প্রাচীনকালে একজন দিগ্বীজয়ী পন্ডিত পান্ডিত্য প্রভাবে চতুর্দিক জয় করে সর্বশেষে প্রবীন পন্ডিত সার্বভৌম পন্ডিতের নিকট উপস্থিত হলেন। এই প্রবীন পন্ডিতকে পরাজিত করতে পারলেই দিগ্বীজয়ী পন্ডিত সার্বভৌম পন্ডিতের পদ লাভ করতে পারেন। তিনি ভারতের সমস্ত পন্ডিতমন্ডলীকে পরাজিত করে সবশেষে প্রবীন পন্ডিতের নিকট এসেছেন। এই কথা সার্বভৌম পন্ডিতকে জানিয়ে তার সহিত প্রবীন পন্ডিত মহাশয়কে শাস্ত্রবিচার করতে অথবা নির্বিচারে জয়পত্র লিখে দিতে প্রস্তাব উত্থাপন করলেন।
সার্বভৌম পন্ডিত মহাশয়ের প্রস্তাব শ্রবণ করে নীরবে নির্বিচারে অচিরেই জয়পত্র লিখে দিগ্বীজয়ী পন্ডিতের হস্তে অর্পণ করলেন এবং তাঁদের অদ্য হতে সার্বভৌম পন্ডিত বলে তিনি স্বীকার করলেন এবং নানা মধুর বাক্যের দ্বারা তাকে আপ্যায়ন করনান্তর বিদায় নিলেন।
অনন্তর দিগ্বীজয়ী পন্ডিত উল্লাসভরে গর্বিত বক্ষে হাস্যোৎফুল্ল বদনে স্বদেশ যাত্রা করলেন। কিন্তু পথিমধ্যে বাধা পেলেন। ঐ পথে প্রবীন পন্ডিতের জনৈক শিষ্য কোনো কার্যোপলক্ষে আসতে ছিলেন। তিনি দিগ্বীজয়ী পন্ডিতের হস্তে জয়পত্র দর্শণ করে এবং সমস্ত বৃত্তান্ত অবগত হয়ে তার সহিত শাস্ত্রবিচারে উদ্যোগী হইলেন। তাঁর গুরুদেবকে যে অপরে পরাজিত করতে পারে না তা প্রদর্শনের জন্যই তাঁর ঐ বিচারে আত্মনিয়োগ। রাস্তার মধ্যেই তুমুল শাস্ত্রযুদ্ধ বাধল। উভয়ই মহারথী। সুতরাং বহুসময় ধরে ভীষণ সংগ্রাম চলল। অবশেষে দুর্ভাগ্যবশে দিগ্বীজয়ী পন্ডিতেই পৃষ্ঠভঙ্গ দিয়া জয়পত্র প্রত্যার্পণ করিলেন। শাস্ত্রবিচারে গুরুমহিমার ম্লানকারীর জিহ্বা স্তব্ধ করতে পেরে ঐ প্রবীন পন্ডিতের উপযুক্ত শিষ্য আত্মপ্রসন্নতা লাভ করলেন।
। হিতোপদেশ।
‘জিগীষা’ শব্দের অর্থ জয়ের ইচ্ছা। প্রকৃত পন্ডিতগণ জয়ের ইচ্ছা সম্পন্ন ব্যক্তির জড় পান্ডিত্যকে পান্ডিত্য বলে স্বীকার করেন না। যেহেতু ভগবদ্ভক্তি ও অমানী মানদ বা বিনম্রতাই পান্ডিত্যের প্রধান লক্ষণ। তাঁর জয়ের ইচ্ছা সম্পন্ন পান্ডিত্যকে অতীব ঘৃণা করেন। অপরদিকে সৎ শিষ্য শ্রীগুরুদেবের মহিমার ম্লানকারীর জিহ্বা স্তব্ধ করতে পেরে আত্ম প্রসন্নতা লাভ করেছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর গুরুদেবকে যে অপরে পরাজিত করতে পারে না, ইহা প্রদর্শনের জন্যই তাঁর ঐ বিচারে আত্মনিয়োগ। এই প্রকার শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে অচলা শ্রদ্ধা না থাকার জন্যই আমাদের এই দুরাবস্থা।
বৈষ্ণবের অমানীত্ব
22 Aug 2015 Leave a comment
in গল্পে উপদেশ