মাঝরাতে এক চোর চুরি করতে গিয়েছিল লোকের বাড়িতে। যে বাড়িটিতে সে গিয়েছিল তার পাশের বাড়ি থেকে মানুষের গলার স্বর সে শুনতে পেল। তাই একটি ঝোপের ভেতর লুকিয়ে সে শুনছিল কে এত কথা বলছে। আসলে একজন পাঠক শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করছিলেন। পাঠক পড়ছিলেন-‘শ্রীকৃষ্ণের অনুমোদন ছাড়া আমাদের নিজের ইচ্ছায় আমরা কিছুই করতে পারি না।’
এ কথা শুনে চোর চিন্তা করল, ‘তবে আমার চুরি করাটা তো কৃষ্ণের ইচ্ছা। এই ভেবে সে একটা বাড়ির ভেতরে কোনভাবে ঢুকছে। সে দেখল একজন মাথার কাছে রেডিও রেখে ঘুমিয়েছে। সেই রেডিওটা যেই তুলতে গেল, অমনি একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ল। চোর চোর বলে অনেক লোক দৌড়ে এসে চোরটিকে বেদম ধোলাই দিতে লাগল।
তখন চোর বেচারা কাঁদতে কাঁদতে গড় গড় করে বলতে লাগল, শুনুন-আমি চুরি করিনি, কৃষ্ণই আমাকে দিয়ে চুরি করিয়েছে। আপনাদের ভাগবত পাঠক বলল যে, কৃষ্ণই সব করেন, সব করান, আমাকে মারবেন না। একথা শুনে একজন রসিক লোক সঙ্গে সঙ্গে সেই পাঠককে ডেকে এনে চোরের সামনে নিয়ে এসে চোরকে পুনরায় কথাটি বলতে বলল।
চোর তখন ‘ধুলোয় গড়াগড়ি দিয়ে হাউমাউ করে ভাগবত পাঠককে বলতে লাগল, আপনি তো বলছিলেন কৃষ্ণের ইচ্ছায় সব হয় নিজের ইচ্ছায় হয় না, তাই আমি কৃষ্ণের ইচ্ছায় চুরি করে কেন শাস্তি পাচ্ছি। পাঠক উত্তরে বললেন-“ভাই ধরা পড়ে শাস্তি পাওয়াটাও তো কৃষ্ণের ইচ্ছায় হল, এবার হিসাবটা মিলিয়ে দেখ।”
। হিতোপদেশ।
শ্রীকৃষ্ণ জীবদের ক্ষুদ্র স্বাধীনতা দিয়েছেন। কারণ এই স্বাধীনতা ছাড়া ভগবৎ-শরণাগতির কোন প্রশ্নই উঠেনা। তাই শ্রীকৃষ্ণ যদি আমাদের ক্ষুদ্র স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে আমরা যন্ত্রের মতো আচরণ করব। যন্ত্রের পক্ষে শরণাগতি অসম্ভব। স্বাধীন ইচ্ছা শরণাগতির পূর্ব শর্ত। স্বাধীনতায় থাকলে তার অপব্যবহার করার অধিকার আমাদের থাকে। চোর যখন তোর স্বাধীনতা অপব্যবহার করে তখন সেজন্য চোরই দায়ী, শ্রীকৃষ্ণ নন।