এক মাঝি আর বিচক্ষণ ব্যক্তি

একদা এক বিদ্বান ব্যক্তি শহর থেকে ফেরার সময় নদীর পার হতে চাইল। এই যে মাঝি ভাই তুমি কি আমাকে নদীর ওপার পার করে দিতে পার? হ্যাঁ, অবশ্যই আমি এখানে পথচারীদের পারাপারের জন্যই অপেক্ষা করি। বিদ্বান ব্যক্তিটি অনেকদিন পর গ্রামে ফেরার কারণে অত্যন্ত আনন্দিত ছিল। তাই সে মাঝির সাথে আলাপ শুরু করে দিল।
বিদ্বান- এই মাঝি তুমি কি জান জ্যোর্তিবিদ্যা কি? এই নক্ষত্রগুলো কিভাবে ঘোরে।
মাঝি- না স্যার। আমি শুধুমাত্র এই নদীই পারাপার হতে পারি।
তারা কিছুক্ষণ একটু এগিয়ে গেল।
হায়! হায়! তুমি তো কিছুই জান না তোমার জীবনের পঁচিশ শতাংশ বৃথা। তুমি কি আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিদ্যা সম্বন্ধে কিছু জান? তুমি জান একটি আবহাওয়া কেন্দ্রের আবহাওয়া সম্বন্ধে পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বায়ুর তাপমাত্র ও চাপ কত থাকলে ঝড় উঠতে পারে।
না প্রভু আমি একজন গরিব মানুষ অমি বুঝিনা আপনি কি বলছেন।
হায়! হায়! তোমার জীবনের অর্ধেকই বৃথা।
তুমি উচ্চতর গণিত সম্বন্ধে জান আর কেনই বা এই যে কালো মেঘ আমাদের মাথার উপর দিয়ে ভেসে যায়? আর একটি ঝড়ের পূর্বাভাসের রেখচিত্র কেমন দেখায়?
না, না, স্যার আমি শুধুই নৌকায় যাত্রী পারাপার করতে পারি।
আহা তোমার তো জীবনের ৭৫ ভাগই বৃথা। এমন সময় হঠাৎ করেই মেঘ উড়ে এল। কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেল এবং প্রচন্ড ঝড় উঠে গেল। এবার মাঝি বলল স্যার আপনি সাঁতার কাটতে জানেন।
না, আমি তো সাঁতার কাটতে জানি না।
মাঝি তার প্রাণ রক্ষার জন্য নদীতে ঝাঁপ দিল।
মাঝি- এখন জনাব আপনার জীবনের শতভাগই বৃথা কারণ আপনি ডুবে যাবেন। জনাব আমাদের জীবন বাঁচাতে হলে বাকি পথটুকু সাঁতরে পার হতে হবে।
বিদ্বান ব্যক্তিটি ডুবে যাচ্ছিল আর বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকল।
মাঝি সাঁতরে নদীর পাড়ে উঠে পড়ল।
। হিতোপদেশ।
আমরা আমাদের জীবনের এই চলার পথে অনেক কিছুই শিখতে পারি। কিন্তু যেটি জানা অত্যন্ত প্রয়োজন তা এই নশ্বর দেহের ধ্বংসের পর আমরা কিভাবে সেই গোলক ধামে ফিরে যেতে পারি। আর তাই আমাদের এই জীবনকে উপভোগ করতে যে পশ্চিমা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে তার সঙ্গে প্রাচ্যের এই আত্মিক বিজ্ঞানের সংযোগ ঘটানোর মাধ্যমেই এটি আরো সাফল্য মন্ডিত করা প্রয়োজন।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,959 hits