কপোত ও কপোতী নামে দুটি পাখি একত্র হইয়া সংসার পত্তন করে। একটি গাছে বহু যত্নে একটি বাসা বানিয়ে সুখে যৌনজীবন অতিবাহিত করতে থাকে। এর মধ্যে দুটি ডিম প্রসব করে তাতে তাপ দিতে থাকে। কয়েকদিন পর ঐ ডিম থেকে দুটি বাচ্চা হল। বাচ্চা দুটিকে দেখে কপোত ও কপোতীর আনন্দের সীমা রইল না। বহুদূর হইতে বহু কষ্টে খাদ্য সংগ্রহ করে বাচ্চা দুটির মুখে দেয়। একদিন এক ব্যাধ বাচ্চা দুটি ধরে জালের মধ্যে রেখে দিল। তারা আর বের হতে পারছে না। কপোতী মুখে আহার নিয়ে দেখল বাচ্চাদের দুরবস্থা। কপোতী আর থাকতে না পেরে সেই জালের মধ্যে ঢুকে গেল বাচ্চা দুটির কাছে। এদিকে কপোত এসে বাচ্চাদের ও কপোতীর দুর্দশা দেখে ধৈর্য্য রাখতে না পেরে কাঁদতে সেও জালের মধ্যে প্রবেশ করল। মহানন্দে ব্যাধ পাখিগুলি নিয়ে বাড়িতে চলল। এইভাবে পাখিগুলি তাদের জীবন হারাল।
। হিতোপদেশ।
মোহগ্রস্থ জীব সকল জানে না যে, তারা নিত্য-কৃষ্ণদাস। তাঁরা এই স্বরূপে ভুলে গিয়ে আমার পিতা, আমার মাতা, আমার পুত্র, আমার কন্যা এই দাবিতে তারা মোহান্ধ হয়ে পুনঃ পুনঃ সংসারে চক্রের মতো ঘুরছে। একেই বলে সংসার। তাই শাস্ত্র বলেনঃ
“জীবের স্বরূপ হয় নিত্য কৃষ্ণদাস
কৃষ্ণের তটস্থা শক্তি ভেদাভেদ প্রকাশ।”