এক বিধবার একমাত্র ছেলে। মহিলাটি অত্যন্ত গরীব। তাই সে অন্যের বাড়ীতে কাজ করে টাকা এনে ছেলের লেখাপড়া ও সংসারের জন্য খরচ করে। ছেলের নাম হরিচরণ। গৃহশিক্ষক প্রায় ৮-১০ বছর ধরে পড়ায়। হরি এখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। একদিন সকালে গৃহশিক্ষক এসে বললেন,-“হরি! আমি এখনই চলে যাব। তোমার যে বিষয়টি অসুবিধা হচ্ছে সেটি নিয়ে এসো।” হরি জ্যামিতি নিয়ো এলো। মাস্টারমশাই একটি ত্রিকোণ আঁকতে বললেন। হরি ক, খ, গ, একটি ত্রিকোন একে শিক্ষকে দেখাল। শিক্ষক বললেন- “হ্যাঁ।” ক, খ, গ ত্রিভুজটি বেশ ভালই হয়েছে। হরির মা ঘর থেকে লাফিয়ে এসে বলল- কিরে শয়তান, কিরে বদমাস, আমার ছেলেকে তুই একেবারে সর্বনাশ করেছিস। আমি পরের বাড়ীতে ঝিগিরি করে টাকা পয়সা এনে তোকে বাড়ীতে পুষছি। আর তুই আমার ছেলের সর্বনাশ করছিস। ছেলে কিনা আট বছর পরেও ক খ পড়ছে ? তুই লেখাপড়া জানিস না আমায় আগে বলবি তো। তুই আমার সর্বনাম করেছিস।” শিক্ষক বললেন,- শুনুন, আপনার ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। ক খ বাদ দিয়ে লেখপড়া হয়?” মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল- আমি বুঝি না। শয়তান, আমি তোর মায়ের বয়সের লোক। তুই বেশী বুঝিস, না? তুই লেখাপড়া জানিস না। আমায় আগে বলবি তো।” বলতে বলতে মহিলা ঝাঁটা নিয়ে শিক্ষককে মারতে উদ্যত হলে গ্রামের কয়েকজন লোক তাকে বোঝাবার চেষ্টা করল। মহিলা সেসব কথায় কান না দিয়ে শুধুই বলতে থাকে “আমার মাথার চুল পেকেছে, বয়স হয়েছে, আমি বুঝি না। তোরা বুঝিস? আমি এর বিচার চাই, বিচার চাই।’ শিক্ষক ও গ্রামের লোকজন বিধবাকে বুঝাতে না পেরে হার মেনে চলে গেল।
। হিতোপদেশ।
গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বশে মানুষ যখন আবদ্ধ হয়, তখন সে হরি, গুরু বৈষ্ণবের কথা অগ্রাহ্য করে কুসংস্কারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা শুধুই বলে, “আমার বাপ-ঠাকুরদা যা করে গেছেন আমি তাই করছি। আমার বয়স বেশী হয়েছে। ওরা আমাকে কি উপদেশ দেবে।” সেই সমস্ত মানুষেরা গুরু-বৈষ্ণবের কথার সামান্য দামও দেয় না। তাই সে কখনও তত্ত্বজ্ঞান লাভ করতে পারে না। নিজের অহংকারের জন্য সে কোনদিনই শান্তি লাভ করতে পারে না।