হে রাম! কাম পুরাও

কাশী, প্রয়াগ, হরিদ্বার প্রভৃতি স্থানে পথেঘাটে এক ধরণের সন্ন্যাসী দেখা যায়। তারা কারও নিকট ব্যক্তিগতভাবে কিছু চায় না। তারা চিৎকার করে বলতে থাকে “হে রাম ! কারও মাধ্যমে আমাকে এক সের আটা দাও। হে রাম ! এক পোয়া ঘি দাও” এইভাবে ভিক্ষা করে বেড়ায়।
একদিন পশ্চিমদেশীয় এক সন্ন্যাসী পাহাড়ের নিকট বনের ধারে হাঁটতে হাঁটতে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন সে চিৎকার করতে লাগল-“হে রাম! আমাকে একটা ঘোড়ার ব্যবস্থা করে দাও।”
কিছুক্ষণ পরে একটি মাদী ঘোড়া সে দেখতে পেল। বনের লতা ছিঁড়ে মাদী ঘোড়ার লাগাম বানিয়ে সে চড়বার জন্য ব্যস্ত হল। এমন সময় ঘোড়াটি একটি বাচ্চা প্রসব করল। ঘোড়াটির প্রতি আসক্তি থাকার জন্য সন্ন্যাসী তাকে ছেড়ে যেতে পারল না। এদিকে ঘোড়া তার বাচ্চাকে ছেড়ে কোথাও যেতে চাইল না।
তখন নিরুপায় হয়ে সন্ন্যাসী বাচ্চা ঘোড়াকে কোলে নিয়ে খুব কষ্টে পথ চলতে লাগল। আর তার সঙ্গে মাদী ঘোড়াও চলতে লাগল। তখন সন্ন্যাসী বলতে লাগল- “হে রাম! তুমি এ কি দিলে ? আমি চড়বার জন্য ঘোড়া চেয়েছিলাম, কিন্তু দেখছি ঘোড়াই আমার উপর চড়ল।”
। হিতোপদেশ।
মায়াবদ্ধ জীবের এরূপ দশা হয়। সুখের আশায় সংসারে প্রবেশ করে। কিন্তু সংসারের বোঝা বইতে দুঃখেই তাদের জীবন যায়। তারা হৃদয়ে প্রচুর সুখের আশা বেঁধে সংসারে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু পরে শোলার টোপর লোহার চেয়েও বহু বহু গুণ ভারী হল। সেই ভারী বোঝা বইতে বইতে দুঃখের সাগরে ক্রমশঃ পতিত হয়। বুদ্ধিমান ব্যক্তি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে দিয়ে নিজের সুখভোগ চরিতার্থ করতে চায় না। তারা সংসাররূপ লৌহ শৃঙ্খলে আবদ্ধ না হয়ে, নিজের দৈহিক সুখ-ভোগ, কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।

Comments are closed.

August 2015
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Blog Stats

  • 140,963 hits