একদা বাগদাদে এক ধনী বণিক ছিল এবং তিনি তার বন্ধুকে সন্তুষ্ট করার জন্য কিছু করতে চাইলেন। তাই তিনি তার চাকরকে ডাকলেন। তখন চাকরটি তার কাছে আসল এবং সেই বণিক বলল-
বণিক- আজ রাতে আমার বন্ধুকে আমি আনন্দ দিতে চাই, তাই তুমি বাজারে যাও এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে নিয়ে এসো।
চাকর- আপনার যেমন আজ্ঞা।
বণিক- এই নাও টাকা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ো এসো।
চাকরটি টাকা নিয়ে বাজারে গেল এবং কি ক্রয় করবে সে বিষয়ে চিন্তা করতে লাগল। হঠাৎ সে অনুভব করতে পারল যে, কেউ তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। তাকে দেখার জন্য পিছনের দিকে তাকাল। চাকরটি তাকে দেখে ভয় পেল, কারণ সে ছিল মৃত্যুরূপী কাল।
তখন চাকরটি তার মালিকের (প্রভুর) দিকে দৌড়াল এবং চিৎকার করে বললো, “আমি মরতে চাইনা।” সেই বণিক তার চাকরকে দেখে বললো, “তোমাকে দুঃখিত মনে হচ্ছে কেন? তোমার হাত খালি কেন? আমি যে জিনিসগুলো আনতে বলেছিলাম সেগুলো কোথায়?”
তখন চাকরটা বলল, “হে প্রভু আমাকে ক্ষমা করুন। আমি বাজারে গিয়ে কিছু কেনার চেষ্টা করছি, কিন্তু কে যেন আমাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। তখন তাকিয়ে দেখি মৃত্যুরূপী কাল সেই বাজারে অবস্থান করছে।” চাকর আরও বলল, “আমাকে রক্ষা করুন।” তখন বণিক বলল- আমি তোমাকে অন্য উপায়ে সাহায্য করব।
বণিক- ঠিক আছে, তুমি ঘোড়াশালায় যাও এবং সেখান থেকে সবচেয়ে দ্রুতগামী ঘোড়াদের মধ্যে থেকে একটি ঘোড়া নিয়ে পাশের সমর নামক শহরে চলে যাও। সেখানে তুমি সম্পূর্ণ নিরাপদে থাকবে।
চাকর- সেটা খুব ভাল উপায়।
তখন চাকরটি একটি দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ল এবং ভাবতে লাগল ঐ শহরে পৌছে গেলেই আমি নিরাপদে থাকব।
মৃত্যুরূপী কাল দেখতে কেমন হবে এই ভেবে বণিক বাজারে গেল এবং বাজারের এক কোণায় তাকে (কালকে) দেখতে পেল।
বণিক বলল- তুমি এখানে কি করছ এবং কার জন্য অপেক্ষা করছ?
কাল- এটা আমার কাজ। আমি এখান থেকে কিছু জীবন নিতে এসেছি এবং এক সময় আমি তোমাকেও নিয়ে যাব।
বণিক- আমার কথা বাদ দাও, তুমি আমার চাকরকে ধাক্কা দিচ্ছিলে কেন?
কাল- আমি তাকে ধাক্কা দেইনি, কিন্তু আমি তাকে বাগদাদে দেখে আশ্চর্য হচ্ছিলাম, কারণ আজ বিকালে তো সমর শহরে তার সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল।
। হিতোপদেশ।
“কেউ মৃত্যুকে এড়াতে পারে না।”