একজন ধনী ব্যক্তির একটি মাত্র পুত্র। ভদ্রলোকের খুব আশা যে তিনি পুত্রকে সংস্কৃতে পন্ডিত করাইয়া দার্শনিক করিয়া তুলিবেন। তিনি প্রচার করিলেন, “যিনি আমার পুত্রকে সংস্কৃতে পন্ডিত করিয়া তুলিবেন, তাকে আমি উপযুক্ত পুরষ্কার করিব।” একদিন একজন পন্ডিত ভদ্রলোকের বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে বললেন, “বাবু! আপনার পুত্র যদি আমার নিকট দেন, তাহলে আমি তাকে একজন উপযুক্ত পন্ডিত করিয়া দিব।” এমন সময় আর একজন পন্ডিত আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং প্রথম পন্ডিত শৌচক্রিয়ার উদ্দেশ্যে বাহিরে চলিয়া গেলেন। দ্বিতীয় পন্ডিত বলিলেন, “বাবু! আপনার পুত্র আমার নিকটে দিলে ওকে উপযুক্ত পন্ডিত করিয়া তুলিব। আর একটি কথা, -আপনি যে ঐ লোকটির নিকট আপনার পুত্রকে পড়াইবেন না। ওটা একটা গাধা। আপনার পুত্রকে ওর কাছে পড়াইলে সেও গাধা হইয়া যাবে। সাবধান বাবু! গাধার কাছে আপনার পুত্র পড়াবেন না।” প্রথম পন্ডিত ফিরিয়া আসার পর দ্বিতীয় পন্ডিত চলিলেন শৌচের জন্য। এবার প্রথম পন্ডিত বলিলেন, “বাবু! ঐ লোকটির কাছে আপনার পুত্র পড়াইলে আপনার পুত্র একটি গরু হবে। কারণ, ওটা একটি গরু। দুইজন পন্ডিতের মন্তব্য শুনিয়া ভদ্রলোক তাদের খাওয়ার আয়োজন বন্ধ করিয়া দিয়া বাজার হইতে ছোলা, ভুঁসি ও খইল আনাইলেন। একটি পাত্রে খইল ও খড় মাখলেন আর অন্য পাত্রে ছোলা ও ভুঁসি লইয়া দুইজন পন্ডিতের সামনে রাখলেন। পন্ডিতগণ ভীষণ ক্রোধান্বিত হইয়া বলিলেন, “এ-কি? আমরা এই খেতে এসেছি ? ভদ্রলোক বলিলেন, – “আপনারা রাগ করিবেন না। আপনাদের পরিচয় জানি না। দ্বিতীয় পন্ডিত বলিলেন- প্রথম পন্ডিত গাধা এবং দ্বিতীয় পন্ডিত গরু তাই আমি আপনাদের পরিচয় পাইয়া আপনাদের জন্য উপযুক্ত আহার ব্যবস্থা করিয়াছি। ভাল মনে করেন তো খান। তা না হলে বাড়ী হইতে দূর হইয়া যান।
। হিতোপদেশ।
একজন অন্যজনকে নিন্দা করিয়া কোনদিনই প্রতিষ্ঠা লাভ করিতে পারে না। ফলে উভয়েই চরম অপমানিত হয়। হরিভজন করিতে আসিয়া যদি হিংসা, নিন্দা, সমালোচনা পরিত্যাগ করা না যায় তাহা হইলে আমাদের কোনদিনই মঙ্গল হইবে না। হিংসা, নিন্দা, সমালোচনা পরিত্যাগ করিয়া গুরুদেবের আনুগত্যে হরিভজন করিলে আমাদের নিত্য মঙ্গল অনিবার্য্য।