দুজন লোক একসাথে একটি ঘরে বাস করত। তারা ছিল অত্যন্ত অলস। বেশী কথা না বলে তারা অধিকক্ষণ ঘুমিয়েই কাটাতো। শীতকালে একদিন সেই ঘরটিতে কোন কারণে আগুণ লাগে। আগুন জ্বলতে থাকে। ঘরের মধ্যে নাক ডাকিয়ে দুই অলস ঘুমাচ্ছিল। আগুনের তাপ একজনের পিঠে এসে লাগল তবুও সে আরামের বিছানা ছেড়ে উঠল না। যখন তাপ আর সহ্য করা যাচ্ছিল না, তখন সে দ্বিতীয় লোকটিকে বলতে লাগল, “পি পু” অর্থাৎ ‘পিঠ পুড়ছে।’ দ্বিতীয় অলস লোকটি ছোট স্বরে পরামর্শ দিল, ‘ফি শো’ অর্থাৎ ‘ফিরে শোও’ আগুণ ভীষণ ভাবে জ্বলতে লাগল। প্রচন্ড জ্বালা অনুভব করে প্রথম অলস লোকটি মনে করল, বোধ হয় রাত শেষ হয়েছে, সূর্য উঠেছে তাই। এত উত্তাপ পিঠে এসে লাগছে। তাই সে দ্বিতীয় লোকটিকে বলে, “রবি কত জ্বলে রে?” দ্বিতীয় অলস ভাবল, কে এত পরিশ্রম করে দেখবে যে, সূর্য্য কত উঁচুতে উঠেছে ? তাই সে লেপের ভিতর থেকে বলে, “কেবা আঁখি মেলে রে ?” এই বলতে বলতে আরামপ্রিয় অলস দু’জন লোক লেপ বিছানা সহ জ্বলন্ত ঘরের সঙ্গে পুড়ে মরল।
। হিতোপদেশ।
নিষ্কপট ভগবদ্ভক্ত কখনও বিশ্রামের জন্য ব্যস্ত হবেন না। সর্বদা তন্ময় ও নিরলস হয়ে উদয়াস্ত কৃষ্ণসেবা কার্য্যে ব্যস্ত থাকবেন। যেই মুহূর্তে কেউ সেবা থেকে বিরাম লাভ করবার চেষ্টা করবে, সেই মূহূর্তে মায়া এসে তার ঘাড়ে চাপবে। ভক্তিরাজ্যে বিরাম বা পেনশন ভোগের কামনা নেই। আরামপ্রিয়তা ভজনের প্রবল শত্রু। সেজন্য একান্তভাবে গুরুবৈষ্ণবের কৃপা প্রার্থনা করে প্রবল উৎসাহে শ্রীভগবানের সেবা করতে হবে। প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর উক্ত গল্প-উপদেশ দিয়ে এই কথা গুলি বলতেন।