি।
দ্বিতীয় সন্ন্যাসী বললেন না ত্রেতা যুগ শ্রেষ্ঠ। অগ্নি হত্র যজ্ঞে শস্য, ঘি নিবেদন করে এবং ব্রাহ্মণকে স্বর্ণ দান করে খুব সহজেই মোক্ষ লাভ করতে পারে।
তৃতীয় সন্ন্যাসী বললেন, কোনো সন্দেহ ছাড়াই দ্বাপর যুগ শ্রেষ্ঠ কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং নিজেই এই যুগেই এসেছেন।
শাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়েছে, যদা যদা হি ধর্মস্য……….।
তিনি স্বয়ং নিজেই এসেছেন এবং যে এই যুগে জন্মগ্রহণ করবে সে ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করার সুযোগ পাবে। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগল- সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর নিয়ে কিন্তু যুগ হচ্ছে চারটি সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি। সে যা হোক সন্ন্যাসীরা কলি যুগ নিয়ে কিছুই বললেন না কারণ এটি হচ্ছে অমঙ্গলসূচক। অনেক বছর আলোচনা করেও সন্ন্যাসীরা কোনো সমাধানে আসতে পারল না। সন্ন্যাসীরা বলল, আমরা মহান সন্ন্যাসী শ্রীল ব্যাসদেবের নিকট যাই। তিনি হিমালয়ে বাস করেন, আমরা সেখানে গিয়ে তার মতামত নিই। যখন তারা সেখানে গেলেন তখন তিনি দীঘিতে স্নান করেছিলেন। ও মহান সন্ন্যাসী, আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর যুগের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ?
শ্রীল ব্যাসদেব বললেন, আমি ত্রিসত্য বলছি যে,
কলের্দোষনিধে রাজন্নস্তি………………….. পরম ব্রজেৎ।।
হে রাজন! দোষের নিধি এই কলিযুগে একটি মহৎ গুণ আছে। কলিযুগে ভগবানের নাম কীর্তনের প্রভাবেই জীব জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেন।
তারপর তিনজন সন্ন্যাসী, নিজেদের মধ্যে বলতে লাগল আপনারা কি শুনেছেন মুনি কি বলেছেন? একজন সন্ন্যাসী বললেন আমি কলির নাম শুনে কান বন্ধ করেছিলাম। পুনরায় মুনিকে জিজ্ঞাসা করুন
ও মহান শ্রীল ব্যাসদেব, আপনি কি পুনরায় বলবেন?
কলের্দোষনিধে রাজন্নস্তি…….. পরম ব্রজেৎ।।
তারপর তিনি ব্যাখা করলেন সর্বোত্তম সত্যি এই যে, কলি যুগ যদিও সম্পূর্ণ দোষের সাগর তবুও এ যুগে ভাল একটি গুণ আছে যে, শুধুমাত্র
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে” মহামন্ত্র জপ করে জড়জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে এবং চিন্ময় জগতে অধিষ্ঠান হবে।